বিশেষজ্ঞরা একমত, পিরিয়ডের অস্বাভাবিকতা কখনও হালকা ভাবে নেওয়া উচিত নয়। সময়মতো চিকিৎসা হলে গুরুতর ঝুঁকি কমানো যায় এবং শরীরও সুস্থ থাকে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 4 September 2025 15:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহিলাদের পিরিয়ড সাইকল (Period cycle) পুরোটাই চলে হরমোনের (Hormones) নিয়ন্ত্রণে। শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটলে স্বাভাবিকভাবেই হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং তার প্রভাব পড়ে পিরিয়ডের সময়, ফ্লো ও ব্যথার তীব্রতায়। এই পরিবর্তনগুলো কিন্তু সবসময় স্বাভাবিক নাও হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্বাভাবিক লক্ষণগুলো (abnormal periods symptoms) দ্রুত চিহ্নিত করতে পারলে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যাও আগেভাগে ধরা সম্ভব।
মুম্বইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বৈশালী জোশি জানিয়েছেন, সাধারণত স্বাভাবিক পিরিয়ড ২১ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে আসে এবং ২ থেকে ৭ দিন থাকে। ফ্লো হালকা বা ভারী হতে পারে, মাসে মাসে সামান্য ওঠা–নামা স্বাভাবিক। কিন্তু আচমকা প্রবল রক্তপাত, অনিয়মিত ফ্লো (heavy irregular flow in period) বা অস্বাভাবিক যন্ত্রণা (severe cramp in period) হলে তা আর অবহেলা করা উচিত নয়।
তিনি বলছেন, “যদি হঠাৎ করে পিরিয়ড খুব বেশি হয়, অনিয়মিত হয়ে যায় বা অসহ্য ব্যথা দেখা দেয়, তাহলে এর পেছনে অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে। পিরিয়ড আসলে অনেক সময়ই শরীরের হরমোনের ভারসাম্য, রিপ্রোডাক্টিভ হেলথ বা প্রজনন স্বাস্থ্যের অবস্থা কিংবা শরীর ঠিকঠাক পুষ্টি পাচ্ছে কিনা তার প্রতিফলন।”
কোন কোন পরিবর্তনে সতর্ক হওয়া উচিত?
ডাঃ জোশি জানিয়েছেন, কিছু লক্ষণ একেবারেই স্বাভাবিক নয় -
• অতিরিক্ত রক্তপাত, যেখানে প্যাড বা ট্যাম্পন দ্রুত ভিজে যায়
• দু’টি পিরিয়ডের মাঝে রক্তপাত হওয়া
• কয়েক মাস একটানা পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যাওয়া
• একটানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে পিরিয়ড চলা
• এতটাই তীব্র ব্যথা যে দৈনন্দিন কাজ বন্ধ হয়ে যায়
এর পেছনে কী কী স্বাস্থ্য সমস্যা থাকতে পারে?
এই ধরনের লক্ষণ থাইরয়েড সমস্যা, ফাইব্রয়েড বা পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS)-এর ইঙ্গিত হতে পারে। অতিরিক্ত বা দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষরণ আবার শরীরে আয়রনের ঘাটতি তৈরি করে, হিমোগ্লোবিন কমায় এবং তার ফলে দেখা দেয় দুর্বলতা ও ক্লান্তি।
ডাঃ জোশি জানান, কিশোরী মেয়েদের ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক বছর পিরিয়ড অনিয়মিত হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু বহু বছর ধরে নিয়মিত পিরিয়ড চলছে এমন মহিলাদের হঠাৎ অনিয়ম দেখা দিলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি চিকিৎসা না করানো হয়, তাহলে শুধু থাইরয়েডের মতো সমস্যা আরও বেড়ে উঠবে না, বরং রক্তস্বল্পতার মতো জটিলতা নতুন স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।”
কীভাবে সামলাবেন পিরিয়ডের সাধারণ সমস্যা?
যদিও চিকিৎসার বিকল্প নেই, তবে কিছু সহজ অভ্যাস লক্ষণ সামলাতে সাহায্য করতে পারে -
• সুষম খাদ্যাভ্যাস: আয়রন সমৃদ্ধ খাবার যেমন পালং শাক, ডাল, ডিম, গুড় নিয়মিত খেলে দুর্বলতা রোধ হয়। প্রবল রক্তক্ষরণ হলে শাকসবজি, ডাল ও গুড় বেশি করে খাওয়া জরুরি।
• জল খাওয়া: পর্যাপ্ত জল খেলে শরীরে তরলের ঘাটতি পূরণ হয় এবং ব্যথা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
• স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট: মানসিক চাপ ও ঘুমের সমস্যা হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। তাই যোগব্যায়াম, গভীর শ্বাস বা হালকা হাঁটা সহায়ক।
• হিট থেরাপি: গরম জলে স্নান বা হিটিং প্যাড ব্যথা কমাতে কার্যকর।
বিশেষজ্ঞরা একমত যে, পিরিয়ডের অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে কখনও হালকা ভাবে নেওয়া উচিত নয়। সময়মতো চিকিৎসা শুরু হলে গুরুতর অসুখের ঝুঁকি কমানো যায় এবং শরীরও সুস্থ থাকে।