দড়িতে বাঁধা, দেখতে একটু কুঁচকানো, এই শুকনো ফলটির নাম আঞ্জির। মিষ্টি স্বাদ আর স্বাস্থ্যগুণে ভরপুর এই ফল বহু প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

আঞ্জির
শেষ আপডেট: 27 June 2025 18:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দড়িতে বাঁধা, দেখতে একটু কুঁচকানো, এই শুকনো ফলটির নাম আঞ্জির। মিষ্টি স্বাদ আর স্বাস্থ্যগুণে ভরপুর এই ফল বহু প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে আবার নতুন করে জনপ্রিয় হচ্ছে আঞ্জির দুধ ও আঞ্জির জল—যা খেলে উপকার মিলছে শরীরের নানা দিক থেকে। কিন্তু প্রশ্ন হল, দুধে ভিজিয়ে খাবেন, না জলে?
আঞ্জির দুধ: ঘুম থেকে হাড়, সবকিছুর যত্নে
আঞ্জির দুধ তৈরির জন্য কয়েকটি শুকনো আঞ্জির ৪–৫ ঘণ্টা দুধে ভিজিয়ে রাখতে হয়। পরে সেটিকে পেস্ট করে ফুটন্ত গরম দুধে মিশিয়ে পান করতে পারেন। চাইলে সামান্য কেশরও যোগ করতে পারেন। এই পানীয়টি বিশেষত রাতে খাওয়ার জন্য উপযুক্ত।
এই দুধে থাকে ভিটামিন এ, সি, কে, কপার, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, জিঙ্ক ও আয়রন—যা হাড় মজবুত করে, রক্তসঞ্চালন ঠিক রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এতে রয়েছে ট্রিপটোফ্যান নামের অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা সেরোটোনিন তৈরি করে ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন বাড়ায়—ফলে ঘুম ভাল হয়। ক্যালোরি কম, ফাইবার বেশি থাকায় ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং হজমে সাহায্য করে।
আঞ্জির জল: সকালে খালি পেটে খান
আঞ্জির জল তৈরি করা খুব সহজ। রাতে শুকনো আঞ্জির জলভর্তি পাত্রে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই জল খালি পেটে পান করলে শরীর পায় একগুচ্ছ উপকার। এটি একটি প্রাকৃতিক ডিটক্স পানীয়, যা হজমের সমস্যা কমায়, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং অন্ত্র পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
আঞ্জির জলে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে, ওজন কমাতে সহায়ক, এবং টাইপ–২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও উপকারী। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এতে থাকা ফাইবার ও মিনারেল শরীরের বিপাক ক্রিয়া বাড়ায় এবং শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
তাহলে কোনটা খাবেন—আঞ্জির দুধ না জল?
যদি ভাল ঘুম, হাড় ও মস্তিষ্কের যত্ন চান এবং রাতের খাবারের পর হালকা কিছু খেতে চান, তবে আঞ্জির দুধ উপযুক্ত। আর যদি হজম, পেট পরিষ্কার ও ওজন কমানো প্রধান লক্ষ্য হয়, তবে দিন শুরু করুন আঞ্জির জল দিয়ে। দু'টোই প্রাকৃতিক উপায়ে শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।