পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৪০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে এই ধরনের অস্বাভাবিক লক্ষণই প্রথম দেখা যায়, শুধু বুকে ব্যথা নয়। শরীর কী বলছে, সেটার দিকে মন না দিলে বিপদ অনিবার্য।

শেষ আপডেট: 31 January 2026 12:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'হার্ট অ্যাটাক' (Heart Attack) শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে সিনেমার দৃশ্য - কেউ হঠাৎ বুক চেপে ধরে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা অনেকটাই আলাদা। কার্ডিওলজিস্টদের মতে, হার্ট অ্যাটাক সব সময় এত নাটকীয় ভাবে আসে না (cardiologist advice heart attack)। অনেক ক্ষেত্রেই লক্ষণ এতটাই সূক্ষ্ম হয় যে, সহজেই তা উপেক্ষা করেন রোগী বা তাঁর পরিবার (heart attack warning signs)।
চোয়ালে হালকা ব্যথা, আচমকা হাতে যন্ত্রণা, অকারণ ক্লান্তি, এমনকী ফ্লু-র মতো উপসর্গ - এই সবই হতে পারে হার্ট অ্যাটাকের আগাম সংকেত। আর এই “নীরব” সতর্কবার্তাগুলো (Heart Attack Atypical Symptoms) সময়মতো বুঝে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছতে পারলেই বাঁচতে পারে প্রাণ।
নিউ ইয়র্কের প্রখ্যাত কার্ডিওভাসকুলার বিশেষজ্ঞ ইভান লেভিন, যাঁর অভিজ্ঞতা প্রায় ৩০ বছরের, সম্প্রতি এই নিয়েই গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা দিয়েছেন। ইন্টারনাল মেডিসিন, কার্ডিওলজি এবং নিউক্লিয়ার কার্ডিওলজিতে বোর্ড সার্টিফায়েড এই চিকিৎসকের দাবি, প্রায় ৪০ শতাংশ হার্ট অ্যাটাক রোগীর ক্ষেত্রে দেখা যায় ‘অ্যাটিপিক্যাল’ বা অস্বাভাবিক উপসর্গ। বিশেষ করে মহিলা ও বয়স্কদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি।
ডা. লেভিনের কথায়, নিজের শরীর কী বলছে, সেটার দিকে মন না দিলে বিপদ অনিবার্য।
ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা এক মর্মান্তিক ঘটনা
চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে ডা. লেভিন তুলে ধরেন এক এমনই ঘটনার কথা, যেখানে হার্ট অ্যাটাকের কোনও 'স্বাভাবিক' উপসর্গ ছিলই না।
এক বৃদ্ধার বাঁ হাতে ব্যথা হচ্ছিল। তাঁকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা সেটাকে সাধারণ মাংসপেশির টান (muscle strain) বলে ধরে নেন এবং তাঁকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরিবারের লোকজন বারবার জানান, সারাদিন তিনি প্রায় নড়াচড়াই করেননি। কিন্তু সেই কথা কেউ গুরুত্ব দেননি।
ডা. লেভিন জানান, বাড়ি ফেরার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই ওই মহিলা নিজের গ্যারাজের মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে মারা যান। তিনি আরও বলেন, হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ বলতে যদি শুধু বুকের ব্যথার অপেক্ষায় থাকেন, তাহলে হয়তো নিজের শেষকৃত্যের অপেক্ষাই করছেন।
কী এই ‘অ্যাটিপিক্যাল’ বা 'অস্বাভাবিক' হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ?
ডা. লেভিনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যখন হার্টের মাসলগুলি পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না, তখন স্নায়ুগুলো বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। ফলে ব্যথার সিগন্যাল সব সময় বুকে আসে না, শরীরের অন্য জায়গাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তিনি বলেন,
এই সবই হতে পারে হার্ট অ্যাটাকের ইঙ্গিত।
পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৪০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে এই ধরনের অস্বাভাবিক লক্ষণই প্রথম দেখা যায়, শুধু বুকে ব্যথা নয়।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
ডা. লেভিন বিশেষ ভাবে সতর্ক করছেন, মহিলা এবং ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণদের মধ্যে অ্যাটিপিক্যাল উপসর্গ বেশি দেখা যায়। তাই জরুরি বিভাগে গেলে শুধুমাত্র “স্ট্যান্ডার্ড” লক্ষণের উপর নির্ভর না করে, রোগী যা বলছেন সবটাই গুরুত্ব দিয়ে শোনা অত্যন্ত জরুরি। না হলে রোগ নির্ণয়ে ভুলের ঝুঁকি থেকে যায়।
ওই বৃদ্ধা মহিলার ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বয়স বাড়লে ব্যথা অনুভব করার ধরন বদলে যায়। প্রবীণদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক দেখতে পারে -
আর মহিলাদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও গভীর। ডা. লেভিনের বক্তব্য, পরিসংখ্যান অনুযায়ী তাঁদের অনেক সময়ই বলা হয় এটি অ্যাংজাইটি, অ্যাসিডিটি বা স্ট্রেস। ফলে প্রকৃত সমস্যা ধরা পড়ে দেরিতে।
শরীরের কথা শুনুন - এটাই সবচেয়ে বড় চিকিৎসা
ডা. লেভিন বারবার একটাই কথা বলছেন, নিজের শরীরের সতর্কবার্তাকে কখনও হালকা ভাবে নেবেন না।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, নাভি থেকে শুরু করে চোয়াল পর্যন্ত শরীরের যে কোনও জায়গায় যদি হঠাৎ ব্যথা শুরু হয়, কিংবা কোনও কারণ ছাড়াই ঘাম হতে থাকে, আর যদি আপনার হার্টের ঝুঁকির কারণ (risk factors) থাকে - তাহলে সেটাকে হার্ট অ্যাটাক বলেই ধরে নিতে হবে, যতক্ষণ না কোনও কার্ডিওলজিস্ট প্রমাণ করছেন যে তা নয়।
তাঁর পরামর্শ, এমন কোনও রোগ নির্ণয় মেনে নেবেন না, যা আপনার শরীরের জানান দেওয়া উপসর্গের সঙ্গে মিলছে না। যদি মনে হয়, জোর দিয়ে বলুন, টেস্ট বা প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং করতে।
ডা. লেভিনের কড়া বার্তা, বুকের ব্যথা পর্যন্ত অপেক্ষা করা বন্ধ করুন। অন্যান্য এমন অনেক অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দেয়, যা সময়মতো খেয়াল করলে জীবন বাঁচানো সম্ভব।