রিপ্রোডাক্টিভ টেকনোলজি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ঠিকই, তবে প্রকৃতির নিজস্ব উপহারগুলোও হয়ে উঠতে পারে কোনও দম্পতির পিতৃত্ব-মাতৃত্বের যাত্রার এক শক্ত ভিত।

পরামর্শ দিচ্ছেন ড. বাণী কুমার মিত্র, আভা সার্জি সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ কনসালটেন্ট
শেষ আপডেট: 28 June 2025 13:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্যস্ততার এই জীবনে দম্পতিদের মধ্যে সন্তান ধারণে সমস্যার হার বেড়েই চলেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই চাকরি করেন, শরীরের দিকে খেয়াল রাখার কথা অনেকক্ষেত্রেই একটা বিশাল বড় চ্যালেঞ্জ। স্ট্রেস তো রয়েছেই, পাশাপাশি খাওয়াদাওয়ার ওপরেও তেমন নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে সঙ্গী হয় নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা।
আভা সার্জি সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ কনসালটেন্ট ড. বাণী কুমার মিত্র বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন সঠিক খাদ্যাভ্যাসের উপরে, বিশেষত যেসব খাবার ফার্টিলিটিতে সুপ্রভাব ফেলতে সক্ষম। তবে, আশার খবর এই যে, সম্প্রতি সার্বিক সুস্থতার দিকে মানুষের আগ্রহ যেমন বেড়েছে, তেমনই আলোচনায় উঠে এসেছে সুপারফুড। অর্থাৎ প্রাকৃতিকভাবে পুষ্টিগুণে ভরপুর এমন কিছু খাবার, যেগুলো শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া, বিশেষত ফার্টিলিটিতে সাহায্য করে।
মহিলাদের ফার্টিলিটির জন্য কোন খাবার, কীভাবে কাজ করে?
স্বাভাবিক ওভ্যুলেশন এবং হরমোনের সঠিক ভারসাম্য, হবু মায়েদের ফার্টিলিটির মূল চাবিকাঠি। এই ক্ষেত্রে যে খাবারগুলির গুণাগুণ প্রমাণিত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে পালংশাক, অ্যাভোকাডো ও নানা ধরনের বেরি। এই ফলমূল ও শাকসবজিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে ফোলিক অ্যাসিড, যা কোশ বিভাজন ও ডিম্বাণু (ovum) গঠনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি।
এছাড়া বাদাম ও নানা ধরনের সিড, বিশেষত ফ্ল্যাক্সসিড ও আখরোটে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা হরমোন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ইউটেরাসে রক্তসঞ্চালন বাড়ায়। ব্লুবেরি, বেদানার মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার ডিম্বাণুর গুণগত মান বজায় রাখে।
পুরুষদের ক্ষেত্রে কোন কোন জিনিস মাথায় রাখা দরকার?
শুধু মায়ের জন্য নয়, হবু বাবার ওপরেও সন্তান ধারণের অনেকটাই নির্ভর করে। পুরুষের ফার্টিলিটির ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রয়েছে ডায়েটের। স্পার্মের প্রোডাকশন এবং টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ঠিক রাখতে খাবারে জিঙ্কের সঠিক পরিমাণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ — যা পাওয়া যায় কুমড়োর বীজ ও নানারকম ডালে।
বাদামে রয়েছে সেলেনিয়াম, যা স্পার্মের গতি বাড়াতে সাহায্য করে। কমলালেবু, আমন্ডে পাওয়া যায় ভিটামিন সি ও ই, যা শুক্রাণুর ডিএনএ সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। আবার, টম্যাটোতে থাকা লাইকোপিন শুক্রাণুর গঠন ঠিক রাখে ও সংখ্যা বাড়াতে কার্যকর।
যেসব অভ্যাস একদমই বাদ দিতে হবে-
যাঁরা সন্তান নিতে চাইছেন, তাঁদের উচিত এমন খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা যেখানে থাকবে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার। বাদ দিতে হবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন, ট্রান্স ফ্যাট ও প্রসেসড চিনি, কারণ এই সবই হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং ফার্টিলিটিতে প্রভাব ফেলে।
শুধুই খাবার নয়, চাই জীবনধারার পরিবর্তন-
তবে শুধুমাত্র সুপারফুড খেলেই পুরো সমাধান মিলবে না। সঠিক খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা, মানসিক চাপ কমানো এবং প্রয়োজনে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া—এই সব মিলিয়েই ফার্টিলিটি বাড়ানো সম্ভব।
যখন অ্যাসিস্টেড রিপ্রোডাক্টিভ টেকনোলজি (ART) দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, তখন প্রকৃতির নিজস্ব উপহারগুলোও হয়ে উঠতে পারে কোনও দম্পতির পিতৃত্ব-মাতৃত্বের যাত্রার এক শক্ত ভিত।