দীপাবলির আনন্দে মিষ্টি আর তেলেভাজা খাওয়া তো হবেই! তবে কীভাবে খেয়েও ওজন বাড়বে না আর থাকবেন একদম ফিট, জেনে নিন টিপস।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 19 October 2025 12:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীপাবলির আলো, রঙিন বাতি আর পেটভরা মিষ্টি, উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছে গোটা দেশ। কিন্তু এই আনন্দের মাঝেও চিকিৎসকেরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, উৎসব মানেই যেন নিয়ন্ত্রণ হারানো না হয়। মুম্বইয়ের নারায়ণা হেলথ, এসআরসিসি চিলড্রেনস হাসপাতালের ডেপুটি ম্যানেজার (ক্লিনিকাল নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটেটিক্স) দিব্যা আচরেকর বললেন, 'উৎসবে খাওয়া-দাওয়া হবেই, কিন্তু সচেতনভাবে আনন্দ করাটাই আসল। তাহলেই এড়ানো যাবে গ্যাস, অম্বল, কিংবা হঠাৎ চিনি ওঠানামার সমস্যা।'
মিষ্টি খান, কিন্তু মেপে
দীপাবলি মানেই লাড্ডু, বরফি, গুলাব জামুন, সবই ঘি, চিনি আর ময়দায় ভরা। এসব খাওয়া আনন্দ দেয় ঠিকই, কিন্তু রক্তে হঠাৎ শর্করার ওঠানামা করে দেয় শরীরকে ক্লান্ত ও বিরক্তিকর। আচরেকর জানালেন, মিষ্টির সঙ্গে দুধ, দই বা বাদাম রাখলে শরীরে শক্তি বজায় থাকে এবং চিনির শোষণ ধীরে হয়।
তাঁর পরামর্শ, 'মিষ্টি একেবারে বাদ দিতে হবে না। শুধু পরিমাণ কমান। ছোট ছোট টুকরোয় পরিবেশন করুন, তাহলেই সবাই অপরাধবোধ ছাড়াই উপভোগ করতে পারবেন।'
চিনির বদলে গুড় বা খেজুরের রস, আর খোয়ার বদলে লো-ফ্যাট দুধ ব্যবহার করলে স্বাদও বজায় থাকবে, শরীরও থাকবে হালকা।
তেলেভাজা খেতে ইচ্ছে করছে? খান, কিন্তু বুঝে!
নিমকি, লুচি না হলে বাঙালি ঘরে উৎসব হয়! অতিরিক্ত তেল, নুন ও রিফাইন্ড অয়েল উপকরণে তৈরি এই খাবার হজমে সমস্যা করে। আচরেকরের পরামর্শ, এগুলো ঘরে বানালে তেলের মান নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বেক বা এয়ার-ফ্রাই করে নিলে তেলও কম লাগে, আবার স্বাদও বজায় থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওটস বা মিলেট দিয়ে বানানো স্ন্যাকস পেট ভরায় বেশি সময় ধরে এবং অজান্তেই অতিরিক্ত খাওয়া কমিয়ে দেয়।
মন দিয়ে খান, তাড়াহুড়ো নয়
উৎসবের সময় সারাক্ষণ খাবার সামনে থাকে, ফলে না বুঝেই অনেক সময় বেশি খাওয়া হয়ে যায়। দিব্যা আচরেকর বলেন, 'আপনি কী খান, সেটার মতোই গুরুত্বপূর্ণ আপনি কীভাবে খান। নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়া, ধীরে ধীরে খাওয়া এবং প্রতিটি খাবার উপভোগ করা, এই অভ্যাস শরীরের জন্য অত্যন্ত ভাল।' তাই তিনি এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অভিভাবকেরা যদি এই অভ্যাস মেনে চলেন, শিশুরাও ধীরে ধীরে সচেতন খাওয়ায় অভ্যস্ত হবে।
জল খেতে ভুলবেন না
আতশবাজি, অতিথি আর রান্নার ভিড়ে জল খাওয়াটা অনেক সময় ভুলে যাই। কিন্তু তা চলবে না, ডিহাইড্রেশন হলেই পেট মোচর দেবে, অস্বস্তি হবে, ফলে জল খেতেই হবে। কারও শুধু জল খেতে ইচ্ছে না করলে দই মিশিয়ে খান। ডাবের জল বা সরবত বানিয়েও খেতে পারেন। এছাড়া ফল, সালাদ ও মিলেট রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদ।
রেসিপিতে ছোট্ট বদলেই বড় লাভ
চিনির বদলে গুড়, ডিপ ফ্রাইয়ের বদলে বেকিং, আর উপরে বাদাম-চিয়া সিডস, এই সামান্য পরিবর্তনেই উৎসবের খাবার হতে পারে স্বাস্থ্যকর। মাথায় রাখতে হবে, উৎসব মানে শরীর অসুস্থ করে ফেলা নয়, সুস্থ ও ভাল থেকে আনন্দ উপভোগ করা।