হাঁসের ডিম না মুরগির, কোনটা খাওয়া বেশি নিরাপদ? পুষ্টিগুণ, ঝুঁকি এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মিলিয়ে জেনে নিন বিস্তারিত।
.jpeg.webp)
ছবি - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 29 November 2025 21:43
'পেটে খেলে পিঠে সয়,' পুরনো দিনের লোকজনের মুখে এই প্রবাদ প্রায়ই শোনা যায়। যাই খাওয়া হবে তাই না কি উপকার, ভাল থাকবে শরীর। কিন্তু দিন বদলেছে, এখন ভেজাল খেয়ে খেয়ে সকলের শরীরে মোটেও সবকিছু সহ্য হয় না। আগে লোকে বলত, লোহা চিবিয়ে খেয়েছি, কিন্তু এখন! ভাবাই যায় না। মানুষও সচেতন আগের তুলনায়।
ডায়েটে কী থাকবে, কী থাকবে না, সেনিয়ে নানা প্রশ্ন পরিচিত চিকিৎসকদের সবসময় আমরা করে থাকি। চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, তাঁর কাছেও এমন প্রশ্ন আসে। প্রশ্নগুলির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণটি হল 'হাঁসের ডিম খাওয়া উচিত না মুরগির ডিম।' ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিলেই এই কথা প্রথম জানতে চান রোগী বা তার আত্মীয়রা।
আসলে ডিম মানেই পুষ্টিকর খাবার। কিন্তু হাঁসের ডিম নিয়ে নানা মিথ রয়েছে। অনেকেই ভালবেসে প্রচুর খান, অনেকে আবার মনে করেন, হাঁসের ডিম বেশি খেলে শরীর খারাপ করে, ফলে ভালবাসলেও দূরে সরিয়ে রাখেন। কোন বিষয়টি ঠিক, হাঁসের ডিম খাওয়া ভাল না খেলে সত্যিই সমস্যা হয়?
সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডঃ নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে তিনি গোটা বিষয়টির সুস্পষ্ট ধারণা দেন। হাঁসের ডিম না মুরগির ডিম, আপনি কোনটা খেতে পারেন, তাও বলে দেন।
তাঁর মতে, হাঁসের ডিম আকারে বড়। ৩টে হাসের ডিমে ৪টে মুরগির ডিমের সমান পুষ্টি ও সমস্যা থাকে। অনেকেরই মনে হতে পারে, হাঁসের ডিমে প্রোটিন বেশি তাই তা খাওয়া ভাল কিন্তু ডঃ বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, শুধু প্রোটিন নয়, হাসের ডিমে কোলেস্টেরল ও নুনের পরিমাণও অনেক বেশি থাকে। তাই অনেকের শরীরে সমস্যা হলেও হতে পারে।
এই তালিকায় কারা পড়েন?
একদম ডিম খাব না তা তো সম্ভব নয়, হাঁসের ডিম ভালবাসলে খাওয়াই যায়, জানাচ্ছেন চিকিৎসক। কিন্তু যাদের হার্ট অ্যাটাক হয়ে গেছে বা অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি হয়েছে, তারা হাঁসের ডিম খান কিন্তু লিমিটে। অর্থাৎ হাঁসের ডিম খেলে সপ্তাহে একটি বা দুটি। ডায়াবেটিকদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। শুধু ডিমের সাদা অংশ খেলে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
আর এই সব মানুষজনই মুরগির ডিম সপ্তাহে ৩টে পর্যন্ত খেতে পারেন বলে জানালেন চিকিৎসক। ডিমের সাদা অংশ খেলে, রোজই খাওয়া যেতে পারে।
হাঁসের ডিম আর মুরগির ডিমের পার্থক্য
একটা হাঁসের ডিমে ১৩০ কিলোক্যালোরি থাকে, প্রোটিন থাকে ৯.৯ গ্রাম, ফ্যাট প্রায় ১০ গ্রাম ও কার্বোহাইট্রেড ১ গ্রাম। ফাইবার খুব কম থাকে, সুগারও তাই। চিকিৎসকের মতে, হাঁসের ডিমের ভাল দিক হল, প্রোটিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিশেষ করে ভিটামিন ডি, সেলেনিয়াম অনেক বেশি পরিমাণে থাকে। তাই সপ্তাহে একটা করে হাঁসের ডিম খেতেই পারেন, কোনও সমস্যা হবে না।
শেষে উল্লেখ করেন, যাদের কোনও শারীরিক সমস্যা নেই, তারা সপ্তাহে ৫টা পর্যন্ত হাঁসের ডিম খেতে পারেন, মুরগির ডিমের বদলে।