অজান্তেই প্রতিদিনের কিছু খাবার বাড়িয়ে দিচ্ছে রক্তচাপের ঝুঁকি। এখনই সতর্ক হন, না হলে বিপদ বাড়তে পারে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 23 March 2026 12:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নীরব ঘাতক (silent killer) উচ্চ রক্তচাপ (hypertension)—বুঝতেই পারবেন না, অথচ ভিতরে ভিতরে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করে চলেছে। চিকিৎসকদের মতে, রক্তনালীর (blood vessels) দেওয়ালে রক্তের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে তৈরি হয় এই সমস্যা। আর নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হার্ট অ্যাটাক (heart attack), হৃদরোগ (heart disease), স্ট্রোক (stroke) থেকে কিডনির অসুখ (kidney disease) পর্যন্ত হতে পারে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা, এই রোগের তেমন কোনও স্পষ্ট উপসর্গ নেই। তাই সময়মতো সতর্ক না হলে বিপদ বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের কথায়, খাদ্যাভ্যাস (diet) নিয়ন্ত্রণ এখানে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। কারণ প্রতিদিনের খাবারের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে এমন কিছু উপাদান, যা অজান্তেই রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।
প্রথমেই রয়েছে প্রসেসড মাংস (processed meats)—যেমন হ্যাম, বেকন, সসেজ, সালামি বা হট ডগ। এগুলোতে অতিরিক্ত সোডিয়াম (sodium) ও নাইট্রেট (nitrates) থাকে, যা শরীরে জলধারণ বাড়িয়ে রক্তের পরিমাণ বাড়ায়। ফলে হার্টকে বেশি জোরে কাজ করতে হয়। দীর্ঘমেয়াদে ধমনী শক্ত হয়ে যাওয়া, প্রদাহ (inflammation) এবং প্লাক জমার ঝুঁকি বাড়ে।
দ্বিতীয়ত, ক্যানড স্যুপ (canned soups)। দেখতে নিরীহ হলেও এতে ৮০০ থেকে ১২০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত সোডিয়াম থাকতে পারে। কিডনি (kidneys) তা সহজে বের করতে পারে না, ফলে দ্রুত শরীরে জল জমে গিয়ে রক্তচাপ বাড়ে। নিয়মিত খেলে বিপদ বাড়তে বাধ্য।
প্রতিদিনের পাউরুটি (bread), বেগেল বা বেকড খাবারেও লুকিয়ে থাকে সোডিয়াম ও ট্রান্স ফ্যাট (trans fats)। এগুলো রক্তনালীর নমনীয়তা কমিয়ে দেয়। একইভাবে কেচাপ, সয় সস, স্যালাড ড্রেসিংয়ের মতো সস ও কন্ডিমেন্টস (condiments and sauces) অতিরিক্ত লবণ দিয়ে তৈরি, যা অজান্তেই রক্তচাপ বাড়ায়।
ফ্রোজেন মিল (frozen meals) ও পিৎজা (pizza)-তেও সোডিয়ামের মাত্রা অত্যন্ত বেশি—এক বেলায়ই দৈনিক সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে থাকে হাই-ফ্রুক্টোজ (high-fructose) ও পাম অয়েল (palm oil), যা স্থূলতা (obesity) ও হাইপারটেনশনের ঝুঁকি বাড়ায়।
সবশেষে বিপদের চিনিযুক্ত পানীয় (sugary drinks)—সোডা, এনার্জি ড্রিঙ্ক বা ফলের পানীয় শরীরে ফ্রুক্টোজ বাড়িয়ে ইনসুলিনের (insulin) ওঠানামা ঘটায়, রক্তনালীর ক্ষতি করে। এমনকি ‘ডায়েট’ পানীয়ও নিরাপদ নয়।
তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, খাবারে সচেতন হোন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের (doctor) পরামর্শ নিন। কারণ সামান্য অবহেলাই ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ।