চিকিৎসকরা বলছেন, কিছু লক্ষণ ও খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দিলেই রক্তাল্পতা ঠেকানো সম্ভব।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 6 July 2025 10:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনেকে অজান্তেই ভোগেন রক্তাল্পতায়। বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই গুরুত্ব দেওয়া হয় না, কারণ উপসর্গগুলো সাধারণ ক্লান্তির মতো মনে হয়। অথচ ঠিক সময়ে সচেতন না হলে এই সমস্যা গুরুতর আকার নিতে পারে। চিকিৎসকরা বলছেন, কিছু লক্ষণ ও খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দিলেই রক্তাল্পতা ঠেকানো সম্ভব।
কোন উপসর্গে বুঝবেন আপনি রক্তাল্পতায় ভুগছেন?
দুর্বলতা ও অবসাদ এই রোগের প্রধান লক্ষণ। সারাদিন কাজ করার মতো শক্তি থাকে না, ছোটখাটো কাজেও হাঁপিয়ে গেলে এখনই সাবধান হোন।
ঘন ঘন মাথা ঘোরা বা চোখে অন্ধকার দেখার মতো উপসর্গ থাকতে পারে। হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে বা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে মাথা ঘুরলে তা রক্তাল্পতার উপসর্গ হতে পারে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে এই সমস্যা হয়।
শ্বাসকষ্ট বা দমবন্ধ লাগা যখন তখন। সামান্য হাঁটলেও দম বন্ধ লাগার মানে হল রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি হচ্ছে। রক্তাল্পতা থাকলে এই সমস্যা হয়।
হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া এড়িয়ে গেলে চলবে না। কারণ বুক ধড়ফড় করলে বা অস্বস্তি হলে তা রক্তাল্পতার ইঙ্গিত হতে পারে।
ত্বক ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া, ঠোঁট বা নখের রঙ হালকা গেলে বুঝতে হবে শরীরে রক্ত নেই। এমন হলে বাইরে থেকে দেখেই বোঝা যায়।
কেন বেশি মেয়েদের মধ্যে এই দেখা দেয়?
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, মেয়েদের ঋতুচক্র, গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসবের সময় শরীরে রক্তক্ষয় হয়, ফলে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায়। সেই সঙ্গে অনেকেই নিয়মিত আয়রনযুক্ত খাবার খান না বা খেলে সঠিকভাবে শোষণ হয় না, তাতেই সমস্যা আরও বাড়ে।
কী খাবেন রক্তাল্পতা প্রতিরোধ ও মোকাবিলায়?
চিকিৎসক অনির্বাণ দত্ত জানাচ্ছেন, শরীরে আয়রনের ঘাটতি মেটাতে হবে প্রথমেই। তার জন্য নিয়মিত কিছু খাবার ডায়েটে রাখা প্রয়োজন। তিনি এক্ষেত্রে পালং শাক, মেথি শাক, কলমি শাক খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কারণ এতে আয়রন থাকে প্রচুর পরিমাণে।
এছাড়া চিকেন লিভার বা মাছ খাওয়া যেতে পারে। ডায়েটে রাখতে পারেন ডিমও। আয়রন পাবেন চিঁড়ে, তিল, ছোলা, কিশমিশ, ফলে মধ্যে আপেল, ডালিম, খেজুর, কলা ইত্যাদিতে। হিমোগ্লোবিন বাড়াতে কমলালেবু, লেবু, আমলকিও খেতে পারেন।
কী কী এড়িয়ে চলবেন?
অতিরিক্ত চা ও কফি খেলে আয়রনের শোষণে ব্যাঘাত ঘটে। তাই খাবারের সঙ্গে বা ঠিক পরে চা-কফি না খাওয়াই ভাল, বলছেন চিকিৎসক।
আয়রনের সাপ্লিমেন্ট খেলে দুধ জাতীয় খাবার একসঙ্গে খাবেন না।
উপরের উপসর্গগুলো নিয়মিত হতে থাকলে বা হিমোগ্লোবিন ১০-এর নীচে নেমে গেলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা ও আয়রনের ওষুধ দেওয়া হতে পারে।