সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কি সত্যিই বাড়ছে একাকিত্ব? মনোবিদ বলছেন কেন অনলাইন দুনিয়া অনেককে আরও বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে, জানুন বিস্তারিত।

ছবি - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 28 November 2025 21:05
বাচ্চা পড়ছে না, সোশ্যাল মিডিয়ার দোষ। স্কুলে চারটে বাজে কথা বলে ফেলছে তাও ওই সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য। বাড়িতে কেউ নিজেদের মধ্যে কথা বলছেন না, ফোনে ব্যস্ত, সেটিও সোশ্যাল মিডিয়ার (Social Media) দৌরাত্মের ফলেই! এখন খারাপ যা হচ্ছে, সবই এই মাধ্যমের ঘাড়ে পড়ছে। মানসিক স্বাস্থ্যও রয়েছে সেই তালিকায় (Mental Health)।
এই যেমন অনেকেই একাকিত্ব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াকে দুষছেন আজকাল। বলছেন, 'আগে এসব ছিল না, এখন সবাই কেমন একা। এতকিছুর থাকা সত্ত্বেও একাকিত্বে ভুগছেন।' এই কথা কি আদৌ সত্যি? (Loneliness) দ্য ওয়ালের তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল মনোবিদ ঐন্দ্রিলা চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তিনি পুরো বিষয়টি নিয়ে একটা ধারণা দিলেন আমাদের।
সোশ্যাল মিডিয়ার ভাল দিক রয়েছে, সেই তত্ত্ব বোঝানোর পাশাপাশি জানালেন, 'যা রটে তার কিছুটা তো বটে!' সোশ্যাল মিডিয়াকে সকলে শুধু শুধু দোষারোপ করেন, এমন নয়। একাকিত্ব-সহ অন্যান্য মানসিক সমস্যার সঙ্গেও এটি যুক্ত (Psychology)।
কীভাবে? সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই, সকলের ভাল থাকার ছবি-ভিডিও। এই মাধ্যমে কেউ দুঃখে নেই সেঅর্থে। সকলের ভাল থাকা একাকিত্বের শুরু নয় কিন্তু সকলের ভাল থাকা দেখে নিজেকে ঠিক সেই জায়গায় জাজ করা, একাকিত্বের কারণ হতে পারে। মনোবিদ বলছেন, 'ধরুন আপনার মাথায় ছিল না আপনি একা। সোশ্যাল মিডিয়া খুললেন, দেখলেন আপনার কোনও বন্ধু, পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়েছে, খাওয়া দাওয়া করছে। তারা আপনাকে ডাকেনি, হতেই পারে, এতে ভুল বা খারাপ কিছু নেই। তাদের সিদ্ধান্ত এটা। ছবি দেখে এবার আপনার মনে হল, জীবনে আর কেউ নেই, খুব একা।'
এখানেই প্রশ্ন তুললেন তিনি। এই মুহূর্তে মনে হওয়া 'একা' কথাটা কি সত্যি? তারা যেমন খুশি আছে, আপনিও কিন্তু খুশিই আছেন আপনার মতো করে। ওখানে গেলে যে আপনার ভাল লাগতই, এর কোনও গ্যারান্টি নেই। কিন্তু আপনার মনে হতে শুরু করল, আপনি ভাল নেই।
ঐন্দ্রিলা এখানে তুলনা করার বিষয়টাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। বলেন, 'আজকাল আমরা সব কিছুর সঙ্গে নিজেকে তুলনা করে ফেলি। হয়তো পরিবারের কেউ এই কাজ করলে রেগে যাই কিন্তু তুলনা নিজেরাই অজান্তে করে ফেলি। ও কাশ্মীর গেছে, ইস আমার এখনও যাওয়া হল না। ও গাড়ি কিনে ফেলছে, আমাদের এখনও একটাও হল না। কারও ছবিতে বেশি লাইক পড়ল, আমার পড়ল না মানে আমি আর কিছু করতে পারছি না, আমার দ্বারা কিছু হবে না। কেউ আমায় ভালবাসে না।'
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এই বিষয়টা খুবই প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন তিনি। বিশেষ করে জেন জি-র জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মনোবিদের একটাই পরামর্শ। সবকিছু সকলের কাছে থাকবে, তার কোনও মানে নেই, এমন হয়ও না। সব জায়গায় যেতে হবে, ভাল লাগবে এমনও নয়। মেনে নিতে হবে এবং বুঝতে হবে, নিজে কেন ভাল আছি এবং নিজের কাছে কী আছে, যা সত্যিই কারও কাছে বা হয়তো সকলের কাছেই নেই। তাহলেই এই তুলনা করার বিষয়টি এবং তা থেকে তৈরি হওয়া একাকিত্ব খানিকটা কমবে।
পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা নিয়ন্ত্রণ রেখা টানার পরামর্শও দেন তিনি (Control Social Media activity)। যাতে কী দেখতে চাই কী চাই না, সেটা যেন নিজেরাই ঠিক করি।