গ্লকোমা বা চোখের নীরব ঘাতক কী? কেন শিশুদের ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ড্রপ বিপজ্জনক হতে পারে? গ্লকোমার লক্ষণ, ঝুঁকির কারণ এবং প্রতিকার সম্পর্কে বিশদে জানুন।

শিশু চোখে গ্লকোমা
শেষ আপডেট: 11 March 2026 19:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্লকোমা (Glaucoma) বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চিরস্থায়ী অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রেই এই রোগের প্রাথমিক উপসর্গগুলো রোগীর নজরে পড়ে না। চোখের এই মারাত্মক ব্যাধিটি নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে পালিত হচ্ছে গ্লকোমা সচেতনতা সপ্তাহ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত চোখের চেক-আপই হলো স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার আগে এই রোগ ধরার একমাত্র উপায়।
কেন একে ‘দৃষ্টির নীরব শত্রু’ বলা হয়?
গ্লকোমাকে অনেক সময় ‘সাইলেন্ট থিফ অফ সাইট’ (Glaucoma – silent thief of sight) বা নীরবে দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিতে পারে- এমন অসুখ বলা হয়। কারণ, এটি অত্যন্ত ধীরে ধীরে চোখের অপটিক নার্ভকে নষ্ট করে দেয়। এই অপটিক নার্ভই চোখ থেকে মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়। এই রোগে প্রথমে আশেপাশের দৃষ্টি (Peripheral Vision) কমতে শুরু করে, যা সচরাচর সাধারণ মানুষের নজরে আসে না। যখন সমস্যা গুরুতর হয় এবং সামনের দৃষ্টি ব্যাহত হয়, ততক্ষণে অপটিক নার্ভের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যায়।
গ্লকোমার ধরন ও লক্ষণ (Glaucoma Symptoms)
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্লকোমা মূলত দুই প্রকারের হয়:
শিশুরাও ঝুঁকিতে, ভিলেন স্টেরয়েড
গ্লকোমা মানেই যে কেবল বয়স্কদের অসুখ তা নয়, বর্তমানে অনেক শিশুই ভুল চিকিৎসায় এই রোগে দৃষ্টি হারাচ্ছে। বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও গ্লকোমা স্পেশালিস্ট ডা. টুটুন চক্রবর্তী জানান, এর প্রধান কারণ দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিত ও অপরিমিত হারে স্টেরয়েড আই ড্রপের ব্যবহার। মূলত ৭ থেকে ১০ বছর বয়সি শিশুদের ‘ভার্নাল কেরাটো-কনজাংটিভাইটিস’ (VKC) নামক অ্যালার্জিজনিত চোখের সমস্যায় আরাম দিতে চিকিৎসকরা অনেক সময় নির্দিষ্ট মেয়াদে স্টেরয়েড ড্রপ দেন। স্টেরয়েড খুব দ্রুত কাজ করে বলে অভিভাবকরা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়াই পুরনো প্রেসক্রিপশন বা ওষুধের দোকানের কথায় বারবার এই ‘ম্যাজিক ড্রপ’ ব্যবহার শুরু করেন। এর ফলে নিঃশব্দে শিশুর চোখের প্রেশার বেড়ে যায় এবং অপটিক নার্ভ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে ডেক্সামেথাসন বা প্রেডনিসোলোন জাতীয় উচ্চশক্তিসম্পন্ন স্টেরয়েড ব্যবহারে গ্লকোমার পাশাপাশি চোখে ছানি পড়ার ঝুঁকিও প্রবল থাকে। যখন বাবা-মায়ের হুঁশ ফেরে, ততদিনে গ্লকোমা শিশুটির চোখের অপূরণীয় ক্ষতি করে ফেলে। তাই চিকিৎসকের কড়া নজরদারি ছাড়া শিশুকে ভুলেও স্টেরয়েড আই ড্রপ দেবেন না, সামান্য চোখ লাল বা চুলকানিকেও অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
ঝুঁকির আরও কিছু কারণ
নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে গ্লকোমা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়:
জীবনযাত্রায় সতর্কতা
ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, ক্যাফেইন সেবন এবং চর্বিযুক্ত খাবার চোখের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই গ্লকোমা রুখতে নিয়মিত চেক-আপই শেষ কথা। একবার দৃষ্টি হারিয়ে গেলে তা আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়।
যাদের বয়স ৪০ পেরিয়েছে বা যাদের পরিবারে গ্লকোমার ইতিহাস আছে, তারা বছরে অন্তত একবার চোখের প্রেশার পরীক্ষা করান। সামান্য ঝাপসা দেখা বা চোখের অস্বস্তিকে অবহেলা করবেন না। আজই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।