ডাক্তারের কাছে গিয়ে চেকআপের পর জানা গেল সমস্যা শুধু পিরিয়ডের গরমিলে আটকে নেই, রয়েছে অনেক গভীরে।

শেষ আপডেট: 31 August 2025 15:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পিরিয়ডের সময় তীব্র পেটেব্যথা প্রতি মাসের সঙ্গী, এদিকে সঙ্গমের সময়ে প্রতিবার অসহ্য যন্ত্রণা। মা হতে চেয়ে সেখানেও ব্যর্থতা। পরপর সমস্যায় জর্জরিত হয়ে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন বছর ৩৮-এর এক মহিলা। তারপর ডাক্তারের কাছে গিয়ে চেকআপের পর জানা গেল সমস্যা শুধু পিরিয়ডের গরমিলে আটকে নেই, রয়েছে অনেক গভীরে।
সম্প্রতি প্রয়াগরাজের জীবন জ্যোতি হাসপাতালে ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন ও অনকোলজিস্ট অর্পিত বানসাল এক বিরল ও জটিল কেস শেয়ার করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, চিকিৎসা পরীক্ষায় জানা যায়, ওই মহিলার ওভারিতে প্রায় ১৫ সেন্টিমিটারের একটি বিশালাকার ‘চকোলেট সিস্ট’ বা ওভেরিয়ান এন্ডোমেট্রিওমা তৈরি হয়েছে, যা তাঁর পুরো পেলভিক ক্যাভিটি জুড়ে চাপ তৈরি করছিল।
অ্যাডভান্সড এন্ডোমেট্রিওসিসের লক্ষণ
ডাঃ বানসাল জানান, রোগীর সমস্যার লক্ষণগুলো ছিল -
• তীব্র পেটে যন্ত্রণা
• যন্ত্রণাদায়ক যৌন সম্পর্ক
• কোষ্ঠকাঠিন্য
• পিরিয়ডের সময় অসহনীয় ব্যথা
• এমনকী নিত্যদিনের সাধারণ কাজকর্মেও অসুবিধা
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রজনন বয়সি মহিলাদের প্রায় ১০ শতাংশ এন্ডোমেট্রিওসিসে আক্রান্ত হন। এর প্রভাবে অসহ্য ব্যথা, মানসিক ও শারীরিক দুর্বলতা, এবং অনেক সময় বন্ধ্যাত্ব দেখা দেয়।
জটিল কিন্তু কনজারভেটিভ সার্জারি করা হয় ওই রোগীর
রোগীর সন্তান ধারণের ইচ্ছা মাথায় রেখে চিকিৎসকরা ল্যাপরোস্কোপিক সিস্টেকটোমি করার সিদ্ধান্ত নেন। এটি অত্যন্ত কঠিন একটি সার্জারি, কারণ সিস্টটি ছিল বিশাল আকারের ও আশপাশের অঙ্গের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছিল। এর ফলে অন্ত্র ও ব্লাডারের ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি ছিল। তাছাড়া কোনওভাবে সিস্টটি ফেটে গেলে সংক্রমণের আশঙ্কাও ছিল।
সার্জারির সময় ডাক্তাররা প্রথমে সিস্টে একটি ছোট ছিদ্র করে সাকশন ক্যানুলার মাধ্যমে ঘন বাদামি তরল বের করে দেন। ফলে সিস্ট চুপসে গিয়ে অপারেশনটি সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জায়গা তৈরি হয়। পরে ধীরে ধীরে ওভারি থেকে সিস্টের আবরণ আলাদা করে সম্পূর্ণভাবে তুলে ফেলা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় ল্যাপারোস্কোপির মাধ্যমে, ওপেন সার্জারি করার প্রয়োজন হয়নি।
অস্ত্রোপচারের পর মহিলা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। একদিনের মধ্যেই হাঁটাচলা করতে পারায় দু’দিনের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। যে সমস্ত সমস্যা তাঁর জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল, তাও আর নেই।
পরীক্ষার রিপোর্টে সিস্টটি নন-ক্যানসারাস বলে জানা গিয়েছে। আবার যাতে এরকম সমস্যা না হয়, সেজন্য পোস্ট-অপারেটিভ হরমোন থেরাপিও শুরু হয়েছে।