গবেষকরা সতর্ক করছেন - চিরস্থায়ী অনিদ্রা স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকিতে এমন এক গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর, যা উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস থাকা অবস্থার সম্মিলিত ঝুঁকির থেকেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 17 September 2025 14:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন এক গবেষণা (new study) বলছে, দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রা (chronic insomnia) ভবিষ্যতে ডিমেনশিয়া (dementia risk) বা স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এই দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রা বলতে যে সময়কাল বোঝানো হয়েছে তা হল তিন মাস বা তার বেশি সময় ধরে সপ্তাহে অন্তত তিন রাত ঘুমের সমস্যা। গবেষণাটি Neurology জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং সেই ফলাফল বেশ উদ্বেগজনক।
২০২৫ সালের Sleep Medicine Reviews অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৬.২% মানুষ অনিদ্রায় ভোগে — অর্থাৎ রাতেই ঘুমোতে বা ঘুম ধরে রাখতে সমস্যা আছে।
Neurology-তে প্রকাশিত ওই গবেষণায় ২,৭৫০ জন প্রবীণ ব্যক্তিকে গড়ে প্রায় ৫.৫ বছর পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। গবেষণার শুরুতে সবাই মানসিকভাবে স্বাভাবিক ছিলেন। গবেষকরা দেখেছেন, যাদের চিরস্থায়ী অনিদ্রা ছিল তাদের মধ্যে পরবর্তীতে ডিমেনশিয়া বা MCI দেখা যাওয়ার ঝুঁকি অনিদ্রাহীনদের তুলনায় প্রায় ৪০% বেশি।
কীভাবে অনিদ্রা মস্তিষ্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে?
গবেষণার বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে, অনিদ্রায় ভোগা ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে অ্যালজাইমার্স রোগের লেবেল, যেমন অ্যামিলয়েড প্ল্যাক এবং মস্তিষ্কের রক্তনালীর ক্ষতির চিহ্ন বেশি ধরা পড়েছে। সহজভাবে বলতে গেলে, খারাপ ঘুম কেবল ক্লান্তি নয়, এটি মস্তিষ্কের শারীরিক পরিবর্তন ঘটাতে পারে। ফলে স্মৃতিশক্তি ও স্নায়বিক স্বাস্থ্য প্রভাবিত হয়।
গবেষকরা গভীরভাবে সতর্ক করছেন যে এই ফলাফল নির্দেশ করে - চিরস্থায়ী অনিদ্রা স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকিতে এমন এক গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর, যা উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস থাকা অবস্থার সম্মিলিত ঝুঁকির থেকেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ঘুমকে অগ্রাধিকার দিন
বহু বয়স্ক মানুষই খারাপ ঘুমকে ‘বৃদ্ধ হওয়ার সঙ্গে যুক্ত একটা স্বাভাবিক ব্যাপার’ ধরে ফেলেন, তার ফলে অনিদ্রাকে আড়াল করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, অনিদ্রা কেবল বয়সের প্রাকৃতিক পরিবর্তন নয় — এটি চিকিৎসা-যোগ্য একটি সমস্যা এবং বারবার উপেক্ষা করলে মস্তিষ্কে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে। ফলে প্রতিটি রুটিন চেক-আপেই রোগীকে তাদের ঘুমের ধরন সম্পর্কে প্রশ্ন করা উচিত।
চিকিৎসা ও আশার কথা
ভাল খবর হল, চিরস্থায়ী অনিদ্রা চিকিৎসা করা যায়। সবচেয়ে কার্যকর ধাঁচের চিকিত্সা হল CBT-I (Cognitive Behavioral Therapy for Insomnia) যা ঘুমের রুটিন, আচরণ ও মনোভাব বদলে দেয়। চিকিৎসকরা মনে করেন, অনিদ্রা শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করলে মস্তিষ্কের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করা যেতে পারে, তা সম্ভবত ডিমেনশিয়া বা অ্যালজাইমার্সের ঝুঁকি কমানো বা সেগুলোকে ধীরগতি করাতেও সহায়তা করবে।
ডাক্তারদের বার্তা ও পরিবারের করণীয়
চিকিৎসক-বিশেষজ্ঞরা উপদেশ দেন, চিরস্থায়ী অনিদ্রা হাই-রিস্ক হিসেবে ভাবতে হবে। ডাক্তারদের রোগীর নিয়মিত চেক-আপে ঘুমের প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করতে হবে; যদি কারও ঘুমের গুরুতর সমস্যার লক্ষণ দেখা দেয়, দ্রুত রেফার করা উচিত CBT-I বা অন্যান্য উপযুক্ত থেরাপিতে। পরিবার ও পরিচারকদেরও নজর রাখতে হবে - রাত জেগে থাকা, বারবার ঘুম থেকে উঠে, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি বা ঘুমের নষ্ট হওয়া - এসব লক্ষণ থাকলে ঘুম-বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।