বর্ষায় খাদ্যতালিকা নিয়ে খুব সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। কোনও কিছু কাঁচা খাওয়ার আগে কয়েক বার জল দিয়ে ধুয়ে নিন। সম্ভব হলে সিদ্ধ করে খান।

ছবিটি প্রতীকী
শেষ আপডেট: 26 June 2025 11:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্ষা আসতে আর দেরি নেই। তীব্র গরমের হাত থেকে স্বস্তি মিলবে, ঠিকই। কিন্তু সেই সঙ্গে বাড়বে কিছু রোগের ঝুঁকি। গরমকালে যেমন নানা অসুখ দেখা দেয়, তেমনই বর্ষাকালেও জলবাহিত রোগ ও ফুড পয়জনিংয়ের আশঙ্কা বেড়ে যায়। এই সময়ে একটু অসাবধানতা মানেই পেটের সমস্যা। বিশেষ করে খাবারে গাফিলতি বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই এখন থেকেই সাবধান হোন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু নির্দিষ্ট সবজি এই সময়ে না খাওয়াই ভাল।
সবুজ পাতা জাতীয় সবজি এড়িয়ে চলুন
এক বেসরকারি সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্ষাকালে পালং শাক, বাঁধাকপি, লেটুস ও অন্যান্য পাতা জাতীয় সবজি এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। এই ধরনের সবজিতে বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় হয়, তাই এতে ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও নানা ধরনের জীবাণু জন্মায়, যা খেলে পেট খারাপ, বমি ও ডায়ারিয়া হতে পারে।
ক্রুসিফেরাস সবজিও বিপজ্জনক
বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকোলি বা ব্রাসেলস স্প্রাউট, এদের পুষ্টিগুণ অনেক। কিন্তু বর্ষায় এগুলো খাওয়া উচিত নয় বলেই মত চিকিৎসকদের। বেশি আর্দ্রতার কারণে এগুলোর গায়ে সহজেই জীবাণু জন্মায়। অনেক সময় ভালভাবে ধোয়া না হলে সেই জীবাণুই শরীরে ঢুকে পড়ে। ফলে হজমে সমস্যা দেখা দেয়।
মাটি থেকে ওঠা সবজিতে বেশি সতর্কতা জরুরি
গাজর, বিট, মুলো, শালগম- এই ধরনের মূল জাতীয় সবজি বর্ষায় সহজেই পচে যায়। জমির অতিরিক্ত জল এদের মধ্যে ঢুকে পড়ে, ফলে তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। খেতেই হলে ভাল করে ধুয়ে রান্না করে খাওয়া উচিত। কাঁচা খাওয়ার ঝুঁকি নেওয়া ঠিক নয়।
বর্ষায় মাশরুম নয়, বেগুনও থাক তালিকা থেকে বাদ
মাশরুম খেতে ভালবাসেন অনেকেই। কিন্তু এই সময়ে পারলে এড়িয়ে চলুন। সাধারণত বাজারে বিক্রি হওয়া মাশরুম পুরনো হয়, তার মধ্যে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া সহজেই জন্মায়। যাঁদের হজমশক্তি দুর্বল বা যাঁরা অসুস্থ, তাঁদের জন্য মাশরুম আরও বিপজ্জনক। একই কারণে বর্ষাকালে বেগুন খাওয়াও এড়িয়ে যাওয়া উচিত।
সাবধান থাকুন ও সুস্থ থাকুন
বর্ষায় খাদ্যতালিকা নিয়ে খুব সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। কোনও কিছু কাঁচা খাওয়ার আগে কয়েক বার জল দিয়ে ধুয়ে নিন। সম্ভব হলে সিদ্ধ করে খান। বর্ষাকাল পেটের সমস্যা ভোগাতে পারে, তাই প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।