নিজেদের সম্পর্ক নিয়েও মুখ খোলেন বৈশাখী। বলেন, “শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বন্ধুত্ব কোনও পরকীয়া নয়। আমরা সমাজের নিয়ম ভেঙে কিছু করিনি। বরং বন্ধুত্বের কারণেই শোভন নিজের পদ হারিয়েছে। কিন্তু ও কারও চাকরি বা টাকায় খেলেনি। পার্থ যা করেছেন—টাকা, গয়না, খেলনা—তা বাংলা কোনও দিন ভুলবে না।”

গ্রাফিক্স দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 13 November 2025 16:35
জেল থেকে বেরিয়েই নিজের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলেছিলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। দ্য ওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নির্দ্বিধায় বলেছিলেন, “আমার বউ নেই, বান্ধবী আছে। হ্যাঁ, অর্পিতা আমার বান্ধবী। তাতে অসুবিধে কোথায়?” এখানেই না থেমে টেনে এনেছিলেন শোভন-বৈশাখীর প্রসঙ্গও। আর এতেই কার্যত আগুনে ঘি পড়ল। বৃহস্পতিবার ক্ষোভে ফেটে পড়লেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। কণ্ঠে ঝাঁঝ, কথায় বিদ্রুপ। যেন প্রতিটি বাক্যই ছুরি চালাচ্ছে পার্থর দিকে! “এই পার্থ চট্টোপাধ্যায় এখন আমার একেবারেই অচেনা,” শুরুতেই সোজাসাপ্টা বৈশাখী। তারপর যোগ করলেন, “মনে হয় উনি নিজেকেও চেনেন না। যে মানুষ নিজের অবয়ব বারবার পাল্টায়, তার সম্পর্কে অভিধানে শব্দ খুঁজে পাওয়া দায়!” এরপর সরাসরি দুর্নীতির প্রসঙ্গে আঙুল তুললেন তিনি। “পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম শুনলেই আমার চোখে ভেসে ওঠে ২৬ হাজার চাকরিহারার মুখ! আর জেল থেকে বেরোনোর পর তো উনি প্রতিহিংসায় বেঁচে আছেন। ভাবছেন, ‘আমি খারাপ থাকলে কেউ ভাল থাকবে কেন?’”
পার্থ নিজের সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ব্যক্তিজীবনকে রাজনীতিতে টানা ঠিক নয়। এদিন সেই মন্তব্যই ফিরিয়ে দিলেন বৈশাখী, “আজ নিজেই বলছেন, ব্যক্তিজীবনকে রাজনীতিতে টানা ঠিক নয়। অথচ শোভন চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবন ধ্বংস করার পিছনে অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ছিলেন এই পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সবাই জানে, ওনার ষড়যন্ত্রেই শোভন দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল।” এরপর যেন একের পর এক ধাক্কা। বিদ্রুপের সুরে বৈশাখী এও বলেন, “যাকে একসময় ভাগ্নী বলতেন, কখনও পরিচিতা, এখন বান্ধবী! সংশোধনাগার থেকে উনি মানুষ হয়ে বেরোতে পারেননি, তবে পুরুষ হয়ে উঠেছেন বটে!” একটু থেমে আরও যোগ করলেন, “আর্কাইভে দেখলে মিলবে, অর্পিতার এলআইসি-র কাগজে উনি নিজের পরিচয় হিসেবে লিখেছিলেন ‘আঙ্কেল’। এখন সেই আঙ্কেলই হয়ে গিয়েছেন বন্ধু! অন্তত সত্যিটা এবার স্বীকার করলেন, সেটাই ভাল।”
নিজেদের সম্পর্ক নিয়েও মুখ খোলেন বৈশাখী। বলেন, “শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বন্ধুত্ব কোনও পরকীয়া নয়। আমরা সমাজের নিয়ম ভেঙে কিছু করিনি। বরং বন্ধুত্বের কারণেই শোভন নিজের পদ হারিয়েছে। কিন্তু ও কারও চাকরি বা টাকায় খেলেনি। পার্থ যা করেছেন—টাকা, গয়না, খেলনা—তা বাংলা কোনও দিন ভুলবে না।”
জেল থেকে বেরিয়ে রাজনীতিতে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন পার্থ। সেই প্রসঙ্গে বৈশাখীর খোঁচা, “যদি শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও ধ্বংস করতে হয়, তাহলে পার্থকে ফের রাজনীতিতে আনুন! তিনি এখন শোভনের সঙ্গে নিজের তুলনা টানছেন—কিন্তু শোভনের পায়ের ধুলোও হওয়ার যোগ্য নন।”সেখানেই থামেননি বৈশাখী। টিপ্পনির সুরে এও বলেন, “স্ত্রী থাকাকালীনই পার্থ চট্টোপাধ্যায় শুরু করেছিলেন ‘ইচ্ছেডানা’, ‘অপা’-র মতো গল্প। তখন তিনি ছিলেন মামা, এখন হলেন বন্ধু! এই বিবর্তন বড়ই মজার।”
আর শেষে যেন ছুড়ে দিলেন সবচেয়ে বড় বোমা, “আমার কাছে ভয়েস ক্লিপ আছে—পার্থ আর ওনার এক বান্ধবীর। সত্যতা যাচাই করিনি, কারণ আমার সে রুচি নেই। মেয়েটি প্রশ্ন করছে, ‘আমি তোমার কে?’—উনি উত্তর দিচ্ছেন, ‘বউ না ফউ’। সে অর্পিতা নয়!”
এর পরেই এক নিঃশ্বাসে শেষ মন্তব্য, “পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী থাকাকালীনই এসব সম্পর্ক ছিল। তাঁর পরিবারও জানত। তাই তো আজ তাঁর জামিনে ছাড়ার সময় মেয়ে নয়, ভাড়া করা লোক গেছে! মেয়ের জামাই রাজসাক্ষী। বাড়ির লোকই বলছে, উনি দুর্নীতিগ্রস্ত। অথচ এখন নিজের দোষ ঢাকতে সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন, অন্যের দিকে আঙুল তুলছেন!”