সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘গাট হেলথ’ নিয়ে একাধিক ট্রেন্ড ভাইরাল এবং চিন্তার বিষয় হল, অনেকেই সবটা যাচাই না করেই অনুসরণ করছেন

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 16 June 2025 14:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে পেট এবং তার সুস্বাস্থ্য। অথচ দৈনন্দিন জীবনের চরম ব্যস্ততায় আমরা শরীরের এই বিশেষ অংশটিকেই সবচেয়ে বেশি অবহেলা করি। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, আপনার পেট ভাল আছে কি না- তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, হরমোনের ভারসাম্য, এমনকী মানসিক সুস্থতাও।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘গাট হেলথ’ নিয়ে একাধিক ট্রেন্ড ছড়িয়ে পড়েছে এবং চিন্তার বিষয় হল, অনেকেই সবটা যাচাই না করেই অনুসরণ করছেন এগুলো। তাই হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিশেষজ্ঞ এবং গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ড. সৌরভ শেঠি সামনে এনেছেন একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ। ২০২৫ সালের ১০টি জনপ্রিয় ‘গাট হেলথ ট্রেন্ড’কে ১ থেকে ১০-এর স্কেলে রেটিং দিয়েছেন তিনি (যেখানে ১০ মানে, সবচেয়ে উপকারী)।
কী বলছেন তিনি জেনে নেওয়া যাক-
১) (ঠান্ডা) আলু বা ভাত- (রেটিং ৫/১০):
বেশ কয়েক বছর ধরেই এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে, কারণ এর মধ্যে থাকা ‘রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ’- পেটে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাবার হিসেবে কাজ করে। তবে ড. শেঠির মতে, এর উপকারিতা খুবই সীমিত, তাই এটি অতিরিক্ত গুরুত্ব পাওয়ার মতো নয়।
২) এল-গ্লুটামিন সাপ্লিমেন্ট- (রেটিং ৬/১০):
অন্ত্রের কোশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই অ্যামিনো অ্যাসিডের। আইবিএস (IBS)-এর মতো পেটের সমস্যায় উপকার হতে পারে এল-গ্লুটামিন সাপ্লিমেন্টে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
৩) অ্যাপল সাইডার ভিনেগার- (রেটিং ৪/১০):
অনেকে এটিকে প্রোবায়োটিক বলে নিয়মিত পান করেন। তবে বড় মাপের গবেষণায় এর কার্যকারিতা এখনো প্রমাণিত হয়নি। ফলে এ বিষয়ে আরও তথ্যের প্রয়োজনীতা রয়েছে।
৪) ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং- (রেটিং ৭/১০):
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করে নিয়মিত সময় মেনে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ রাখলে তা পেটের মধ্যে থাকা ব্যাকটেরিয়াকে ভাল করে কাজ করার সুযোগ করে দেয়। গবেষণায় এর কিছু ইতিবাচক দিক সামনে এলেও, এটি সকলের জন্য সমান কার্যকর নয়।
৫) সিনবায়োটিকস- (রেটিং ৮/১০):
প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক, এই দুইয়ের গুণাগুণ একসঙ্গে অন্ত্রের ভাল ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা ও কার্যক্ষমতা বাড়াতে পারে। এই তথ্যকে নানা বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা সমর্থনও করে।
৬) কার্নিভোর ডায়েট- (রেটিং ৩/১০):
শুধু ননভেজ বা প্রাণিজ খাবার যদি আপনার রোজের ডায়েট হয়, তাহলে তা পেট এবং পুরো স্বাস্থ্যের জন্যই বিপদ ডেকে আনতে পারে। ফাইবারের অভাবে শরীরে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৭) ডিটক্স চা- (রেটিং ২/১০):
সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনায় বারবার উঠে এলেও, এই তথাকথিত ডিটক্স চা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি চর্চায় রয়েছে এবং তেমন কোনও উপকারীতা নেই বললেই চলে।
৮) প্যারাসাইট ক্লেনজ- (রেটিং ১/১০):
প্যারাসাইট ক্লেনজ দাবি করে সাপ্লিমেন্ট ও ডায়েটের মাধ্যমে শরীর থেকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বের করে দেয়া সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে এরকম কিছুর কোনও বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা নেই, উল্টে এই ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে।
৯) হাই ফাইবার ডায়েট- (রেটিং ৯/১০):
ফল, সবজি ও বীজে থাকা ডায়েটারি ফাইবার অন্ত্রে ফার্মেন্টেশন পদ্ধতিতে শরীরের কাজে লাগবে এমন নানারকম উপকারী উপাদান তৈরি করে। এটি পেট ভাল রাখার অন্যতম প্রধান উপায়।
১০) ফার্মেন্টেড খাবার- (রেটিং: ১০/১০):
দই, আচার- এসব ফার্মেন্টেড খাবার প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক হিসেবে কাজ করে এবং অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। ড. শেঠির মতে, পেটের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে ডায়েটে এইসব খাবার রাখা সবচেয়ে কার্যকর অভ্যাস।
বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: এই সংক্রান্ত কোনও মতামত দ্য ওয়ালের নয়। দ্য ওয়াল স্বাস্থ্য / সাজগোজ সম্পর্কিত কোনও সম্পাদকীয় / সম্পাদক-নিয়ন্ত্রিত তথ্য, পরামর্শ প্রদান করে না। প্রদত্ত পরামর্শ ও তথ্য প্রয়োগের আগে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। নিজের মতামতকে গুরুত্ব দিন।