প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কাক বা অন্য কোনও পাখির মৃতদেহ পাওয়া গেলে তা নির্দিষ্ট জৈব সুরক্ষা বিধি মেনে হয় পুড়িয়ে ফেলতে হবে, নয়তো গভীর গর্তে মাটিচাপা দিতে হবে। কোনও অবস্থাতেই সাধারণ মানুষকে মৃত পাখি স্পর্শ করতে বা সরাতে বারণ করা হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 6 February 2026 11:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিপা ভাইরাস (Nipah Virus) আতঙ্কের মধ্যে এবার ফিরল ‘বার্ড ফ্লু’-র (H5N1 Bird Flu Virus) আশঙ্কা। চেন্নাই (Chennai Bird Flu) জুড়ে হঠাৎ করে শতাধিক কাকের (Crows Dead) মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভয় আরও বেড়েছে কারণ পরীক্ষার পর গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন, এই মৃত্যুর নেপথ্যে রয়েছে H5N1 ভাইরাস - যা সাধারণভাবে ‘বার্ড ফ্লু’ নামে পরিচিত।
স্বাভাবিকভাবে এই ঘটনায় সতর্কতা অবস্থান করছে স্বাস্থ্য ও পশুপালন দফতর। সাধারণ মানুষের উদ্দেশে ইতিমধ্যেই একাধিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সূত্রের খবর, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মৃত কাকগুলির নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে ল্যাবরেটরি রিপোর্টে H5N1 ভাইরাসের (Bird Flu Virus) উপস্থিতি ধরা পড়ে। এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাই দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কাক বা অন্য কোনও পাখির মৃতদেহ পাওয়া গেলে তা নির্দিষ্ট জৈব সুরক্ষা বিধি মেনে হয় পুড়িয়ে ফেলতে হবে, নয়তো গভীর গর্তে মাটিচাপা দিতে হবে। কোনও অবস্থাতেই সাধারণ মানুষকে মৃত পাখি স্পর্শ করতে বা সরাতে বারণ করা হয়েছে। কোথাও মৃত পাখি চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পুরসভা বা প্রশাসনকে খবর দিতে বলা হয়েছে।
এই ঘটনার পর কেন্দ্রীয় পশুপালন মন্ত্রকও তৎপর হয়েছে। মন্ত্রকের পক্ষ থেকে তামিলনাড়ুর মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়ে দ্রুত এবং বিস্তৃত নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শহর ও তার আশপাশের এলাকায় পাখির অস্বাভাবিক মৃত্যু হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
H5N1 কী?
H5N1 হল ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাসের একটি অত্যন্ত সংক্রামক রূপ, যা মূলত পোলট্রি ও বন্য পাখিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে পাখিদের মধ্যে দ্রুত সংক্রমণ ছড়ায় এবং মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি হয়। সেই কারণেই বিশ্বজুড়ে এই ভাইরাসকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।
যদিও বিরল ক্ষেত্রে মানুষের শরীরেও সংক্রমণ ঘটতে পারে। সাধারণত আক্রান্ত পাখির খুব কাছাকাছি এলে বা দূষিত পরিবেশের সংস্পর্শে এলে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়।
কতটা বিপজ্জনক এই ভাইরাস?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ মানুষের জন্য আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন না থাকলেও পরিস্থিতিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। পাখিদের ক্ষেত্রে H5N1 দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়। মানুষের ক্ষেত্রে সংক্রমণ খুবই বিরল হলেও, একবার আক্রান্ত হলে তা গুরুতর আকার নিতে পারে। অতীতে দেখা গিয়েছে, H5N1 সংক্রমিত বহু মানুষের মধ্যে নিউমোনিয়ার মতো গুরুতর শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং মৃত্যুহারও সাধারণ ফ্লুর তুলনায় অনেক বেশি ছিল।
এই কারণেই প্রশাসনের তরফে কড়া নজরদারি এবং কঠোর সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে, যাতে সংক্রমণ কোনওভাবেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়।