কিছু অভ্যাসের ফলে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগে তো বটেই, মানসিক স্থিতির ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। সময় থাকতে সচেতন হলে এই ক্ষতি অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 10 July 2025 16:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রেনের স্বাস্থ্য রক্ষা মানে শুধু স্মৃতিশক্তির খেয়াল রাখা তাই নয় – এর ওপর নির্ভর করে আত্মবিশ্বাস এবং জীবনের গুণগত মানও। ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেল্থ সার্ভিসের (NHS) চিকিৎসক আমির খান সম্প্রতি একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে এমন পাঁচটি দৈনন্দিন অভ্যাসের কথা বলেছেন, যা অজান্তেই আমাদের ব্রেনকে দ্রুত বার্ধক্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ডা. খান জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রেনের স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নাহলে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগে তো বটেই, পাশাপাশি মানসিক স্থিতির ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। তবে সময় থাকতে সচেতন হলে এই ক্ষতি অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বেশ কিছু অভ্যাস আছে, তা সময়ের আগেই ব্রেনকে ‘বুড়িয়ে’ দেয়:
১) বারবার একসঙ্গে একাধিক কাজ (Multitasking)
ডা. খান বলছেন, ‘আমরা ভাবি একসঙ্গে অনেক কাজ করছি মানেই প্রোডাক্টিভিটি বাড়ছে, কম সময়ে বেশি কাজ হচ্ছে। কিন্তু আসলে তা নয়।’ বারবার এক কাজ থেকে আরেক কাজে লাফানোর ফলে ব্রেনের উপর বাড়তি চাপ বাড়ে। এতে শর্ট-টার্ম মেমোরি দুর্বল হয়ে যায়, কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়ে এবং আস্তে আস্তে ফোকাস ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ কমে যেতে থাকে।
২) দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের ঘাটতি (Less Sleep)
"প্রতিটি খারাপ ‘রাতের ঘুম’ আমাদের স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগে প্রভাব ফেলে," সতর্ক করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে গভীর ঘুম না হলে ব্রেনের 'লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম' ঠিকমতো কাজ করে না, আর এটাই ব্রেনের ‘আবর্জনা পরিস্কার’ করার ব্যবস্থা। এর ফলে ব্রেনে প্লাক জমতে শুরু করে, যা অ্যালঝাইমার্স ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
৩) লাগাতার স্ক্রল করা (Doom Scrolling)
সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে স্ক্রলিং করলে ব্রেন অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে পড়ে। "এতে স্ট্রেস হরমোন বাড়ে, ডোপামিন সেনসিটিভিটি কমে যায়, ফলে স্মৃতিশক্তি ও মেজাজে খারাপ প্রভাব পড়ে," জানান তিনি। বিশেষ করে রাতে ফোন বা ট্যাবলেটের নীল আলো মেলাটোনিন নিঃসরণে বাধা দেয়, যার ফলে গভীর ঘুম ব্যাহত হয়।
৪) মিল স্কিপ করা, বিশেষ করে ব্রেকফাস্ট
ডা. খান বলছেন, "গ্লুকোজই ব্রেনের আসল জ্বালানি।" ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কখনও কখনও উপকারী হলেও, নিয়মিত খাবার না খেলে মনোযোগ কমে যায়, দেখা দেয় 'ব্রেন ফগ'। বিশেষ করে ব্যস্ত দিন, হরমোনের ওঠানামার সময় ব্রেকফাস্ট না করলে মনোযোগের সমস্যা দেখা দেয়।
৫) একাকীত্ব বা সামাজিক যোগাযোগের অভাব
ডা. খানের মতে, ‘সামাজিক যোগাযোগ মস্তিষ্কের পক্ষে রক্ষাকবচের মতো কাজ করে।’ একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, একাকীত্বে থাকা মানুষের জন্য এটি দিনে ১৫টি সিগারেট খাওয়ার সমান ক্ষতিকর। নিছক হালকা আড্ডাও মানসিক স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখতে বড় ভূমিকা নেয়। এটি ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমায়।