শুধু পরিবেশবান্ধবই নয়, এই ডিভাইস একটানা ১০ হাজার সেকেন্ডেরও বেশি সময় ধরে তথ্য ধরে রাখতে সক্ষম। আর এটি ১০ লক্ষ বার অন-অফ সাইকলের ক্ষমতা রয়েছে।

বায়োডিগ্রেডেবল মেমোরি ডিভাইস
শেষ আপডেট: 29 June 2025 18:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জলেই মিলিয়ে যাবে মেমোরি ডিভাইস! পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির দুনিয়ায় বড়সড় সাফল্য আনলেন দক্ষিণ কোরিয়ার একদল বিজ্ঞানী। কোরিয়া ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (KIST)-র গবেষকরা তৈরি করেছেন এমন একটি মেমোরি ডিভাইস, যা প্রয়োজনে সহজেই জলে গলে মিশে যায়।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে উন্নত হলেও এই ডিভাইস সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে জৈবভাবে নষ্ট হওয়ায় পরিবেশের উপর কোনও প্রভাব ফেলে না।
গবেষক দল যে নতুন অণুর গঠন ব্যবহার করেছেন, তার নাম PCL-TEMPO। এটি দু’টি উপাদানে গঠিত — একদিকে আছে TEMPO, একটি কার্যকর জৈব অণু যা বৈদ্যুতিক তথ্য সংরক্ষণে সক্ষম, এবং অপরদিকে polycaprolactone (PCL), যা একটি জৈব-বিজ্ঞানসম্মতভাবে অবক্ষয়যোগ্য পলিমার। এই দুই উপাদানে গঠিত মেমোরি ডিভাইস একসঙ্গে তথ্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশে স্বাভাবিকভাবে মিশে যাওয়ায় গবেষণায় আরও পথ খুলে দিয়েছে।
এই অভিনব আবিষ্কার প্রসঙ্গে KIST-এর প্রধান গবেষকদের একজন ড. সাংহো চো বলেন, “এই আবিষ্কার প্রযুক্তিগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই প্রথম একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন অরগ্যানিক মেমোরি ডিভাইসে নিজেই নিজেকে ধ্বংস (self-destruction) করতে পারার বৈশিষ্ট্য যোগ হল।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য এই প্রযুক্তিকে আরও এগিয়ে নিয়ে গিয়ে ‘বুদ্ধিমান ট্রান্সিয়েন্ট ইলেকট্রনিক ডিভাইস’-এ রূপান্তর করা। এতে স্ব-নিরাময় ও আলো-প্রতিক্রিয়াশীল ক্ষমতা যুক্ত করে পরিবেশবান্ধব বায়োইলেকট্রনিকসের বাণিজ্যিকীকরণে নতুন ভাবে ভাবা যেতে পারে।”
শুধু পরিবেশবান্ধবই নয়, এই ডিভাইস একটানা ১০ হাজার সেকেন্ডেরও বেশি সময় ধরে তথ্য ধরে রাখতে সক্ষম। আর এটি ১০ লক্ষ বার অন-অফ সাইকলের ক্ষমতা রয়েছে।
গবেষণাপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই ডিভাইসটি ২৫০ বার তথ্য ভরা ও মুছে দেওয়ার পরেও কোনও ক্ষয় দেখায়নি, এমনকী ৩ হাজার বারের বেশি বাঁকানোর পরেও তার কর্মক্ষমতা বজায় রেখেছে — যা থেকে এটা স্পষ্ট যে এতে একটি অরগ্যানিক বা জৈব ইলেকট্রনিক ডিভাইস হওয়া সত্ত্বেও বিরল সহনশীলতা ও টেকসই হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।
এই মেমোরি ডিভাইস মানবদেহে প্রতিস্থাপনযোগ্য। এর গঠন এমনভাবে তৈরি যে, প্রয়োজনে এটি স্বাভাবিক অবস্থায় স্থায়ী থাকে, আর নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ধীরে ধীরে গলে যায়। বিজ্ঞানীরা এর আকার ও উপাদান নিয়ন্ত্রণ করে নির্ধারণ করতে পারেন কখন গলন প্রক্রিয়া শুরু হবে। একবার বাইরের স্তর গলে গেলে, সম্পূর্ণ উপাদানটি তিন দিনের মধ্যে জলে গলে গিয়ে একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায়, কোনও দূষিত অবশেষ না রেখেই।
প্রসঙ্গত, এই মাসের শুরুতেই জাপানের একদল গবেষকও এমন এক নতুন ধরনের প্লাস্টিকের কথা ঘোষণা করেছেন, যা সমুদ্রের নোনা জলে গলে যায়। এটি জলের দূষণ রোধে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁরা জানান, এই প্লাস্টিক গলে গিয়ে নাইট্রোজেন ও ফসফরাসে ভেঙে যায়, যা জীবাণুদের কাজে লাগে এবং গাছপালা শোষণ করতে পারে। এটি মানবদেহের জন্য বিষাক্ত নয়, আগুন প্রতিরোধী, এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ করে না।