জাপানের কিয়োটো ইউনিভার্সিটি (Kyoto University) এবং কিতানো হাসপাতালের (Kitano Hospital) গবেষকরা একটি নতুন ওষুধের হিউম্যান ট্রায়াল বা মানুষের ওপর পরীক্ষা শুরু করেছেন। তাঁদের দাবি, এই ওষুধ প্রয়োগ করলে হারানো দাঁত আবার নতুন করে গজাবে।

দাঁত গজাবে ওষুধে। নয়া গবেষণা জাপানি বিজ্ঞানীদের
শেষ আপডেট: 13 March 2026 19:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফোকলা দাঁত নিয়ে দুশ্চিন্তার দিন কি তবে শেষ হতে চলল? বয়স বাড়লে বা কোনও দুর্ঘটনায় দাঁত পড়ে গেলে এতদিন আমাদের ভরসা ছিল ডেনচার (Denture) বা ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্টের (Implant) মতো কৃত্রিম ব্যবস্থা। কিন্তু এবার চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অভাবনীয় বিপ্লব ঘটতে চলেছে। জাপানের একদল বিজ্ঞানী এমন এক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন, যার মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবেই আপনার মুখে নতুন দাঁত গজিয়ে উঠবে।
জাপানের কিয়োটো ইউনিভার্সিটি (Kyoto University) এবং কিতানো হাসপাতালের (Kitano Hospital) গবেষকরা একটি নতুন ওষুধের হিউম্যান ট্রায়াল বা মানুষের ওপর পরীক্ষা শুরু করেছেন। তাঁদের দাবি, এই ওষুধ প্রয়োগ করলে হারানো দাঁত আবার নতুন করে গজাবে।
কীভাবে কাজ করবে এই ম্যাজিক ওষুধ?
মানুষের জীবনে সাধারণত দু’বার দাঁত ওঠে— একবার শৈশবে দুধদাঁত এবং পরে স্থায়ী দাঁত। বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন, আমাদের মাড়ির ভেতরেই এমন কিছু কোষ বা 'টুথ বাডস' (Tooth buds) সুপ্ত অবস্থায় থাকে, যা দিয়ে তৃতীয়বার দাঁত গজানো সম্ভব।
শরীরে USAG-1 নামক একটি প্রোটিন থাকে, যা নতুন দাঁত গজাতে বাধা দেয়। জাপানি বিজ্ঞানীরা এমন একটি অ্যান্টিবডি ওষুধ তৈরি করেছেন যা এই প্রোটিনের কার্যকারিতা ব্লক করে দেয়। ফলে শরীরের নিজস্ব ক্ষমতাতেই সুপ্ত কোষগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং নির্দিষ্ট জায়গায় নতুন দাঁত গজাতে শুরু করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হচ্ছে 'রিজেনারেটিভ মেডিসিন' (Regenerative Medicine)।
পশুদের ওপর সফল পরীক্ষা
মানুষের ওপর পরীক্ষা করার আগে ইঁদুর এবং ফেরেট (Ferret)-এর মতো প্রাণীদের ওপর এই ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছিল। ফলাফলে দেখা গেছে, ওষুধটি দেওয়ার পর ওই প্রাণীদের মুখে নতুন ও সচল দাঁত গজিয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, সেই দাঁতগুলো দেখতে এবং কাজ করতে একদম প্রাকৃতিক দাঁতের মতোই। প্রাণীদের ডিএনএ এবং দাঁত তৈরির প্রক্রিয়া মানুষের সঙ্গে অনেকটা মিল থাকায় বিজ্ঞানীরা এই গবেষণায় সফল হওয়ার বিষয়ে দারুণ আশাবাদী।
কবে থেকে শুরু হয়েছে মানুষের ওপর পরীক্ষা?
২০২৪ সাল থেকেই কিতানো হাসপাতালে এই ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি সুরক্ষা এবং সঠিক মাত্রার ওপর জোর দিচ্ছে। জাপানি বায়োটেকনোলজি সংস্থা 'টোরেজেম বায়োফার্মা' (Toregem Biopharma) এই গবেষণার বাণিজ্যিক প্রসারে কাজ করছে।
প্রথম পর্যায়ে যাঁদের জন্মগতভাবে দাঁত কম ওঠে (Congenital Tooth Agenesis), তাঁদের ওপর এই ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। পরবর্তী ধাপে সাধারণ মানুষ যাঁরা বার্ধক্য বা অসুখের কারণে দাঁত হারিয়েছেন, তাঁদেরও এই চিকিৎসার আওতায় আনা হবে।
কবে মিলবে এই পরিষেবা?
গবেষকদের আশা, যদি সমস্ত পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে এই ওষুধ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে। বর্তমানে দাঁত বাঁধানো বা ইমপ্ল্যান্ট করা যথেষ্ট ব্যয়বহুল এবং অনেক ক্ষেত্রে যন্ত্রণাদায়ক সার্জারির প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই ইনজেকশন বা ওষুধ সফল হলে দাঁতের চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে।
কৃত্রিম দাঁত বনাম প্রাকৃতিক দাঁত: নতুন লড়াই
বর্তমানে ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্টের ক্ষেত্রে হাড়ের ঘনত্ব কম থাকলে বা অন্য শারীরিক সমস্যায় অনেকে চিকিৎসা করাতে পারেন না। কিন্তু প্রাকৃতিক উপায়ে দাঁত গজানো সম্ভব হলে সেই সমস্যা থাকবে না। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর মতো শোনালেও আগামী কয়েক দশকের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে দাঁত গজানোর বিষয়টি একদম বাস্তব হয়ে উঠবে।