বাজারে ইনজেকশন বা ক্যাপসুলের প্রলোভন থাকলেও, প্রাকৃতিক উপায়েই শরীরে গ্লুটাথায়োন মাত্রা বাড়ানো সম্ভব।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 7 July 2025 12:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ২৭ জুন, অভিনেত্রী ও প্রাক্তন রিয়্যালিটি শো প্রতিযোগী শেফালি জরিওয়ালার রহস্যজনক মৃত্যু এখন খবরের শিরোনামে। ‘কাঁটা লাগা’ গার্লের অকালমৃত্যুর পর ফের বিতর্কের কেন্দ্রে গ্লুটাথায়োন। তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ইনট্রাভেনাস (IV) গ্লুটাথায়োন, ভিটামিন সি-র ইনজেকশন এবং অ্যাসিডিটির ওষুধ। যদিও এখনও তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যায়নি, তবে এই ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছে গ্লুটাথায়োন, বোটক্স এবং নানা রকমের ‘বিউটি ট্রিটমেন্ট’।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্লুটাথায়োন, বিশেষত ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করলে, তা চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে এবং সঠিক মাত্রায় হওয়াই উচিত। ভুল মাত্রা কিংবা অতিরিক্ত ব্যবহার শরীরের ক্ষতি করতে পারে।
গ্লুটাথায়োন কী?
গ্লুটাথায়োন হল এক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যা আমাদের শরীরের প্রতিটি কোশে স্বাভাবিকভাবেই উপস্থিত থাকে। এটি মূলত তিনটি অ্যামিনো অ্যাসিড - গ্লুটামিন, গ্লাইসিন ও সিস্টিন থেকে তৈরি। এর প্রধান কাজ হল শরীরকে ফ্রি র্যাডিকাল ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ফলে হওয়া বয়সজনিত ক্ষতি থেকে রক্ষা করা। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করে গ্লুটাথায়োন। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বা অপুষ্টি, দূষণ ও মানসিক চাপের ফলে শরীরে গ্লুটাথায়োনের মাত্রা কমে যেতে পারে।
ত্বক উজ্জ্বল করার জন্যও গ্লুটাথায়োন বহুল ব্যবহৃত।
কীভাবে কাজ করে গ্লুটাথায়োন?
ত্বকের কোশে থাকা টাইরোসিনেজ এনজাইমকে দমিয়ে গ্লুটাথায়োন মেলানিনের পরিমাণ কমায়, যার ফলে ত্বক আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, টেক্সচারও মসৃণ করে তোলে।
বাজারে গ্লুটাথায়োন ইনজেকশন বা ক্যাপসুলের প্রলোভন থাকলেও, প্রাকৃতিক উপায়েই এটি বাড়ানো সম্ভব। জীবনযাত্রায় কিছু সহজ পরিবর্তন ও খাদ্যাভ্যাসে নজর দিলেই সুফল মিলতে পারে।
১. গ্লুটাথায়োন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া
অ্যাভোকাডো, পালং শাক, ঢেঁড়স, টমেটো, অ্যাস্প্যারাগাস – এই ধরনের খাবার প্রাকৃতিকভাবে গ্লুটাথায়োনে সমৃদ্ধ।
২. সালফারযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ
গ্লুটাথায়োন তৈরি করতে সালফার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। রসুন, পেঁয়াজ এবং ব্রোকোলি খাদ্যতালিকায় রাখুন।
৩. ভিটামিন সি-এর পরিমাণ বাড়ান
গ্লুটাথায়োন ও ভিটামিন সি একসঙ্গে কাজ করলে কার্যকারিতা আরও বাড়ে। এটি কোলাজেন তৈরিতেও সাহায্য করে, ফলে ত্বক আরও টানটান ও উজ্জ্বল দেখায়। পাতি লেবু, কমলালেবু, স্ট্রবেরি, কিউই ও বেল পিপার - সবই ভাল উৎস।
৪. সেলেনিয়াম-সমৃদ্ধ খাবার খান
সেলেনিয়াম গ্লুটাথায়োন তৈরিতে সাহায্য করে। ডায়েটে রাখুন বাদাম, ডাল, মাছ ও ডিম।
৫. পর্যাপ্ত ঘুম যেন হয়
ঘুমের অভাব গ্লুটাথায়োনের মাত্রা কমাতে পারে, এ কথা প্রমাণিত। প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম প্রয়োজন।
৬. নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত শরীরচর্চা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে তোলে, যার মধ্যে গ্লুটাথায়োনও রয়েছে। তবে তার পাশাপাশি খাবারের গুণমানের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
অতিরিক্ত গ্লুটাথায়োনের ঝুঁকি কী?
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ইনজেকশন বা ক্যাপসুল আকারে অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত গ্লুটাথায়োন গ্রহণ করলে হজমের সমস্যা, অ্যালার্জি বা লিভার ও কিডনির উপর চাপ পড়ার আশঙ্কা থাকে।
বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: এই সংক্রান্ত কোনও মতামত দ্য ওয়ালের নয়। দ্য ওয়াল স্বাস্থ্য / সাজগোজ সম্পর্কিত কোনও সম্পাদকীয় / সম্পাদক-নিয়ন্ত্রিত তথ্য, পরামর্শ প্রদান করে না। প্রদত্ত পরামর্শ ও তথ্য প্রয়োগের আগে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। নিজের মতামতকে গুরুত্ব দিন।