মেনোপজের সময় নারী শরীরে ইস্ট্রোজেন (Estrogen) এবং প্রোজেস্টেরন (Progesterone) হরমোনের ক্ষরণ নাটকীয়ভাবে কমে যায়। ইস্ট্রোজেন কেবল প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য নয়, শরীরের বিভিন্ন কলার (tissue) আর্দ্রতা ও স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। যখনই এর অভাব ঘটে, চোখের কর্নিয়া ও অন্যান্য অংশ শুষ্ক হয়ে পড়ে। ফলে দৃষ্টিশক্তিতে তারতম্য আসা অস্বাভাবিক নয়।
.jpeg.webp)
মেনোপজ হলে চোখের বিশেষ যত্ন নিন
শেষ আপডেট: 14 March 2026 15:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেনোপজ (Menopause) বা ঋতুনিবৃত্তি একজন নারীর জীবনের এক অনিবার্য সন্ধিক্ষণ। এই সময়ে শরীরে হরমোনের যে ব্যাপক ওঠানামা চলে, তার প্রভাব পড়ে মাথা থেকে পা পর্যন্ত। আমরা সাধারণত হট ফ্ল্যাশ, মেজাজ হারানো বা হাড়ের সমস্যার (Bone Problem) কথা ভাবি, কিন্তু আড়ালে থেকে যায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ— চোখ (Eye)।
অনেকেই জানেন না যে, মেনোপজের কারণে চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে বা সারাক্ষণ অস্বস্তি লেগেই থাকতে পারে। তাই এই ব্যাপারটা সর্বক্ষণই অবহেলা করেন বেশিরভাগ মহিলা।
হরমোন যখন চোখের শত্রু!
মেনোপজের সময় নারী শরীরে ইস্ট্রোজেন (Estrogen) এবং প্রোজেস্টেরন (Progesterone) হরমোনের ক্ষরণ নাটকীয়ভাবে কমে যায়। ইস্ট্রোজেন কেবল প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য নয়, শরীরের বিভিন্ন কলার (tissue) আর্দ্রতা ও স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। যখনই এর অভাব ঘটে, চোখের কর্নিয়া ও অন্যান্য অংশ শুষ্ক হয়ে পড়ে। ফলে দৃষ্টিশক্তিতে তারতম্য আসা অস্বাভাবিক নয়। যারা চশমা বা কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন, এই সময়ে তাদের সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
মেনোপজে চোখের যে ৫টি সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি
হরমোনের কারসাজিতে আপনার চোখে কী কী বদল আসতে পারে, তা আগেভাগেই জেনে রাখা ভাল:
১. ড্রাই আই বা চোখের শুষ্কতা: এটি সবথেকে সাধারণ সমস্যা। ইস্ট্রোজেন কমলে চোখের জল তৈরির প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়। চোখ জ্বালা করা, চুলকানি বা চোখে বালি ঢুকে থাকার মতো একটা খসখসে অনুভূতি হতে পারে।
২. ঝাপসা দৃষ্টি: কর্নিয়ার পুরুত্ব ও আকারে সূক্ষ্ম পরিবর্তন আসায় মাঝেমধ্যেই সব কিছু ঘোলাটে মনে হতে পারে। একবার পরিষ্কার দেখছেন, তো পরের মুহূর্তেই সব অস্পষ্ট— এমনটা হলে বুঝবেন হরমোনের প্রভাব পড়ছে।
৩. আলোয় সংবেদনশীলতা (Light Sensitivity): তীব্র আলো সহ্য করতে না পারা বা কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে বেশিক্ষণ তাকালে মাথাব্যথা হওয়া মেনোপজের অন্যতম উপসর্গ হতে পারে।
৪. চশমার পাওয়ার বদল: এই সময়ে চোখের ফোকাস করার ক্ষমতা কমে যেতে পারে, যার ফলে ঘন ঘন চশমার পাওয়ার পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে রিডিং গ্লাস বা কাছের জিনিস পড়ার ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়ে।
৫. গুরুতর রোগের ঝুঁকি: হরমোনের এই ভারসাম্যের অভাব পরোক্ষভাবে ছানি (Cataract), গ্লুকোমা বা ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
গভীর প্রভাব: কর্নিয়া থেকে রেটিনা
এটি শুধু ওপর ওপর হওয়া কোনো অস্বস্তি নয়। হরমোনের ঘাটতি চোখের গভীরেও প্রভাব ফেলে:
জীবনযাত্রার কোন ভুলগুলো সমস্যা বাড়িয়ে দিচ্ছে?
আপনার রোজকার কিছু অভ্যেস কিন্তু এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে:
স্বস্তি পেতে কী করবেন?
মেনোপজকে তো আর এড়ানো যাবে না। তাই কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকুন।
কখন সতর্ক হবেন?
যদি হঠাৎ করে দৃষ্টিশক্তি কমে যায়, চোখে প্রচণ্ড ব্যথা হয় বা চোখের সামনে ভাসমান বিন্দুর (Floaters) আধিক্য বেড়ে যায়— তবে এক মুহূর্ত দেরি না করে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হন।
মেনোপজ মানেই জীবনে পরিবর্তন আসা- এটা ঠিকই। কিন্তু একটু সচেতন থাকলে সেইসব পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব। হরমোনের প্রভাবে চোখের যে সমস্যাগুলো দেখা দেয়, তা সঠিক যত্ন আর সচেতনতায় অনায়াসেই সামলানো সম্ভব। তাই নিজের চোখের দিকে একটু বাড়তি নজর দিন, যাতে জীবনের এই দ্বিতীয় ইনিংসেও আপনার দৃষ্টি থাকে স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য নানা মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে লেখা, যা আলাদা করে দ্য ওয়ালের তরফে যাচাই করা হয়নি।
Note: This report is intended for informational purposes only and is not a substitute for medical advice. It is based on statements published across social media and various other media platforms, which have not been independently verified by The Wall.