তানজানিয়ার পূর্ব আর্ক পর্বতমালা, চিরসবুজ অরণ্যের ভেতর, কুয়াশায় ঢাকা এক জগৎ। সেখানেই লুকিয়ে ছিল প্রকৃতির এক বিস্ময়।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 13 November 2025 16:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তানজানিয়ার পূর্ব আর্ক পর্বতমালা, চিরসবুজ অরণ্যের ভেতর, কুয়াশায় ঢাকা এক জগৎ। সেখানেই লুকিয়ে ছিল প্রকৃতির এক বিস্ময়। বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন এমন তিনটি ব্যাঙ, যারা ডিম পাড়ে না! বরং মায়ের শরীরেই বেড়ে ওঠে সন্তানেরা, আর জন্ম নেয় পূর্ণাঙ্গ ছোট ব্যাঙ হিসেবে (Scientists Stunned By Discovery Of Frogs That Give Birth To Tiny Frogs)।
এ যেন প্রকৃতির পুরনো নিয়মের নতুন ছক। প্রায় আট হাজার ব্যাঙ প্রজাতির মধ্যে এমন জন্মপদ্ধতি দেখা যায় মাত্র এক শতাংশেরও কম ক্ষেত্রে। আর এবার সেই বিরল আশ্চর্য দেখা মিলল আফ্রিকার পাহাড়ি বনে।
নতুন এই ব্যাঙেরা Nectophrynoides প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। সাধারণ ব্যাঙের মতো জলাশয়ে ডিম পাড়ে না এরা। মায়ের শরীরেই ডিম ফুটে জন্ম নেয় ছোট ব্যাঙছানা। এই অভ্যন্তরীণ জন্মপ্রক্রিয়া জীববিজ্ঞানে অত্যন্ত বিরল।
“সবাই জানে ব্যাঙ মানে ডিম, ট্যাডপোল, তারপর রূপান্তর। কিন্তু প্রকৃতি মাঝেমধ্যে বইয়ের নিয়ম ভেঙে নিজের গল্প লেখে,”— বলছেন ডেনমার্কের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজ়িয়ামের জীববিজ্ঞানী মার্ক ডি. শেরজ।
এই গল্প শুরু হয়েছিল মাঠে নয়, বরং ইতিহাসের তাকঘরে। এক শতাব্দী আগে জার্মান বিজ্ঞানী গুস্তাভ টর্নিয়র নথিবদ্ধ করেছিলেন এমন এক ব্যাঙ, যে নাকি ডিম পাড়ে না, সরাসরি সন্তান জন্ম দেয়। বহু বছর সেটি রয়ে গিয়েছিল রহস্যে ঢাকা।
অবশেষে museomics প্রযুক্তির সাহায্যে পুরোনো সংরক্ষিত নমুনা থেকে ডিএনএ বিশ্লেষণ করেন ইউনিভার্সিটি অব পটসডামের গবেষক অ্যালিস পেটজোল্ড। সেই সূত্রে পাওয়া যায় তিনটি নতুন প্রজাতির হদিস, প্রত্যেকেই আলাদা উচ্চতা, আর্দ্রতা ও বনের আবহে মানিয়ে নিয়েছে নিজেকে।
“মিউজিয়াম আসলে সময়ের টাইম ক্যাপসুল,”, বলেন গবেষক ক্রিশ্চিয়ান থ্রেনে, “যেখানে হারিয়ে যাওয়া জীবেরা নীরবে অপেক্ষা করে, কেউ তাদের আবার চিনবে বলে।”
তবে আবিষ্কারের আনন্দের সঙ্গে উদ্বেগও বাড়ছে বিজ্ঞানীদের। পূর্ব আর্ক পর্বতমালার জঙ্গলকে বলা হয় ‘islands in the sky’—মেঘের দ্বীপ। কিন্তু সেই সবুজ দ্বীপ এখন ফুঁড়ে যাচ্ছে মানুষের কৃষিজমি, কাঠকাটা আর খনির প্রকল্পে।
ফলে অনেক Nectophrynoides প্রজাতিই এখন বিপন্ন। সংরক্ষণবিদ মিশেল মেনেগনের সতর্ক বার্তা, “প্রতি নতুন প্রজাতির আবিষ্কার মানে একটাই—সময় ফুরিয়ে আসছে। যা আমরা আজ খুঁজে পাচ্ছি, হয়তো কাল আর থাকবে না।”
এই তিন ব্যাঙ শুধু নতুন প্রাণ নয়, নতুন আশার প্রতীকও।