যে খাবারই খান, খেয়াল রাখুন তা যেন প্রক্রিয়াজাত না হয়, তেলে-ঝালে ভাজা না হয়, আর পরিমাণ যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 28 August 2025 18:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডায়াবেটিস রোগীদের কাছে সকালের খাবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সকালের খাবারে কী খাচ্ছেন তার উপর অনেকটা নির্ভর করছে সারা সকাল রক্তে শর্করার ওঠানামা। শুধু হালকা খাবার খেলেই হবে না, সঠিক খাবার বাছাই করাও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের অনেকের কাছেই ‘হেলদি’ ব্রেকফাস্ট মানেই ওটস বা রাগি। কোনটা সত্যিই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বেশি উপকারী?
অর্টেমিস হাসপাতালের ক্লিনিক্যাস নিউট্রিশন ও ডায়েটেটিকস বিভাগের টিম লিডার ডা. অঞ্জুল সিংহ জানাচ্ছেন, দুটোই পুষ্টিগুণে ভরপুর। তবে বেছে নেওয়া উচিত শরীরের প্রয়োজন আর কীভাবে রান্না করা হচ্ছে, তার উপর।
রাগির গুণ
রাগি বা ফিঙ্গার মিলেট বহু শতাব্দী ধরে ভারতীয় রান্নাঘরের পরিচিত। এতে রয়েছে প্রচুর আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ফাইবার। সবচেয়ে বড় গুণ হল এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স খুবই কম। অর্থাৎ রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বাড়তে দেবে না। ডা. সিংহ বলেন, 'রাগির ফাইবার তৃপ্তি দেয়, অকারণ খিদে কমায় এবং হজমশক্তি ভাল রাখে।'
এছাড়া রাগিতে আছে পলিফেনলস নামক উদ্ভিজ্জ উপাদান, যা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে রান্নার ধরন খুব জরুরি। ভাজা রাগির পকোড়া বা তেলেভাজা খাবার নয়, বরং ফারমেন্টেড রাগি দোসা, রাগির পোরিজ বা রাগি মাল্ট, এসব হলে বেশি উপকার পাওয়া যাবে।
ওটসের গুণ
অন্যদিকে, ওটসকে আজ বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ‘হেলদি’ খাবার বলা হয়। এতে রয়েছে প্রচুর সলিউবল ফাইবার বা দ্রবণীয় আঁশ, বিশেষ করে বেটা-গ্লুকান, যা রক্তে শর্করা ধীরে ধীরে শোষিত হতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ায়।
ডা. সিংহের কথায়, 'ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ওটস দারুণ উপকারী। শুধু শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণই নয়, কোলেস্টেরলও কমাতে সাহায্য করে। ফলে হার্টের রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।' ডায়াবেটিস রোগীদের হৃদ্রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ওটস তাদের জন্য দ্বিগুণ সুবিধা দিতে পারে।
তবে তিনি সতর্ক করে দেন ইনস্ট্যান্ট বা ফ্লেভারড ওটস নিয়ে। এতে প্রায়শই লুকিয়ে থাকে চিনি আর প্রিজারভেটিভ। সেক্ষেত্রে রোল্ড বা স্টিল কাট ওটসই সবচেয়ে ভাল। তা দিয়ে বানানো যায় পোরিজ, স্মুদি, এমনকি নোনতা সবজি উপমাও।
কোনটা সেরা?
তাহলে ব্রেকফাস্টে কোনটা বেছে নেবেন? বিশেষজ্ঞের উত্তর, দুটোই। রাগি আপনাকে দেবে ক্যালসিয়াম ও শস্যের গুণ, আর ওটস দেখবে কোলেস্টেরল ও হজমের দিকটা। অর্থাৎ, একদিন রাগি, আরেকদিন ওটস, এই পালাবদলে পাওয়া যাবে সঠিক পুষ্টি।
তবে ডা. সিংহের শেষ পরামর্শ, 'যে খাবারই খান, খেয়াল রাখুন তা যেন প্রক্রিয়াজাত না হয়, তেলে-ঝালে ভাজা না হয়, আর পরিমাণ যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে।'