অনেকের মাথায় সর্দি জমে যায়, হালকা জ্বর, মাথা ব্যথা, চোখ ভার লাগা বা শরীরে ম্যাজম্যাজে ভাব হয়ে থাকে। বিশেষ করে যাদের সাইনাস বা মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য বর্ষাকাল হয়ে ওঠে আরও কষ্টের।

ছবি- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 7 February 2026 14:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্ষাকাল এলেই সর্দি-কাশি যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় এই সময়ে ভাইরাল সংক্রমণ এবং অ্যালার্জির প্রকোপ বাড়ে। অনেকের মাথায় সর্দি জমে যায়, হালকা জ্বর, মাথা ব্যথা, চোখ ভার লাগা বা শরীরে ম্যাজম্যাজে ভাব হয়ে থাকে। বিশেষ করে যাদের সাইনাস বা মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য বর্ষাকাল হয়ে ওঠে আরও কষ্টের।
প্রচুর মানুষ এই সময়ে এমন হলেই ওষুধ খেয়ে নেন। অনেক সময় তাতেও দীর্ঘমেয়াদি ফল পাওয়া যায় না। এমন হলে, চিন্তার কিছু নেই। চিকিৎসকদের মতে, কয়েকটি ঘরোয়া উপায় মেনে চললেই এই সমস্যার হাত থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।
কলকাতার বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. অনির্বাণ মুখোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, 'বর্ষায় সর্দি-কাশি এবং মাথাব্যথা খুব সাধারণ একটি সমস্যা। অনেকে ভাবেন এটা ঠান্ডা লেগে হয়েছে, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটা ভাইরাল বা অ্যালার্জির কারণে হয়। ঘরোয়া উপায়ে নিয়ম মেনে চললে ওষুধ ছাড়াও অনেকটাই আরাম পাওয়া যায়।'
কী কী ঘরোয়া উপায় মেনে চলবেন?
১. গরম জলে ভাপ নিন নিয়ম করে
প্রতিদিন সকালে ও রাতে গরম জলের ভাপ নেওয়ার অভ্যাস করুন এই সময়ে। এতে নাক-কান-গলায় জমে থাকা কফ তরল হয়ে যায় ও বেরিয়ে যায়। তাতে মাথা হালকা লাগে। চাইলে জলে ইউক্যালিপটাস অয়েল বা পুদিনা পাতাও দিতে পারেন।
২. আদা-তুলসির চা খেতে পারেন
আদা, তুলসি পাতা, গোলমরিচ ও মধু দিয়ে তৈরি করা হালকা চা প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে খেলে সর্দি ও মাথাব্যথা অনেকটাই কমে যায়। এটি অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি।
৩. ঘর গরম রাখুন, ভেজা জামাকাপড় এড়িয়ে চলুন
বর্ষাকালে জামাকাপড় ভিজে গেলে তা পরেই বসে থাকা উচিত নয়। ঠান্ডা লাগলে কফ আরও জমে যায়, ফলে মাথাব্যথাও বাড়ে। চেষ্টা করুন সবসময় শুকনো জামাকাপড় পরার। আর ঘরেও ভেজা জামা কাপড় মেলবেন না।
৪. খালি পেটে ঠান্ডা জল বা ঠান্ডা খাবার খাবেন না
বর্ষায় পেট খালি থাকা অবস্থায় ঠান্ডা কিছু খেলে বা ঠান্ডা জল খেলে তা শরীরে সর্দির জমে যাওয়ায় প্রবণতা বাড়ায়। ভোরবেলা বা রাতে ঠান্ডা কিছু খাবার এড়িয়ে চলুন।
৫. নাক বন্ধ থাকলে সল্ট ওয়াটার নেজাল ওয়াশ ব্যবহার করুন
নাক বন্ধ হয়ে গেলে সল্ট ওয়াটার নাক ধোয়ার সলিউশন ওষুধের দোকানে পাওয়া যায়। দিনে দু'বার ব্যবহার করলে অনেকটাই স্বস্তি মিলবে।
ডা. মুখোপাধ্যায় বলছেন, 'যদি সর্দি-কাশি পাঁচ দিনেও না কমে, শরীরে ব্যথা বা জ্বর বাড়ে, কানে চাপ অনুভব করেন কিংবা ঘন হলুদ কফ বেরোয়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।'
বর্ষাকালে কিছুটা সচেতনতা ও ঘরোয়া যত্নেই এই অস্বস্তিকর সমস্যা থেকে অনেকাংশে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।