এই প্রাকৃতিক ডায়েটারি ফাইবার মূলত হজমশক্তি ভাল রাখা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সুরাহার জন্য ব্যবহৃত হলেও, এর উপকারিতা শুধু সেখানেই সীমাবদ্ধ নয়।

ইসাবগুল
শেষ আপডেট: 5 January 2026 19:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয়দের চেনা পরিচিত ঘরোয়া চিকিৎসায় বহুদিন ধরেই পরিচিত একটি নাম - ইসাবগুল (Isabgol)। Plantago ovata নামের এক গাছের বীজ থেকে তৈরি এই প্রাকৃতিক ডায়েটারি ফাইবার মূলত হজমশক্তি ভাল রাখা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সুরাহার (Isabgol for constipation) জন্য ব্যবহৃত হলেও, এর উপকারিতা (Isabgol benefits) শুধু সেখানেই সীমাবদ্ধ নয়।
ওজন কমানো (Isabgol for weight loss), রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ (Isabgol for diabetes), কোলেস্টেরল কমানো (isabgol for reducing cholesterol)- এমন একাধিক উপকারে ইসাবগুলের ভূমিকা রয়েছে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০২৪ সালে প্রকাশিত CyTA – Journal of Food নামের এক জার্নালের গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসাবগুলের ‘জেল তৈরি করার ক্ষমতা ও জল ধরে রাখার বৈশিষ্ট্য’ একে খাদ্যপ্রস্তুতিতে বিশেষভাবে উপযোগী করে তোলে। খাবারের টেক্সচার উন্নত করা, আর্দ্রতা ধরে রাখা এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ফ্যাটের বিকল্প হিসেবেও ইসাবগুল ব্যবহার করা যায়।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসাবগুলের উপকারিতা সবচেয়ে ভালভাবে পাওয়া যায় তখনই, যখন এটি ঠিক উপায়ে ও সঠিক উপাদানের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া হয়। এই বিষয়টিকেই সামনে এনে ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট করেন পুষ্টিবিদ কাঞ্চন নায়ার। সেখানে তিনি ইসাবগুল খাওয়ার ৫টি আলাদা পদ্ধতি তুলে ধরেন, যেগুলি আলাদা আলাদা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যায় কার্যকর।
১) কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation) তো আছেই
ঘরে ঘরে ইসাবগুলের সবচেয়ে পরিচিত ব্যবহার সম্ভবত কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা। কাঞ্চনের মতে, সবচেয়ে ভাল ফল পেতে হলে রাতে ঘুমানোর আগে ১ টেবিল চামচ ইসাবগুল এক গ্লাস গরম জল বা দুধে মিশিয়ে খেতে হবে। এতে মল নরম হয় এবং পরদিন সকালে স্বাভাবিক পেট পরিষ্কার হতে সাহায্য করে।
২) অ্যাসিডিটি (Acidity) কমায়
বারবার অম্বল বা বুকজ্বালার সমস্যায় ভুগলে ইসাবগুল হতে পারে সহজ সমাধান। এক্ষেত্রে, ১ টেবিল চামচ ইসাবগুল এক গ্লাস ঠান্ডা দুধে মিশিয়ে খেলে পেটের ভেতরের জ্বালাপোড়া দ্রুত শান্ত হয় বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদ।
৩) ওজন কমানোয় (Weight Loss) সিদ্ধহস্ত
ওজন কমানোর সময় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল অতিরিক্ত খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা। এই জায়গাতেই ইসাবগুল কার্যকর। ১ টেবিল চামচ ইসাবগুল হালকা গরম জলে মিশিয়ে খাবারের ৩০ মিনিট আগে খেতে পারেন। তাতে পেট ভরা থাকার অনুভূতি তৈরি হয়, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।
৪) ডায়রিয়া (Diarrhoea) সারায়
অনেকেই জানেন না, কোষ্ঠকাঠিন্যের পাশাপাশি ডায়রিয়াতেও ইসাবগুল উপকারী। ১ টেবিল চামচ টাটকা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে অন্ত্রে ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় থাকে এবং পাতলা পায়খানা কমতে সাহায্য করে।
৫) রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ
ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে খাবারের পরে ইসাবগুল খেতে পারেন। এক গ্লাস জলে ১ টেবিল চামচ মিশিয়ে খেলে গ্লুকোজের শোষণ ধীরে হয়, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
এই প্রসঙ্গে পুষ্টিবিদ কাঞ্চন নায়ার তাঁর পোস্টে স্পষ্ট করে লেখেন, ইসাবগুলের নানা উপকারিতা রয়েছে, শুধু কীভাবে খাচ্ছেন তার উপরেই নির্ভর করছে ফলাফল।