Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
রহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্ট

একবার অ্যান্টিবায়োটিক খেলেই পেটের ক্ষতি ৮ বছর! সদ্যোজাতদের শরীরেও বাড়ছে বিপদ, দাবি গবেষণায়

সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা প্রায় ১৫,০০০ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর এই গবেষণা চালিয়েছেন। মানুষের মলের নমুনা এবং প্রেসক্রিপশন ড্রাগ রেজিস্ট্রির তথ্য মিলিয়ে দেখা গেছে, যারা গত ৮ বছরের মধ্যে একবারও অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েছেন, তাদের পেটের অণুজীবের বৈচিত্র্য বা 'মাইক্রোবিয়াল ডাইভারসিটি' যারা ওষুধ খাননি তাদের তুলনায় অনেক কম।
 

একবার অ্যান্টিবায়োটিক খেলেই পেটের ক্ষতি ৮ বছর! সদ্যোজাতদের শরীরেও বাড়ছে বিপদ, দাবি গবেষণায়

বুঝে খান অ্যান্টিবায়োটিক

জিনিয়া সরকার

শেষ আপডেট: 14 March 2026 16:46

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অ্যান্টিবায়োটিক (Antibiotic) মানেই আমরা ভাবি ম্যাজিকের মতো অসুখ সেরে যাওয়া। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠটা কি আমরা ভেবে দেখেছি? সম্প্রতি সুইডেনের এক বিশাল গবেষণায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গবেষকরা বলছেন, মাত্র এক বারের অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স আপনার পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সাম্রাজ্য বা 'গাট মাইক্রোবায়োম (Gut Microbes)' ওলটপালট করে দিতে পারে, যার রেশ থেকে যেতে পারে বছরের পর বছর।

নয়া গবেষণা কী বলেছে!

সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Uppsala University) গবেষকরা প্রায় ১৫,০০০ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর এই গবেষণা চালিয়েছেন। মানুষের মলের নমুনা এবং প্রেসক্রিপশন ড্রাগ রেজিস্ট্রির তথ্য মিলিয়ে দেখা গেছে, যারা গত ৮ বছরের মধ্যে একবারও অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েছেন, তাদের পেটের অণুজীবের বৈচিত্র্য বা 'মাইক্রোবিয়াল ডাইভারসিটি' যারা ওষুধ খাননি তাদের তুলনায় অনেক কম।

গবেষণায় দেখা গেছে, একজন সুস্থ মানুষের পেটে গড়ে ৩৫০ ধরনের স্বতন্ত্র ব্যাকটেরিয়া থাকে। কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে সেই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে যায়।

কোন ওষুধ কতটা ভয়ংকর?

গবেষণা বলছে, সব অ্যান্টিবায়োটিক একভাবে ক্ষতি করে না। তিনটি নির্দিষ্ট ওষুধ গাট মাইক্রোবায়োমের সবথেকে বেশি ক্ষতি করে:

১. ক্লিন্ডামাইসিন (Clindamycin): দাঁত বা ত্বকের সংক্রমণের জন্য এটি দেওয়া হয়। এটি সবথেকে বেশি ক্ষতিকর। দেখা গেছে, এই ওষুধ খেলে গড়ে ৪৭টি প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া চিরতরে হারিয়ে যায়।

২. ফ্লুরোকুইনোলনস (Fluoroquinolones): ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা শ্বাসকষ্টের সমস্যায় বহুল ব্যবহৃত এই ওষুধটিও গড়ে ২০টি প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

৩. ফ্লুক্লক্সাসিলিন (Flucloxacillin): স্ট্যাফিলোকক্কাস সংক্রমণের জন্য ব্যবহৃত এই ওষুধটিও পেটের অণুজীবের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে নষ্ট করে।

তাছাড়া এদেশে অতি ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক অ্যামক্সিসিলিন ((Amoxicillin) আর অ্যাজিথ্রোমাইসিন (Azithromycin। যেগুলোর অযাচিত ব্যবহার গাট ব্যকটিরিয়া নষ্ট করেছে ও তার সঙ্গে বাড়াচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের সমস্যা।

কেন এই ক্ষতি সারছে না?

সুইডেনের গবেষণার সিনিয়র লেখক তোভে ফল জানিয়েছেন, অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পর প্রথম দুই বছর শরীর কিছুটা রিকভার করলেও, তারপর সেই সুস্থ হওয়ার গতি থমকে যায়। অর্থাৎ, আট বছর পরেও দেখা গেছে শরীরের মাইক্রোবায়োম পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফেরেনি। অন্য এক গবেষকের মতে, "গাট ডাইভারসিটি" কমে যাওয়া মানেই স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ (IBD)-র মতো দীর্ঘমেয়াদী রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেওয়া।

চিকিৎসকরা কী বলছেন?

অ্যান্টিবায়োটিকের এই দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এরাজ্যের বিশিষ্ট চিকিৎসকও। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জেরিয়াট্রিক স্পেশ্যালিস্ট ডা. অরুণাংশু তালুকদার জানান, বাংলার ঘরে ঘরে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ এবং ভুল ব্যবহার এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।

তাঁর মতে, এরাজ্যের সাধারণ মানুষের বড় অংশই অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ব্যবহার জানেন না। তাই আজকের দিনে সবথেকে বড় সংকট হল অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে উপকারী গাট ব্যাকটিরিয়া নষ্ট হওয়া ও তার সঙ্গে 'অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স' হয়ে যাওয়া। মানুষ সামান্য শরীর খারাপেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজের ইচ্ছেমতো এই ওষুধ খান, আবার অনেক সময় কোর্সের মাঝপথেই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন। এর ফলে ব্যাকটেরিয়াগুলো ওই ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলছে। পরবর্তীকালে কোনও বড় সংক্রমণ হলে সেই রোগীকে সুস্থ করে তোলাটাই চিকিৎসকদের কাছে মস্ত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”

তিনি আরও এক বিপদের কথা জানিয়েছেন। ডা. তালুকদারের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের এই ধারা এখন মায়ের শরীর থেকে ভ্রূণের শরীরেও ছড়িয়ে পড়ছে। যার ফলে অনেক সময় সদ্যোজাত শিশুরা সংক্রমণের শিকার হলে দেখা যায় স্বাভাবিক অ্যান্টিবায়োটিকে তাদের কাজ হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের বিশেষ লাইফ সাপোর্টে রেখে তবেই সুস্থ করা সম্ভব হচ্ছে।

তাই একদিকে যেমন পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা গাট মাইক্রোবায়োম ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক কাজই করছে না- এই দুই বিপদের কবলে এখন অধিকাংশ মানুষ। এখনই সচেতন না হলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। তাই কথায় কথায় নিজের মর্জি মতো অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার অভ্যাস দ্রুত বদলানো প্রয়োজন।

প্রোবায়োটিক কি সমাধান?

অনেকেই ভাবেন অ্যান্টিবায়োটিকের পর দই বা প্রোবায়োটিক খেলে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, প্রোবায়োটিক যে মাইক্রোবায়োম রিকভারিতে সাহায্য করে, তার কোনও জোরালো প্রমাণ এখনও মেলেনি। বরং কিছু ক্ষেত্রে এটি রিকভারির প্রক্রিয়াকে আরও ধীর করে দিতে পারে।

ওষুধ ছাড়বেন না, তবে সচেতন হোন
গবেষকরা কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিক খেতে নিষেধ করছেন না। তাঁদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিক একটি 'মিরাকল ড্রাগ' যা প্রাণ বাঁচায়। তবে সমস্যাটা হলো 'ওভার-ইউজ' বা অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার নিয়ে। সামান্য সর্দি-জ্বরেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া মানে নিজের অজান্তেই পেটের সুরক্ষা কবচ ধ্বংস করা। তাই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হন। 


```