প্যাপ স্মিয়ার টেস্ট নিয়ে সবচেয়ে বেশি যে ৬টি প্রশ্ন (Pap smear FAQs) মহিলাদের মনে ঘোরাফেরা করে, রইল তার উত্তর (Cervical cancer early detection)।

শেষ আপডেট: 15 January 2026 14:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র মতে, জরায়ুমুখের ক্যানসার, যা সার্ভিক্যাল ক্যানসার (Cervical cancer) নামেই বেশি পরিচিত, এমন একটি ক্যানসার, যা সময়মতো ধরা পড়লে প্রতিরোধ ও চিকিৎসা - দু’টিই সম্ভব। তা সত্ত্বেও এই ক্যানসারে আক্রান্ত হন বহু মহিলা, যাঁদের মধ্যে অনেকেরই প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়ে না।
শুরুর দিকে সার্ভিক্যাল ক্যানসারের লক্ষণ প্রায় থাকেই না। ঠিক এই কারণেই নিয়মিত স্ক্রিনিং, বিশেষ করে প্যাপ স্মিয়ার টেস্ট, জরায়ুমুখ ক্যানসার আগাম শনাক্ত (Pap smear test for cervical cancer) করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা।
চিকিৎসকদের মতে, সার্ভিক্যাল ক্যানসার সাধারণত ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। কিন্তু দীর্ঘদিন চিকিৎসা না হলে এই রোগ মারাত্মক আকার নিতে পারে এবং শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্যাপ স্মিয়ার টেস্ট একটি দ্রুত ও সহজ স্ক্রিনিং (Cervical cancer early detection) পদ্ধতি হলেও, এই পরীক্ষা নিয়ে নানা ভুল ধারণা ও ভয় কাজ করে অনেকের মধ্যেই। জানুয়ারি মাস পালিত হয় সার্ভিক্যাল ক্যানসার অ্যাওয়ারনেস মান্থ (Cervical cancer awareness month January) হিসেবে। এই উপলক্ষ্যে প্যাপ স্মিয়ার টেস্ট নিয়ে মহিলাদের মনে থাকা সবচেয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
রেনবো হাসপাতালের অবস্টেট্রিশিয়ান ও গাইনিকোলজিস্ট ডা. অলকা চৌধুরীর কথায়, “নিয়মিত প্যাপ স্মিয়ার টেস্টের মাধ্যমে আগাম শনাক্তকরণ হলে চিকিৎসায় সাফল্যের হার এবং রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।”
প্যাপ স্মিয়ার টেস্ট নিয়ে সবচেয়ে বেশি যে ৬টি প্রশ্ন মহিলাদের মনে ঘোরাফেরা করে (Pap smear FAQs) -
এই সার্ভিক্যাল ক্যানসার অ্যাওয়ারনেস মান্থে অস্বাভাবিক ভ্যাজাইনাল ব্লিডিং, অস্বাভাবিক হোয়াইট ডিসচার্জ, সঙ্গমের সময় ব্যথা বা তলপেটের যন্ত্রণা - এই ধরনের উপসর্গগুলির দিকে সতর্ক নজর রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। একই সঙ্গে কোনও চিকিৎসা বা স্ক্রিনিং এড়িয়ে না যাওয়ার কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন তাঁরা।
১) প্যাপ স্মিয়ার টেস্ট কী?
প্যাপ স্মিয়ার টেস্ট হল এমন একটি পরীক্ষা, যেখানে একটি ছোট ব্রাশের সাহায্যে জরায়ুমুখ বা সার্ভিক্সের উপরিভাগ এবং তার আশপাশ থেকে খুব অল্প কিছু কোষ সংগ্রহ করা হয়। এই কোষগুলি পরে মাইক্রোস্কোপে পরীক্ষা করে দেখা হয়, কোনও অস্বাভাবিক বা ক্যানসার-পূর্ববর্তী পরিবর্তন আছে কি না।
সিকে বিড়লা হাসপাতালের অবস্টেট্রিক্স ও গাইনিকোলজি বিভাগের ডিরেক্টর ডা. তৃপ্তি রাহেজা জানান, এটি খুব দ্রুত একটি পরীক্ষা, সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যেই হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, এই পরীক্ষা সাধারণত ব্যথাহীন। তবে কিছু মহিলার ক্ষেত্রে সামান্য অস্বস্তি হতে পারে।
২) প্যাপ স্মিয়ার টেস্ট না করালে কী হতে পারে?
ডা. রাহেজার কথায়, সার্ভিক্যাল ক্যানসার এমন একটি ক্যানসার, যা দীর্ঘদিন নীরবে বেড়ে ওঠে এবং শুরুর দিকে কোনও লক্ষণই দেখা যায় না। জরায়ুমুখে ক্যানসার-পূর্ববর্তী পরিবর্তন অনেক সময় বছরের পর বছর ধরে থাকতে পারে, তার পর তা ক্যানসারে রূপ নেয়।
এই প্রাথমিক বা প্রি-ক্যানসার স্টেজে রোগ শনাক্ত করার একমাত্র উপায় হল নিয়মিত স্ক্রিনিং - যার মধ্যে প্যাপ স্মিয়ার টেস্ট অন্যতম। চিকিৎসকের মতে, যখন অস্বাভাবিক ব্লিডিং, দুর্গন্ধযুক্ত হোয়াইট ডিসচার্জ বা তলপেটের ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তখন অনেক সময়ই রোগটি ইতিমধ্যে বেশ অ্যাডভান্সড পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। ফলে চিকিৎসা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
৩) প্যাপ স্মিয়ার টেস্ট কম অস্বস্তিকর করতে কী করবেন?
ডা. রাহেজা জানাচ্ছেন, এই পরীক্ষা নিয়ে যাঁরা নার্ভাস হন বা অস্বস্তির ভয় পান, তাঁরা কয়েকটি বিষয় মেনে চলতে পারেন -
৪) প্যাপ স্মিয়ার টেস্টের রিপোর্ট পেতে কত দিন লাগে?
সাধারণত কোন ল্যাবে পরীক্ষা হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে প্যাপ স্মিয়ার টেস্টের রিপোর্ট পাওয়া যায়।
৫) প্যাপ স্মিয়ার টেস্টের আগে কী কী এড়িয়ে চলা উচিত?
নির্ভুল ফলাফলের জন্য কিছু সতর্কতা মানার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. অলকা চৌধুরী -
এই সব কিছুই পরীক্ষার অন্তত ২৪–৪৮ ঘণ্টা আগে বন্ধ রাখা উচিত। কারণ এগুলি জরায়ুমুখের কোষ ধুয়ে ফেলতে পারে বা ঢেকে দিতে পারে, ফলে রিপোর্টের ফলাফল প্রভাবিত হতে পারে।
৬) প্যাপ স্মিয়ার টেস্ট কোন কোন ক্যানসার শনাক্ত করে?
প্যাপ স্মিয়ার টেস্ট মূলত জরায়ুমুখ ক্যানসার শনাক্ত করতে সাহায্য করে। এই পরীক্ষা সরাসরি ক্যানসার ডিটেক্ট করে না, বরং জরায়ুমুখের কোষে হওয়া অস্বাভাবিক বা প্রি-ক্যানসার পরিবর্তন আগেভাগেই চিহ্নিত করে।
প্যাপ স্মিয়ার টেস্টের সঙ্গে HPV টেস্ট যুক্ত করা হলে, হাই রিস্ক হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) সংক্রমণও ধরা পড়ে। এই HPV ভাইরাসই অধিকাংশ ক্ষেত্রে সার্ভিক্যাল ক্যানসারের জন্য দায়ী। নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে আগাম শনাক্তকরণ হলে চিকিৎসার সাফল্য ও রোগীর বেঁচে থাকার হার উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যায়, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।