রবিবার সকালে ৬টা নাগাদ প্রশান্ত অসুস্থ বোধ করলেও প্রথমে চিকিৎসকের কাছে যেতে চাননি। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু প্রশান্ত তামাংয়ের
শেষ আপডেট: 15 January 2026 14:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জনপ্রিয় গায়ক-অভিনেতা প্রশান্ত তামাং প্রয়াত (Prashant Tamang death)। রবিবার সকালে দিল্লিতে নিজের বাড়িতেই হার্ট অ্যাটাকে (Heart Attack) মৃত্যু হয়েছে ৪৩ বছরের এই শিল্পীর। গতকাল সকালে ৬টা নাগাদ প্রশান্ত অসুস্থ বোধ করলেও প্রথমে চিকিৎসকের কাছে যেতে চাননি। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ সিজন ৩-এর জয়ী হিসেবে তিনি দেশজোড়া খ্যাতি পেয়েছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে ‘পাতাল লোক ২’-এ ড্যানিয়েল লেচোর চরিত্রে অভিনয় করে মন জয় করেছিলেন দর্শকদের।
প্রশান্তের বোন অনুপমা গুরুং জানিয়েছেন, কিছুদিন আগেই দুবাইতে একটি শো সেরে ২৭ ডিসেম্বর দেশে ফিরেছিলেন তিনি। ৭ জানুয়ারি গিয়েছিলেন অরুণাচল প্রদেশে, পরের দিনই ফিরে আসেন দিল্লি। সেদিনই ভিডিও কলে শেষবার কথা হয়েছিল তাঁদের। মৃত্যুর আগের দিনও নিজের মেয়ের সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন প্রশান্ত, জানিয়েছে পরিবার।
কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট কী?
হঠাৎ করে হৃদস্পন্দন থেমে গেলে তাকে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট (Cardiac Arrest) বলা হয়। এই সময় হৃদপিণ্ড আর রক্ত পাম্প করতে পারে না, ফলে শরীরের কোনও অঙ্গে অক্সিজেন পৌঁছায় না (Cardiac arrest symptoms)। কয়েক মিনিটের মধ্যেই রোগী অজ্ঞান হয়ে পড়তে পারেন এবং শ্বাস নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে যদি দ্রুত সিপিআর দেওয়া না হয় বা ডিফিব্রিলেটর দিয়ে শক না দেওয়া হয়, তাহলে জীবনহানির আশঙ্কা (Early heart attack warning signs) অত্যন্ত বেশি থাকে।
তরুণ প্রজন্মের মধ্যেই কেন বাড়ছে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঝুঁকি?
সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের মধ্যেও হার্ট অ্যাটাকে আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে (Young adults heart risk)। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক জীবনযাপনের নানা অভ্যাস এবং অজানা রোগই ঝুঁকি বাড়াচ্ছে,
নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন:
দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, ডেস্ক জব, স্ক্রিন টাইম- সব মিলিয়ে স্থূলতা ও হৃদ্যন্ত্রের চাপ বাড়ছে। প্রতিদিন ১০ ঘণ্টার বেশি বসে থাকা তরুণদের মধ্যে ধমনিতে চর্বি, কোলেস্টেরলের শক্ত স্তর জমে যায়, যা ধমনীকে সরু ও শক্ত করে রক্ত প্রবাহ কমিয়ে দেয়।
অস্বাস্থ্যকর খাবার:
অস্বাস্থ্যকর খাবার বলতে ফাস্ট ফুড, অতিরিক্ত তেল-মশলা, মিষ্টি পানীয় ও অনিয়মিতভাবে খাওয়াকে বোঝায়। এসব অভ্যাসে কোলেস্টেরল বাড়ে, রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং ধমনীগুলো ধীরে ধীরে সংকুচিত হতে থাকে যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটা বাড়িয়ে দেয়।
মানসিক চাপ:
মানসিক চাপ হার্টের উপর বড় প্রভাব ফেলে। কাজ, পড়াশোনা, টাকার টেনশন বা সম্পর্কের সমস্যা- এসব কারণে শরীরে স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়। ফলে হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হতে পারে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে।
ধূমপান ও ভেপিং:
ধূমপান বা ভেপিং- দুটোই রক্তনালীকে দুর্বল করে এবং রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ভেপিংকেও নিরাপদ ভাবা ভুল, এটি ধূমপানের মতোই ক্ষতিকর।
অ্যালকোহল ও এনার্জি ড্রিঙ্ক:
অতিরিক্ত পরিমাণে অ্যালকোহল বা এনার্জি ড্রিঙ্ক খেলে হার্টের স্বাভাবিক স্পন্দন বিঘ্নিত হতে পারে। সঙ্গে শরীরে জলশূন্যতা হলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায় এবং হঠাৎ হার্টে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ঘুমের অভাব:
হার্ট ভাল রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন। রাতে ৬ ঘণ্টার কম ঘুম হলে রক্তচাপ, স্ট্রেস হরমোন ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে।
স্থূলতা ও মেটাবলিক সমস্যা:
অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে হার্টের উপর চাপ বেড়ে যায়। এর ফলে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঝুঁকি অনেক বেশি বাড়ে।
জিনগত বা অজানা হৃদরোগ:
অনেক সময় হার্টে জন্মগত সমস্যা বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন আগে থেকে বোঝা যায় না। শরীরে কোনও বড় লক্ষণ না থাকলেও হঠাৎ করে এই সমস্যাগুলো বিপদ ডেকে আনতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট ব্যায়াম, সুষম খাদ্য, যোগ-ধ্যান, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা তরুণদের মধ্যেও হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে (Prevent heart attack) সাহায্য করতে পারে।