স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকের মতো বিপদ বলে আসে না, আর যখন আসে দেখা যায় তার পেছনে উচ্চ রক্তচাপের বিশাল প্রভাব (high blood pressure effects) রয়েছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 8 November 2025 17:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ থেকে কিছু বছর আগেও হাই ব্লাড প্রেশার (high blood pressure) বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা একটু বেশি বয়সের মানুষের মধ্যেই দেখা যেত। এখন এই ব্যস্ততার যুগে অনেক অল্প বয়সিদের মধ্যেও হাই ব্লাড প্রেশারের (hypertension) সমস্যা আসতে শুরু করেছে। উচ্চ রক্তচাপ শুধু নিজে একটা সমস্যা এমনটা নয়, পাশাপাশি আরও অনেক শারীরিক সমস্যাও ডেকে আনে। তাই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা আজকের এই ডিজিটাল যুগে রীতিমতো একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক বা হার্ট ফেলিওরের মতো বড়সড় বিপদ বলে আসে না, আর যখন আসে তখন দেখা যায় তার পেছনে উচ্চ রক্তচাপের এক বিশাল প্রভাব (high blood pressure effects) রয়েছে।
নিউইয়র্কের খ্যাতনামা কার্ডিওলজিস্ট ইভান লেভিন জানালেন, উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসারের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়েই শরীরে কোনও লক্ষণ দেখা দেয় না, এদিকে চুপচাপ রক্তচাপ বাড়তে থাকে - তাই একে বলা হয় সাইলেন্ট কিলার বা ‘নীরব ঘাতক’।
ড. লেভিন, যিনি মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত এবং ৩০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞ কার্ডিওলজিস্ট, গত ৩ সেপ্টেম্বর ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেন, “Do you know the most common symptom of high blood pressure?” - অর্থাৎ, উচ্চ রক্তচাপের সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গ কী?
কোনও উপসর্গ ছোটখাট মনে হলেও অবহেলা করা ঠিক নয়
উচ্চ রক্তচাপের ওইভাবে কোনও লক্ষণ না থাকলেও ড. লেভিন কিছু উপসর্গের কথাও উল্লেখ করেন, যেগুলি অবহেলা করা উচিত নয়। তিনি বলেন -
মাথাব্যথা - তা পুরো মাথাজুড়ে হতে পারে, বা বিশেষ করে মাথার পেছনে।
চোখে ঝাপসা দেখা - এটি উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম সাধারণ লক্ষণ।
শ্বাসকষ্ট - হাঁটার সময়। গুরুতর পরিস্থিতিতে বিশ্রামের সময়েও শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
বুক ধড়ফড় বা ব্যথা - অ্যাঞ্জাইনার মতো অনুভূত হয়, কারণ হার্টকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়।
নাক দিয়ে রক্ত পড়া - যাকে আমরা epistaxis বলি।
প্রস্রাবে ফেনা হওয়া - যা শরীরে অতিরিক্ত প্রোটিন ক্ষয়ের ইঙ্গিত দেয়।”
‘সাইলেন্ট কিলার’ কেন বলা হয় হাই ব্লাড প্রেসারকে?
ভিডিওতে তিনি বলেন, “এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ বলে আসলে কিছু থাকেই না। এ কারণেই হাই ব্লাড প্রেসারকে silent killer বলা হয়। নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করানোই একমাত্র উপায়।”
ডাঃ লেভিনের কথায়, “সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হল, যেহেতু অনেক সময় শরীরে কোনও উপসর্গই থাকে না মানুষ ভাবেন সব ঠিক আছে, কিন্তু হঠাৎ একদিন দেখা যায়, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা হার্ট ফেইলিউর হয়ে গেল। তাই অন্তত বছরে একবার রক্তচাপ পরীক্ষা করানো জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “যদি চিকিৎসকের কাছে যাওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে ঘরোয়া ব্লাড প্রেসার মনিটর ব্যবহার করুন। নিজের যত্ন নিন, কারণ এই অসুখের সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গটাই হল কোনও উপসর্গ নেই।”