নিউট্রিশনিস্ট রিচা গাঙ্গানি দাবি করেছেন, মাত্র ২১ দিনে ‘AI ডায়েট’ অনুসরণ করে তিনি ৭ কেজি ওজন কমিয়েছেন। কীভাবে কাজ করে এই ১৮-১০-৮-৪-১ মেথড? জানুন বিশেষজ্ঞের মতামত।

'AI ডায়েট'
শেষ আপডেট: 8 October 2025 19:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওজন কমানোর রহস্য যেন কিছুতেই কাটতে চায় না। বাজারে যখন হরেক রকম ডায়েটের ভিড়, ঠিক তখনই নতুন করে নজর কেড়েছে এক 'AI ডায়েট'। নিউট্রিশনিস্ট এবং ওয়েট লস বিশেষজ্ঞ রিচা গাঙ্গানি সম্প্রতি একটি ভিডিওতে দাবি করেছেন, মাত্র ২১ দিনের এই ডায়েট অনুসরণ করে তিনি ৭ কেজি ওজন কমিয়েছেন এবং পেট থেকে ২ ইঞ্চি চর্বি ঝরিয়েছেন।
কিন্তু এত দ্রুত ওজন কমানোর এই পদ্ধতি কতটা বৈজ্ঞানিক এবং সবার জন্য সুরক্ষিত কি না? সেই উত্তর খুঁজতেই এই 'অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ডায়েট'-এর প্রতিটি ধাপ বিশ্লেষণ করলেন ব্যাঙ্গালুরুর মণিপাল হাসপাতালের ডায়েটিশিয়ান পবিত্রা এন রাজ।
রিচা গাঙ্গানি জানান, কোনও কঠিন ডায়েট বা জিমে অতিরিক্ত কার্ডিও না করেও সহজ কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি ওজন কমিয়েছেন। তিনি তাঁর পদ্ধতিকে "১৮-১০-৮-৪-১ মেথড" বলে উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে-
ওজন কমানো এবং শরীরকে টোনড রাখার জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মানলে তা কাজ দিতে পারে। যেমন— ১৮ ঘণ্টার ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং পদ্ধতিতে প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৫ বা ৬টার মধ্যে খাবার খেতে হয়। এই সময়ে খাবার খেলে শরীরে ইনসুলিন লেভেল নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ফ্যাট বার্ন করতে সাহায্য করে।
প্রতিদিন ১০,০০০ স্টেপ হাঁটা শরীরের মেটাবলিজম বাড়িয়ে অতিরিক্ত ক্যালোরি বার্নে সহায়তা করে। নিয়মিত হাঁটার ফলে শুধু ওজনই কমে না, বরং হৃদ্যন্ত্রও সুস্থ থাকে। একই সঙ্গে ৮ ঘণ্টা গভীর ঘুমও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে, কর্টিসল হরমোন কমায় এবং ফ্যাট বার্নে সহায়তা করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিনে অন্তত ৪ লিটার জল পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি চা বা ডিটক্স ড্রিঙ্ক খেলে শরীরের টক্সিন বেরিয়ে যায়, পেট ফোলা কমে এবং ত্বক আরও উজ্জ্বল হয়।
প্রতিদিন প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত। এতে পেশী ধরে রাখা যায় এবং শরীর আরও টোনড থাকে। সবশেষে, দিনের শুরুতেই খালি পেটে ১ চা চামচ MCT তেল (Medium-Chain Triglyceride oil) এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি আইস কিউব খেলে মেটাবলিজম দ্রুত বাড়ে ও ফ্যাট বার্ন হয়।
বিশেষজ্ঞের চোখে 'AI ডায়েট' কতটা কার্যকর?
ডায়েটিশিয়ান পবিত্রা এন রাজ জানান, ২১ দিনের এই ডায়েট পদ্ধতিটি মূলত ৬০-এর দশকে ডা. ম্যাক্সওয়েল মাল্টজ-এর পর্যবেক্ষণ থেকে এসেছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে শারীরিক পরিবর্তনে অভ্যস্ত হতে রোগীদের প্রায় ২১ দিন লাগে।