Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
রহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্ট

নিউ ইয়ারে ওজন কমাতে ক্র্যাশ ডায়েট নয়, জানুয়ারিতে মেনে চলতে পারেন এই ৫ ফিটনেস রেজোলিউশন

দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে গেলে দরকার বাস্তবসম্মত, টেকসই এবং শরীরের প্রতি সহানুভূতিশীল কিছু অভ্যাস। বড় পরিবর্তনের বদলে ছোট কিন্তু নিয়মিত পদক্ষেপই আসল চাবিকাঠি। 

নিউ ইয়ারে ওজন কমাতে ক্র্যাশ ডায়েট নয়, জানুয়ারিতে মেনে চলতে পারেন এই ৫ ফিটনেস রেজোলিউশন

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 20 December 2025 19:26

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন বছর মানেই নতুন রেজোলিউশন। সেখানে থাকবেই নিজের শরীর ও স্বাস্থ্যের দিকে নতুন করে নজর দেওয়ার লক্ষ্য। অনেকের কাছেই এই সময়টা মানে ওজন কমানোর ভাবনাচিন্তার নতুন শুরু। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে যদি ক্র্যাশ ডায়েট বা অতিরিক্ত কঠিন রুটিনে ঝাঁপ দেন, তাহলে উল্টো ফল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে গেলে দরকার বাস্তবসম্মত, টেকসই এবং শরীরের প্রতি সহানুভূতিশীল কিছু অভ্যাস। বড় পরিবর্তনের বদলে ছোট কিন্তু নিয়মিত পদক্ষেপই আসল চাবিকাঠি। ফিটনেস ও ওয়েলনেস কোচ সুমিত দুবে, যিনি Sumit Dubey Fitness-এর প্রতিষ্ঠাতা, জানুয়ারি অর্থাৎ নতুন বছরের শুরুতেই নিরাপদ ও স্থায়ীভাবে ওজন কমানোর জন্য ৫টি বাস্তবসম্মত রেজোলিউশন এবং সেই সংক্রান্ত টিপস শেয়ার করে নিয়েছেন।

১) পারফেকশনের পেছনে না ছুটে ধারাবাহিকতায় ভরসা রাখুন

সুমিতের কথায়, “পারফেক্ট হওয়ার চেষ্টা ছেড়ে দিন। জানুয়ারিতে এমন রুটিন বানান, যেটা ব্যস্ত সময় বা ক্লান্তির মধ্যেও মেনে চলতে পারবেন।” অনেকেই মনে করেন ওজন কমাতে গেলে একশো শতাংশ নিয়ন্ত্রণ দরকার - মিষ্টি একদম নয়, জিমের কোনও সেশন মিস নয়, ডায়েটের বাইরে কিছু খাওয়া চলবে না। কিন্তু বাস্তবে এই ১০০% খুব কম মানুষই ধরে রাখতে পারেন।

“সত্যি বলতে কী, ১০ দিনের মধ্যে ৭ দিন ঠিকঠাক থাকলেও সেটাই ভাল। একদিন ব্যায়াম মিস হওয়া বা একবার বেশি খেয়ে ফেললে সব নষ্ট হয়ে যায় না। ছোট ছোট কাজ নিয়মিত করাই আসল পরিবর্তন আনে, সোশ্যাল মিডিয়ার হাইপ নয়,” বলছেন সুমিত।

২) খাবার নিয়ে নতুন করে ভাবুন

খাবার নিয়ে অযথা আতঙ্ক তৈরি করার দরকার নেই। “অনেকে ভাবেন স্লিম হতে গেলে কঠিন ডায়েট মানতেই হবে বা প্রিয় খাবার পুরো বাদ দিতে হবে। এটা ঠিক নয়,” বলছেন সুমিত।

ঘরে তৈরি সাধারণ ভারতীয় খাবার - ডাল, সবজি, রুটি, ভাত - সবই ঠিক আছে। সমস্যা খাবারে নয়, পরিমাণ আর সচেতনতার অভাবে। প্লেটে নানা ধরনের খাবার রাখুন, কিন্তু মিষ্টি, তেলচর্বি, গভীর রাতে স্ন্যাকস খাওয়ার অভ্যেস - এগুলো একটু কমান। খুব কড়া ডায়েট সাময়িকভাবে কাজ করলেও দ্রুত ক্লান্তি আর বিরক্তি ডেকে আনে।

৩) বাড়তি চাপ না নিয়েই শরীরচর্চা করুন

সবাই জিম ভালবাসেন না, এটা স্বাভাবিক। আর জোর করে প্রতিদিন জিমে যাওয়ার চেষ্টা অনেক সময় উল্টো ফল দেয়। “সত্যি কথা হল, ওজন কমাতে জিমে যেতেই হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই,” বলছেন সুমিত।

হাঁটা, যোগা, বাড়িতে ওয়ার্কআউট, হালকা ওয়েট ট্রেনিং - যেটা ভাল লাগে সেটাই করুন। প্রতিদিন ৩০–৪৫ মিনিট মুভমেন্ট করলেই যথেষ্ট। কতটা ভারী ট্রেনিং করলেন তার থেকে বেশি জরুরি হল, আপনি কতদিন ধরে সেটায় লেগে থাকতে পারছেন। ইনস্টাগ্রামের ট্রেন্ড দেখে নিজের ওপর চাপ দেবেন না।

৪) স্ট্রেসকে দূরে সরিয়ে ঘুমকে গুরুত্ব দিন

অনেকেই ভাবেন ওজন কমা মানেই শুধু ডায়েট আর এক্সারসাইজ। কিন্তু বাস্তবে ঘুম আর মানসিক চাপের প্রভাব অনেক বেশি।
“ঠিকমতো ঘুম না হলে ফ্যাট বার্নিং কমে যায়, উল্টো অকারণে খিদে বাড়ে,” জানাচ্ছেন সুমিত।

চাপ বাড়লে আমরা অনেক সময় খিদে না লাগলেও খেতে শুরু করি। তাই ঘুমের সময় ঠিক করা, ছোট হাঁটা, ধীরে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস - এই ছোট ছোট অভ্যাসই বড় পার্থক্য গড়ে তোলে। “রিল্যাক্স করা কোনও বিলাসিতা নয়, এটা রুটিনেরই অংশ,” বলছেন তিনি।

৫) ওজন মাপার যন্ত্রের সংখ্যায় আটকে থাকবেন না

“ওজন মাপার স্কেল যেন আপনার মুড ঠিক না করে দেয়,” সুমিতের পরামর্শ। ওজন কমা স্বাস্থ্য পরিবর্তনের একমাত্র মাপকাঠি নয়। নিজের স্ট্যামিনা, কোমরের মাপ, ওয়ার্কআউটের সময় শক্তি, বা আগের চেয়ে জামাকাপড় ভাল ফিট হচ্ছে কিনা - এসবও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিদিন ওজন মাপলে মানসিক চাপ বাড়তে পারে। সপ্তাহে একবার মাপাই যথেষ্ট। “আসল পরিবর্তনটা আপনার দৈনন্দিন অনুভূতিতে, সংখ্যার চেয়েও সেটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ,” বলছেন তিনি।

‘জানুয়ারি কোনও শাস্তি নয়’

সুমিতের সাফ কথা, “ডিসেম্বরে আনন্দ করার জন্য জানুয়ারি কোনও শাস্তি নয়। জানুয়ারি হল এমন রুটিন গড়ার সময়, যা আপনার বাস্তব জীবনের সঙ্গে মানানসই। সহজ থাকুন, বাস্তববাদী থাকুন, ফল আসবেই। সময় লাগতে পারে, কিন্তু সেটাই টেকসই হবে।”


```