সারাদিন ঘুমঘুম ভাব কাটাতে সকালে কিছু সহজ অভ্যাসই হতে পারে কার্যকর সমাধান। দিনভর চনমনে থাকতে জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 23 March 2026 15:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিনটা কেমন যাবে, সেটা ঠিক হয়ে যায় ঘুম থেকে ওঠার পরের প্রথম দু’ঘণ্টায়। তবু বেশিরভাগ মানুষই এই সময়টা কাটান তাড়াহুড়োয়। মোবাইল স্ক্রল (phone scrolling), তাড়াহুড়ো করে বেরোনো, আর প্রয়োজনীয় কিছু অভ্যাস এড়িয়ে যাওয়া নিত্য বিষয়। পুষ্টিবিদ দীপশিখা জৈনের (Deepsikha Jain) মতে, দিনের শুরুটা যদি ঠিকভাবে করা যায়, তাহলে শক্তি (energy), মনোযোগ (concentration) এমনকি মেটাবলিজম (metabolism)—সবই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সবচেয়ে আগে দরকার নিয়মিত সময়ে ঘুম থেকে ওঠা। প্রতিদিন একই সময়ে ওঠার অভ্যাস শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি (internal clock) ঠিক রাখে। এতে সারাদিনে শক্তির মাত্রা স্থির থাকে, অলসভাব কমে। এরপরই গুরুত্বপূর্ণ জল খাওয়া (hydration)। ঘুম থেকে ওঠার কয়েক মিনিটের মধ্যেই এক গ্লাস জল শরীরকে জাগিয়ে তোলে, পাশাপাশি হজমতন্ত্রকেও (digestive system) সক্রিয় করে। আর কী কী অভ্যাস আপনাকে দ্রুত করে ফেলতে হবে?
সকালের রোদ (sunlight) নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কয়েক মিনিটের প্রাকৃতিক আলো শরীরে কর্টিসল (cortisol) হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, যা আপনাকে সতেজ ও সচেতন রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এটি সার্কাডিয়ান রিদম (circadian rhythm) ঠিক রাখে, ফলে রাতে ভাল ঘুম হয়।
অনেকে ঘুম থেকে উঠেই কফি (coffee) খেয়ে ফেলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম ভাঙার একটু পরে কফি খাওয়া ভাল। আগে প্রাকৃতিক আলোয় কিছুটা সময় কাটালে শরীর নিজে থেকেই সতেজ হয়, তারপর কফি খেলে তার প্রভাব বেশি কার্যকর হয় এবং হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয় না।
এর পাশাপাশি শরীরচর্চা (physical exercise) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সকালে সামান্য ব্যায়াম শরীরকে চাঙ্গা রাখে, মুড (mood) ভাল করে এবং মনোযোগ বাড়ায়। একইভাবে ব্রিদওয়ার্ক (breathwork) ও মেডিটেশন (meditation) স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে, মানসিক চাপ (stress) কমায়।
সবশেষে, সকালের খাবার (breakfast) এড়িয়ে যাওয়া একেবারেই উচিত নয়। প্রোটিন (protein) ও ফাইবার (fibre) সমৃদ্ধ ব্রেকফাস্ট রক্তে সুগারের মাত্রা (blood sugar) ঠিক রাখে, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে এবং এনার্জি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের কথায়, দিনের শুরুটা ভাল করতে জটিল কোনও রুটিন দরকার নেই। বরং ছোট ছোট সচেতন অভ্যাস বদলে দিতে পারে পুরো দিনটা। কারণ বেশি কিছু নয়, ঠিক সময়ে ঠিক কাজটাই আসল।