চেন্নাইয়ে একগুচ্ছ কাকের রহস্যমৃত্যুতে বার্ড ফ্লু (Bird Flu) আতঙ্ক বাড়ছে। সাধারণ মানুষের ঝুঁকি কতটা, তা নিয়ে সতর্ক রয়েছে স্বাস্থ্যদফতর।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 6 February 2026 17:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চেন্নাইয়ে (Chennai) এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় দেড় হাজার কাকের হঠাৎ মৃত্যু নতুন করে আলোচনায় এনে দিল বার্ড ফ্লু। পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে—এটি হাইলি প্যাথোজেনিক এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লুই (H5N1)। ঘটনাটি শুধু তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu) মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, বিশ্বজুড়ে যে হারে এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে ও রূপ বদলাচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতে মানবস্বাস্থ্যের জন্য বড় বিপদের ইঙ্গিত লুকিয়ে আছে।
এই ভাইরাস মূলত পাখিদের সংক্রমিত করলেও, প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ঢোকার ক্ষমতা রয়েছে, তা বহু আগেই প্রমাণিত। আর সেই কারণেই প্রতিটি নতুন আউটব্রেককে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
H5N1 কেন এত ভয়ংকর?
বার্ড ফ্লু সাধারণ ফ্লু নয়। বিশেষ করে H5N1 স্ট্রেনটি অত্যন্ত মারাত্মক। পাখিদের মধ্যে এই ভাইরাস দ্রুত ছড়ায় এবং ব্যাপক মৃত্যুর কারণ হয়। কিন্তু সমস্যা সেখানে শেষ নয়। এই ভাইরাস প্রজাতি বদলে সংক্রমণ ঘটাতে পারে—পোলট্রি, গবাদি পশু হয়ে মানুষের শরীরেও ঢুকতে পারে।
ভারতে গত কয়েক বছরে ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরল, তেলঙ্গানা ও তামিলনাড়ু-সহ একাধিক রাজ্যে পোলট্রিতে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। একই সঙ্গে আফ্রিকা, ইউরোপ ও আমেরিকায় বন্যপ্রাণের মধ্যেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মানে, H5N1 আর বিচ্ছিন্ন কোনও রোগ নয়—এটি এখন বিশ্বজুড়ে সক্রিয় এক ভাইরাল হুমকি।
মানুষের মধ্যে সংক্রমণ: পরিসংখ্যান কী বলছে?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (World Health Organization) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৫টি দেশে মোট ৯৯৩ জন মানুষ বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৪৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ, মৃত্যুহার প্রায় ৪৮ শতাংশ—যা যে কোনও সাধারণ ফ্লু ভাইরাসের তুলনায় অনেক বেশি।
স্বস্তির কথা, এখনও পর্যন্ত স্থায়ী মানব-থেকে-মানুষ সংক্রমণ প্রমাণিত হয়নি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আক্রান্তরা সংক্রমিত পাখি বা পশুর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এসেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু সংক্রমণের ঘটনাও সামনে এসেছে, যেখানে আক্রান্তদের সরাসরি পোলট্রি বা বন্যপ্রাণের সংস্পর্শে থাকার ইতিহাস স্পষ্ট নয়। এই জায়গাটাই বিশেষজ্ঞদের সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে।
উপসর্গ ও সতর্কতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশু থেকে মানুষের শরীরে ঢোকা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের উপসর্গ খুব হালকা থেকেও শুরু হতে পারে—জ্বর, চোখে জ্বালা বা সর্দি-কাশির মতো। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত পরিস্থিতি খারাপ হয়। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ–ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজির (ICMR-NIV) এক বিজ্ঞানীর কথায়, উচ্চ জ্বর, তীব্র কাশি, গলা ব্যথা, শরীর ব্যথা ও ক্লান্তির পর হঠাৎ নিউমোনিয়া দেখা দিতে পারে।
এই ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড সাধারণত ৮–১০ দিন। সমস্যা হল, কিছু সংক্রমণ একেবারেই উপসর্গহীন, ফলে নজর এড়িয়ে যায়। তাই সতর্ক থাকা প্রয়োজন।