তরমুজের ১০০ গ্রামে প্রায় ৯০ শতাংশই জল। ফলে এটি শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে, যা গরমে অত্যন্ত জরুরি। তাছাড়া এতে আছে ০.৬ গ্রাম প্রোটিন, ৭.৬ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট ও ০.৪ গ্রাম ফাইবার।

তরমুজ ওজন কমায়
শেষ আপডেট: 27 May 2025 17:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃষ্টি হলেও, গরম কিন্তু মোটেই কমেনি। অফিস, স্কুল, বাজার কিংবা অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বেরোতেই হচ্ছে। এই অবস্থায় শরীরকে ঠান্ডা রাখতে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন ঠান্ডা পানীয় বা আইসক্রিমের মতো আরামদায়ক কিন্তু বিপজ্জনক খাবার। এতে কিছুক্ষণের জন্য আরাম মিললেও, অজান্তেই শরীরে জমছে ক্যালোরি, বাড়ছে ওজন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময় জলের পরিমাণ বেশি এমন কিছু খাবার খাওয়া জরুরি, যা শরীরকে ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করবে। এমন একটি ফল হল তরমুজ, যা গ্রীষ্মের উপযুক্ত প্রাকৃতিক উপহার।
গরমে স্বস্তি দিতে কোল্ড ড্রিংক্স, আইসক্রিম বা ফ্রোজেন ডেজার্ট অনেকেই খেয়ে থাকেন। কিন্তু এগুলির মধ্যে চিনি, ফ্যাট ও ক্যালোরির মাত্রা অনেক বেশি থাকে। অতিরিক্ত চিনি ও প্রিজারভেটিভ শরীরের জন্য ক্ষতিকর, ওজন বাড়ানোর পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও হৃদ্রোগের ঝুঁকিও বাড়ায়। এর বদলে প্রকৃতির দেওয়া বিকল্প বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। গরমে হাইড্রেশন বজায় রাখতে ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকরী একটি ফল হল তরমুজ।
তরমুজের ১০০ গ্রামে প্রায় ৯০ শতাংশই জল। ফলে এটি শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে, যা গরমে অত্যন্ত জরুরি। তাছাড়া এতে আছে ০.৬ গ্রাম প্রোটিন, ৭.৬ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট ও ০.৪ গ্রাম ফাইবার। তরমুজে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি, পটাশিয়াম, কপার, সাইট্রুলিন, ও লাইকোপেন। এই সমস্ত পুষ্টিগুণ শরীরকে ঠান্ডা রাখতে, কোষে জলের ভারসাম্য বজায় রাখতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হজম শক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে।
তরমুজ কীভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমানোর জন্য এমন খাবার খাওয়া জরুরি, যাতে ক্যালোরি কম কিন্তু ফাইবার ও জল বেশি থাকে। তরমুজ সেই দিক থেকে আদর্শ। ১০০ গ্রাম তরমুজে মাত্র ৩০ ক্যালোরি থাকে। কিন্তু প্রচুর জল ও ফাইবার থাকায় এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভর্তি রাখে। ফলে বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। যদি তরমুজ মিষ্টি হয়, তবে স্বাদ মেটানোর জন্য অতিরিক্ত চকোলেট, মিষ্টি বা ফাস্ট ফুড খাওয়ার ইচ্ছাও কমে যায়। এতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসে এবং ধীরে ধীরে ওজন নিয়ন্ত্রণে আসে।
অনেকে ভাবেন, মিষ্টি স্বাদের কারণে তরমুজে চিনির মাত্রা বেশি। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি লো ক্যালোরি ও লো গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ফল। ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেও এটি নিরাপদ। তরমুজে থাকা লাইকোপেন নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাছাড়া এই যৌগটি হৃদ্যন্ত্র সুরক্ষিত রাখে, কোলেস্টেরল কমায় এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

তরমুজের বীজেও রয়েছে উপকারিতা
তাছাড়া তরমুজের বীজে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। প্রোটিন পেট ভর্তি রাখে দীর্ঘক্ষণ, ফলে বার বার খাওয়ার ইচ্ছে কমে যায়। এর ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হয়। তরমুজের বীজে রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বিও, বিশেষ করে ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড। এই ফ্যাট শরীরে দ্রুত এনার্জি যোগায়, যা আপনাকে সারাদিন চঞ্চল ও সক্রিয় রাখে। বেশি সময় চলাফেরা ও কাজ করার ফলে বেশি ক্যালোরিও পোড়ানো যায়। তাই তরমুজের বীজ শুধু সুস্বাদুই নয়, ওজন কমানোর জন্যও খুবই কার্যকর।
তরমুজ কাটার পর ঠান্ডা করে খাওয়া যায়। ব্রেকফাস্টে, দুপুরের খাওয়ার পর বা সন্ধ্যায় স্ন্যাকস হিসেবে এটি রাখা যেতে পারে। তবে ফ্রিজে খুব বেশি সময় না রেখে তাজা অবস্থাতেই খাওয়া ভাল। চাইলে তরমুজ দিয়ে ডিটক্স ওয়াটার, স্মুদি, বা ফ্রুট স্যালাড বানিয়েও খেতে পারেন।
পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকেরা বলছেন, গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখার জন্য রাসায়নিক মেশানো ঠান্ডা পানীয় নয়, প্রাকৃতিক ফল খাওয়ার অভ্যাস বাড়ানো উচিত। বিশেষ করে তরমুজের মতো ফল যা একদিকে যেমন হাইড্রেট করে, অন্যদিকে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখে। এই গরমে তাই স্বস্তি পেতে কোল্ড ড্রিংক্স বা আইসক্রিমের দিকে না তাকিয়ে প্রাকৃতিক ফলের দিকে ঝুঁকুন। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন, শরীর সুস্থ রাখুন—প্রতিদিনের ডায়েটে জায়গা করে দিন একটুকরো তরমুজকে।
বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: এই সংক্রান্ত কোনও মতামত দ্য ওয়ালের নয়। দ্য ওয়াল স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কোনও সম্পাদকীয় / সম্পাদক-নিয়ন্ত্রিত তথ্য, পরামর্শ প্রদান করে না। প্রদত্ত পরামর্শ ও তথ্য প্রয়োগের আগে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। নিজের মতামতকে গুরুত্ব দিন।