পেটের উপরের দিকে, না কি তলপেটে ব্যথা? ব্যথার জায়গা দেখে অনেক সময় রোগ চেনা যায়। জানুন কোন অংশের পেটব্যথা কোন সমস্যার ইঙ্গিত দেয় এবং কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরি।

শেষ আপডেট: 4 February 2026 11:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পেট ব্যথা (Abdominal Pain) হলে বেশিরভাগ সময়ই আমরা ভাবি ওটা গ্যাস–অম্বলের ব্যথা। ওভার দ্য কাউন্টার কোনও ব্যথার ওষুধ বা অ্যান্টাসিড খেয়ে নিই। তবে পেট ব্যথা যে সব সময় গ্যাস বা অম্বলের কারণে হয় তা কিন্তু নয়। অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ জনিত ব্যথাও (Stomach Pain) হতে পারে, চিকিৎসা পরিভাষায় যা পরিচিত প্যানক্রিয়াটাইটিস নামে।
তবে ব্যথার আরও অনেক কারণ আছে। কোথায় ব্য়থা হচ্ছে সেটাই লক্ষণ। অনেক সময়েই আমরা এই লক্ষণ বুঝতে পারি না। ব্য়থা বলেই গ্যাস-অম্বল বা বমির ওষুধ খেয়ে নিই, তাতে ফল হয় উল্টো।
বাড়ির বড়রা বলেন পেট ব্য়থা হলে প্রচুর জল খেতে। তাতে পেটের সব বিষাক্ত পদার্থ বেরিয়ে যায় বটে কিন্তু ব্যথা তেমনভাবে কমে না। পেটের ব্যথা যদি ক্রনিক হয়ে যায়, তাহলে ব্যথার জায়গা দেখে লক্ষণ বুঝে ওষুধ খেতে হবে।
কোন ব্যথা (Abdominal Pain) কী রোগের লক্ষণ?
পেটের উপর মাঝখানে খুব ব্যথা? তাহলে এপিগ্যাসট্রিয়ামের ব্য়থা হতে পারে। এই ব্যথা পেটের উপরে মাঝখান দিয়ে শুরু হয়। কখনও একটানা চিনচিনে ব্য়থা হয়, আবার কখনও জ্বালাপোড়া ব্যথা হতে থাকে। সেই সঙ্গে চোঁয়া ঢেঁকুর ওঠে, বমিভাব থাকে। খাবার পরে ব্যথা ও বমিভাব বাড়ে। অনেক সময়ে খুব ঘাম হতে পারে।
ব্য়থা (Abdominal Pain) যদি পিঠের সামনে থেকে পেছনের দিকে ছড়িয়ে যায়, সঙ্গে বমি বা জ্বরও থাকে, তাহলে বুঝতে হবে প্যানক্রিয়াটাইটিসের ব্য়থা। ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় প্যানক্রিয়াটাইটিসের উপসর্গ দেখা দিলে প্রথমেই রক্ত পরীক্ষা ও আলট্রাসোনোগ্রাফি করা হয় এবং প্রয়োজনে সিটি স্ক্যান করা হয়। গল ব্লাডারে স্টোন থাকলে এন্ডোস্কোপি বা ইআরসিপি করার প্রয়োজন পড়তে পারে। অতিরিক্ত ধূূমপান অগ্ন্যাশয়ের রোগ বা প্যানক্রিয়াটাইটিসের কারণ হতে পারে।
প্রায়ই তলপেটে ব্য়থা হয়?
অনেক কারণে তা হতে পারে। তবে যদি তলপেটে ব্যথা ক্রনিক হয়ে যায় তাহলে ডাক্তার দেখিয়ে নেওয়া ভাল। অনেক সময় কিডনিতে পাথর জমলে এমনটা হতে পারে। সমীক্ষা বলছে, মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের কিডনি স্টোনের ঝুঁকি ২-৩ গুণ বেশি। অন্য দিকে বয়স্ক ও শিশুদের তুলনায় মধ্যবয়সীদের এ রোগ বেশি হয়। তলপেটে অতিরিক্ত ব্যথা কিডনি স্টোনের লক্ষণ হতে পারে।
খাবার ঠিক পর পরই পেটে ব্যথা শুরু হয়?
মোচড় দিয়ে ওঠে পেট? যদি পেটের ওপরের ও মাঝের দিকে জ্বালা করে, পেটে মোচড় দেয় তাহলে আলসারের লক্ষণ হতে পারে। যদি দেখেন অ্যান্টাসিড খেলে ব্যথা কমে যাচ্ছে আবার পরে ফিরে আসছে, তাহলে সতর্ক হতে হবে (Gastric Ulcer)। কারণ গ্যাসট্রিক আলসার হতে পারে। গ্যাসট্রিক আলসারের ক্ষেত্রে খাবার খাওয়ার দু’তিন ঘণ্টা পর পেটে ব্যথা (Abdominal Pain) বাড়ে। প্রতিবারই খাবার পরে গলা-বুক জ্বালা করলে সাবধান হন। সব সময় গা গোলানো, বমিভাব থাকলে চেকআপ করিয়ে নিন।
গলব্লাডারে স্টোন হলে মাংস বা তেল মশলা জাতীয় খাবার খেলে পেটে ব্যথা বারে। সঙ্গে বমিও। এই রোগের মূল লক্ষণ পেটের ডান দিক থেকে ব্যথা শুরু হয়ে ডান কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছয়।
পেটের নীচের বাঁ দিকে হঠাৎ করে ব্যথা?
এমনটা হলে তা ডাইভার্টিকুলাইটিসের লক্ষণ হতে পারে। মূলত কম ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে এই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। পেটে ব্যথা ছাড়াও জ্বর, বমি বমি ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ার মতো শারীরিক সমস্যাও দেখা দেয়। এই ধরনের শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
অ্যাপেনডিক্স বা অ্যাপেনডিসাইটসের ব্যথা কেমন?
এই ব্যথা রোগী নিজেই তা বুঝে উঠতে পারেন না। বিশেষত মহিলারা অ্যাপেনডিসাইটসের ব্যথা আলাদা করে বুঝে উঠতে পারেন না। জরায়ু বা ডিম্বাধারের ব্যথা, ডিম্বনালীর প্রদাহ, ঋতুস্রাবজনিত জটিলতার কারণেও পেটে ব্যথা হয়, তাই আলাদা করে বোঝার উপায় থাকে না।
অ্যাপেনডিক্স হলে তলপেটের ডান দিকে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হবে। অনেক সময় নাভির চারদিকেও ব্যথা হতে থাকে। সেটা ক্রমশ তলপেটের ডান দিকে ছড়ায়। তলপেট ফুলে ওঠে। শুরুর দিকে কম ব্যথা হয়। ধীরে ধীরে সংক্রমণ বাড়লে ব্যথাও বাড়তে থাকে। সর্বক্ষণ বমি বমি ভাব থাকে। খাবার খেতে সমস্যা হয়। পেটে ব্যথার সঙ্গে জ্বর হতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা ওঠানামা করবে। খাবারে অরুচি হবে, ঘন ঘন পেট খারাপ হতে পারে রোগীর।