মাঝেমধ্যে হালকা পেট খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু যদি এই সমস্যা বারবার ফিরে আসে, তা হলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি - কারণ তখন তা শুধুই বদহজম নয়।

শেষ আপডেট: 22 February 2026 18:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঝালঝাল কিছু বা ভারী খাবার খাওয়ার পরই পেটে অস্বস্তিভাব লেগেই রয়েছে (gut health problems) - অনেকেই এটাকে 'ও কিছু নয়' ভেবে সাধারণত এড়িয়ে যান। পেট ফাঁপা, অস্বস্তি, হঠাৎ বারবার টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন - এস লক্ষণকে আমরা সহজেই ‘সেনসিটিভ স্টমাক’ (Sensitive Stomach) বলে মেনে নিই।
কিন্তু বিষয়টা কি সত্যিই এতটাই সাধারণ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবসময় বিষয়টি এত স্বাভাবিক ভেবে নেওয়া উচিত নয়। বারবার পেট খারাপ বা অস্বস্তি আসলে শরীরের ভেতরের বড় সমস্যারও ইঙ্গিত হতে পারে (digestive issues warning signs)।
এই বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে ভুবনেশ্বরের মণিপাল হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট জ্ঞানরঞ্জন রাউত বলেন, অনেকেই পেটের অস্বস্তি বা খাওয়ার পরই টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন হলে তাকে ‘সেনসিটিভ স্টমাক’ ভেবে থাকেন। কিন্তু যদি এই সমস্যা ঘনঘন হয়, তা হলে সেটাকে কখনওই স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
তাঁর সতর্কবার্তা, দীর্ঘদিন এই উপসর্গ চলতে থাকলে তা ক্রনিক বা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় পরিণত হতে পারে, যদি সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়া হয়।
‘সেনসিটিভ স্টমাক’ আসলে কী? কতটা গুরুতর?
সংবেদনশীলতার লক্ষণ এক এক জনের ক্ষেত্রে এক এক রকম হতে পারে। তবে সাধারণ কিছু উপসর্গ হল -
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝেমধ্যে হালকা পেট খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু যদি এই সমস্যা বারবার ফিরে আসে, তা হলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি - কারণ তখন তা শুধুই বদহজম নয়।
কখন এটি রোগের লক্ষণ, কীভাবে বুঝবেন?
‘সেনসিটিভ স্টমাক’ শব্দটি শুনতে হালকা মনে হলেও, এর আড়ালে গুরুতর রোগও লুকিয়ে থাকতে পারে।
ডা. রাউতের মতে, বারবার একই উপসর্গ দেখা দিলে তা ইঙ্গিত করতে পারে -
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “যদি কেউ দুধ খেলেই অসুস্থ হয়ে পড়েন, তা হলে সেটা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্সের লক্ষণ হতে পারে। আবার বারবার বুক জ্বালা হলে সেটি শুধুই ঝাল খাবারের জন্য নয়, অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা হতে পারে।”
স্ট্রেস ও লাইফস্টাইলের প্রভাব
শুধু খাবার নয়, আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনও হজমের উপর বড় প্রভাব ফেলে। স্ট্রেস বা মানসিক চাপ থাকলে এই সমস্যাগুলি আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি—
এই সব কারণ পেটের সমস্যাকে আরও ঘন ঘন ও তীব্র করে তুলতে পারে।
কোন লক্ষণগুলি একেবারেই এড়াবেন না?
কিছু উপসর্গ আছে, যেগুলি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি -
কী করবেন?
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝুন। কোন খাবার খেলে সমস্যা বাড়ছে, তা লক্ষ্য করুন। সেই অনুযায়ী ডায়েট ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনাই প্রথম পদক্ষেপ।