শুধু পেট, কোমরের যন্ত্রণাই নয়, এন্ডোমেট্রিওসিস তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 September 2025 21:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজকাল এন্ডোমেট্রিওসিস একটা এমন সমস্যা, বেশিরভাগ মহিলাই তাতে আক্রান্ত। প্রতি মাসে পিরিয়ড আসলেই আতঙ্কে ভোগেন তাঁরা। শুধু পেট, কোমরের যন্ত্রণাই নয়, এন্ডোমেট্রিওসিস তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হল ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা ও মানসিক চাপ। চিকিৎসকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা ব্যথা শরীরকে ভেতর থেকে ক্রমশ দুর্বল করে তোলে এবং অনেক ক্ষেত্রেই এর সঙ্গে যোগ হয় ফাইব্রোমায়ালজিয়া - যেখানে পেশী-জয়েন্টের ব্যথা, ব্রেন ফগ ও শরীরে অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা দেখা দেয়।
কেন আসে অবসাদ আর ক্লান্তি?
• ইনফ্লেমেশন বা প্রদাহ: ইউটেরাসের বাইরে অস্বাভাবিক টিস্যু বৃদ্ধি শরীরে ক্রনিক ইনফ্লেমেশন তৈরি করে, যা শরীরকে দুর্বল করে তোলে।
• ঘুমের ব্যাঘাত: ব্যথার কারণে ঘুম গভীর হয় না, ফলে শরীর পুনরুদ্ধার করতে পারে না। এনার্জি কমতে থাকে।
• হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের অস্বাভাবিকতা শক্তি, মুড সুইং ও ব্যথা শরীরের সহ্যক্ষমতায় প্রভাব ফেলে।
• মানসিক চাপ: অবিরাম ব্যথা ডিপ্রেশন ও অ্যাংজাইটি বাড়ায়, যা ক্লান্তি আরও বাড়িয়ে তোলে।
এন্ডোমেট্রিওসিস ও ফাইব্রোমায়ালজিয়ার গভীর যোগসূত্র রয়েছে
গবেষণা বলছে, এন্ডোমেট্রিওসিস আক্রান্ত মহিলাদের ফাইব্রোমায়ালজিয়ার ঝুঁকি বেশি। কারণ, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা স্নায়ুতন্ত্রে ব্যথা প্রক্রিয়াকরণের ধরন বদলে দেয়। এর ফলে শরীর আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। দুই অবস্থাতেই দেখা যায় পেশী ও গাঁটে ব্যথা, ঘুমের সমস্যা, ব্রেন ফগ, মানসিক অবসাদ এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনে ব্যথা বাড়তে পারে।
কীভাবে কমানো যায় উপসর্গ?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক চিকিৎসা ও জীবনধারার পরিবর্তনে ক্লান্তি ও ফাইব্রোমায়ালজিয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। কী কী করা যেতে পারে? চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ ব্যবহার বা বিকল্প ব্যথা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, হরমোন থেরাপি করানো যেতে পারে।
এছাড়া প্রদাহ কমাতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। নিয়মিত ব্যায়াম ও যোগব্যায়াম করতে পারেন। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে কাউন্সেলিং-ও ভাল অপশন। হোমিওপ্যাথি কিছু ক্ষেত্রে ব্যথা, ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।
তাই, এন্ডোমেট্রিওসিসকে শুধু পেলভিক ব্যথা ভেবে হালকা করে নেওয়া উচিত নয়। এটি শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর বহুভাবে প্রভাব ফেলে। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে ব্যথা কমে, ঘুম ভাল হয় এবং ফাইব্রোমায়ালজিয়ার মতো জটিলতা এড়ানো সম্ভব। ক্লান্তিও ধীরে ধীরে কমতে থাকবে।