চিকিৎসকরাও প্রথমে ভেবেছিলেন এটা আজকের দিনে স্বাভাবিক ব্যাপার, হয়তো স্ট্রেস বা পিসিওএস (PCOS)।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 23 August 2025 16:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাসের অর্ধেক দিন পিরিয়ড চলছে, সঙ্গে সেই সংক্রান্ত শারীরিক সমস্যা তো রয়েছেই। ২৬ বছরের ওই তরুণী প্রথমে ভেবেছিলেন এটি হয়তো হরমোনজনিত সমস্যা, যা আজকের ব্যস্ত জীবনে খুব সাধারণ একটা সমস্যা হয়ে উঠেছে।
চিকিৎসকরাও বলেছিলেন, স্বাভাবিক ব্যাপার, হয়তো স্ট্রেস বা পিসিওএস (PCOS)। কিন্তু দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শরীরও ভেঙে পড়তে শুরু করল।
অর্থোপেডিক ও স্পোর্টস সার্জন ওবায়দুর রহমান ইনস্টাগ্রামে এই ক্লিনিক্যাল কেস শেয়ার করে জানান, তরুণী ভেবেছিলেন শুধু হরমোনজনিত সমস্যার কারণেই পিরিয়ডের সময়কাল নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু সবথেকে দুশ্চিন্তার বিষয়, এই সমস্যার পেছনে লুকিয়ে ছিল ভিটামিন ডি-এর মারাত্মক ঘাটতি।
ডাঃ রহমান লিখেছেন, “প্রতি মাসে ১০ দিন, ১২ দিন, কখনও ১৫ দিন পিরিয়ডের ব্লিডিং চলত। অনেকের মতো তিনিও ভেবেছিলেন স্ট্রেসের কারণেই এমনটা হচ্ছে। চিকিৎসকরাও বারবার বলতেন, ‘তোমার বয়স এখনও কমের দিকেই, হরমোন শিফট করছে, কিছুদিন অপেক্ষা করো।’ কিন্তু তাঁর এদিকে শরীর ভাঙছে।”
তিনি জানান, ওই তরুণীর পা ব্যথা, গাঁটে গাঁটে জ্বালাভাব, হঠাৎ মুড সুইং, অবসাদ, অতিরিক্ত ক্লান্তি ইত্যাদি নানা উপসর্গ বাড়তে থাকে। একদিন তিনি অফিসের বাইরে অজ্ঞানও হয়ে পড়েন।
তারপর রক্তপরীক্ষার রিপোর্টে জানা যায়, ভিটামিন ডি-র মাত্রা শুধু কমই নয় বরং একেবারেই তমালির দিকে। তাঁর হাড় দুর্বল হয়ে পড়ছিল ভেতর থেকেই, এদিকে হরমোনের ভারসাম্য নিয়েও নানা সমস্যা ধরা পড়ে।
ড. রহমান সতর্ক করেছেন, ভিটামিন ডি কেবল ‘হাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন’ নয়, এটি শরীরের ‘হরমোনাল ব্যাকবোন’।
ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির প্রভাবে কী হতে পারে? (ড. রহমানের মতে)
• দীর্ঘ ও অতিরিক্ত পিরিয়ড ব্লিডিং
• দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি
• মুড সুইং ও পিএমএস (PMS)
• চুল পড়া ও হাড়ে হাড়ে ব্যথা
• ইস্ট্রোজেন ইমব্যালেন্স, এমনকী বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকিও রয়েছে
তিনি আরও জানান, যে মহিলারা ঘরে-বাইরেটা একসঙ্গে সামলান, নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন বা যাঁরা সবসময় শরীর ঢেকে পোশাক পড়েন, তাঁদের মধ্যে এই ঘাটতি বেশি দেখা যায়।
ড. রহমানের বার্তা, “তাঁর কিন্তু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট বা হরমোনাল কোনও ওষুধের দরকার ছিল না। দরকার ছিল শরীরে সূর্যের আলো-রোদ লাগানো, সঠিক তথ্য আর শারীরিক সমস্যা যত্ন নিয়ে শোনার মতো একজন ডাক্তার।’