ঘুমের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় একটা সাধারণ কিন্তু সমস্যা—নাক ডাকা। এটি শুধু পাশে ঘুমোনো মানুষটির রাতের ঘুম নষ্ট করে না বরং যিনি নাক ডাকেন, তাঁর শরীরেও নানা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

নাক ডাকার সমস্যা
শেষ আপডেট: 28 May 2025 19:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘুমের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় একটা সাধারণ কিন্তু সমস্যা—নাক ডাকা। এটি শুধু পাশে ঘুমোনো মানুষটির রাতের ঘুম নষ্ট করে না বরং যিনি নাক ডাকেন, তাঁর শরীরেও নানা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে নাক ডাকার নেপথ্যে থাকে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া নামে একটি জটিল অবস্থা। দুঃখজনক ভাবে, এর জন্য নির্দিষ্ট কোনও কার্যকর ওষুধ নেই। তবে কিছু ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করলে উপশম মিলতে পারে।
১. অলিভ অয়েল:
অলিভ অয়েলে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা শ্বাসযন্ত্রের টিস্যুগুলিকে আরাম দেয় ও ফোলাভাব কমায়। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে ১ চামচ অলিভ অয়েল খেলে উপকার মিলতে পারে। স্বাদে ভিন্নতা আনতে চাইলে সামান্য মধু মিশিয়েও খেতে পারেন।
২. হলুদ-দুধ:
হলুদ একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান। এটি শরীরের প্রদাহ কমিয়ে নাক ডাকার প্রবণতা হ্রাস করতে পারে। এক গ্লাস গরম দুধে ২ টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে পান করলে উপকার পেতে পারেন।
৩. ভেপার নেওয়া:
ঠান্ডা লেগে নাক বন্ধ থাকলে অনেক সময়ই নাক ডাকার সমস্যা দেখা দেয়। ঘুমোনোর আগে গরম জলের ভেপার নেওয়া বেশ উপকারী হতে পারে। একটি পাত্রে গরম জল নিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস নিন। চাইলে এতে ইউক্যালিপটাস বা পেপারমিন্ট এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন।
৪. ওজন নিয়ন্ত্রণ:
অতিরিক্ত ওজনও নাক ডাকার একটি বড় কারণ। শরীরের অতিরিক্ত মেদ গলার চারপাশে চাপ সৃষ্টি করে, ফলে শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা আসে। তাই নিয়মিত শরীরচর্চা করে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
৫. ধূমপান ও মদ্যপান বর্জন করুন:
মদ গলার মাসলকে শিথিল করে, আর ধূমপান শ্বাসযন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করে। এর ফলে নাক ডাকার সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই এই অভ্যাসগুলো ছেড়ে দিলে দীর্ঘমেয়াদে উপকার পেতে পারেন। ফলে এটি অবহেলা না করে জীবনযাত্রায় কিছু বদল আনলে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। ঘরোয়া এই সহজ উপায়গুলো মেনে চলুন, তাতে হয়তো আপনি ও আপনার প্রিয়জন দু'জনেই আরও শান্তিতে ঘুমোতে পারবেন।