বহু মধ্যবয়সি ভুলে যাওয়া বা মনোযোগের ঘাটতিকে 'বয়সের স্বাভাবিক নিয়ম' বলে মনে করেন, অথচ সেটিই ডিমেনশিয়ার প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে।

শেষ আপডেট: 1 November 2025 17:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিমেনশিয়া (Dementia) এমন এক মস্তিষ্কজনিত অসুখ, যা ধীরে ধীরে কেড়ে নেয় স্মৃতি, চিন্তা, বিচারক্ষমতা, এমনকী দৈনন্দিন কাজের দক্ষতাও। কিছু বছর আগে পর্যন্তও মনে করা হত, এই রোগ কেবল বয়সের শেষ পর্বেই দেখা দেয়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা পাল্টে দিয়েছে চিকিৎসকদের ধারণা। ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সের মধ্যেই ডিমেনশিয়া (Dementia in younger people) ছাপ ফেলেছে উদ্বেগজনকভাবে, তা নিয়ে রীতিমতো চিন্তার ভাঁজ চিকিৎসক মহলে।
ট্রান্সলেশনাল সাইকিয়াট্রি–তে প্রকাশিত একটি গবেষণা (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫) অনুযায়ী, গত তিন দশকে ৪০–৬৪ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার হার দ্বিগুণ হয়েছে। অর্থাৎ, মধ্যবয়সীরাও আর এই রোগের ঝুঁকির বাইরে নন।
এই প্রেক্ষিতে, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও ডিমেনশিয়া বিশেষজ্ঞ (Clinical Psychologist and Dementia specialist) নেহা সিনহার (যিনি ইপক এল্ডার কেয়ার–এর সিইও ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা) মতে, বহু মধ্যবয়সী মানুষ নিজের ভুলে যাওয়া বা মনোযোগের ঘাটতিকে 'বয়সের স্বাভাবিক নিয়ম' বলে মনে করেন, অথচ ভেবে দেখার বিষয় এটাই যে, সেটিই ডিমেনশিয়ার প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে।
“বয়স বাড়লে স্মৃতিশক্তি কিছুটা ঝাপসা হয়, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু বয়সজনিত ভুলে যাওয়া আর ডিমেনশিয়ার মধ্যে বিশাল পার্থক্য আছে,” বলছেন নেহা সিনহা।
তিনি বলেন, ডিমেনশিয়া শুধু ভুলে যাওয়ার রোগ নয় - এটি মস্তিষ্কের গঠনগত পরিবর্তনের ফল, যা চিন্তা ও বোঝার ক্ষমতাকেও প্রভাবিত করে। যেমন - সাধারণ একজন মানুষ হয়তো মাঝেমধ্যে ভুলে যান চাবি কোথায় রেখেছেন, কিন্তু ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত কেউ ভুলে যেতে পারেন চাবি কী কাজে লাগে বা কীভাবে তা ব্যবহার করতে হয়।
ডিমেনশিয়ার ৬টি প্রাথমিক সতর্কতার লক্ষণ
সাম্প্রতিক তথ্য, গুরুত্বপূর্ণ তারিখ বা প্রশ্ন বারবার ভুলে যাওয়া এবং সেই কারণে দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হওয়া। এমন মানুষরা ধীরে ধীরে পরিবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, যেসব কাজ একসময় একাই করতে পারতেন।
যে কাজগুলো একসময় একদম সহজ ছিল যেমন - রান্নার রেসিপি মেনে চলা, বিল পরিশোধ করা বা পরিচিত জায়গায় যাওয়া - হঠাৎই সেগুলোতে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। এটি মানসিকভাবে ভীতিকর এবং হতাশাজনক হয়ে ওঠে।
দিন, মাস বা জায়গার হিসেব হারিয়ে ফেলা। কখনও কখনও মানুষ বুঝতেই পারেন না কীভাবে বা কেন কোনও স্থানে এসে পড়েছেন। এতে উদ্বেগ, ভয় ও আত্মগোপনের প্রবণতা দেখা দেয়।
কথাবার্তার সময় মাঝপথে থেমে যাওয়া, সঠিক শব্দ মনে না পড়া বা ভুল শব্দ ব্যবহার করা - এই পরিবর্তনগুলি ধীরে ধীরে যোগাযোগের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, একাকিত্ব ও মানসিক চাপ বাড়ায়।
আর্থিক বিষয়ে ভুল সিদ্ধান্ত, হঠাৎ অপ্রয়োজনীয় বড় খরচ, বা প্রতারণার ফাঁদে পড়া - এইসবই কমে যাওয়া বিচারক্ষমতার ইঙ্গিত হতে পারে।
অল্পেই মন খারাপ হওয়া, আগের মতো আগ্রহ না থাকা, বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এড়ানো - এগুলো শুধু ডিপ্রেশন নয়, অনেক সময় ডিমেনশিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে মস্তিষ্কের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই লক্ষণগুলি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে পারলে চিকিৎসা ও যত্নের মাধ্যমে রোগের অগ্রগতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।