যদি এই উপসর্গগুলোর কোনওটি নিজের মধ্যে লক্ষ্য করেন, তবে দ্রুত যোগাযোগ করুন চিকিৎসকের সঙ্গে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 19 June 2025 14:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লিভার শরীরের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। রক্ত থেকে টক্সিন বার করে, পাচনে সাহায্য করে, প্রয়োজনীয় পিত্তরস তৈরি করে এবং শরীরে পুষ্টিগুণ সঞ্চয় করে। তা ছাড়া বিপাকক্রিয়াও নিয়ন্ত্রণ করে এই অঙ্গ। তাই শরীর সুস্থ রাখতে লিভার সুস্থ রাখা অত্যন্ত জরুরি। তবে সাম্প্রতিক কালে, বিশেষ করে যুব সমাজের মধ্যে, লিভারের অসুখের হার যে হারে বাড়ছে, তা চিকিৎসকদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে।
লিভারের অসুখ মানেই মদ্যপান, এই ধারণা ঠিক নয়। হেপাটাইটিস, ফ্যাটি লিভার, সিরোসিস থেকে শুরু করে লিভার ক্যানসার, লিভারের নানা রকমের অসুখ হতে পারে। সময় মতো শনাক্ত করতে পারলে অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসা সম্ভব, এমনকি অনেক অসুখ আবার পুরোপুরি সেরে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তাই প্রাথমিক লক্ষণগুলো চেনা অত্যন্ত জরুরি।
সম্প্রতি, গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট তথা লিভার বিশেষজ্ঞ ড. সৌরভ শেঠি তাঁর ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে জানালেন লিভারের অসুখের ৩টি এমন লক্ষণের কথা, যেগুলি উপেক্ষা করলে হতে পারে বড় বিপদ।
১. জন্ডিস বা শরীর-চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া
যখন চোখ বা ত্বক হঠাৎ হলুদ হয়ে যায়, সেটি লিভারের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। ড. শেঠির পরামর্শ, এই ধরনের রং বদল যদি হয়, তাহলে তা স্বাভাবিক আলোয় পরীক্ষা করুন, তবেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
২. পেটের চেহারায় হঠাৎ পরিবর্তন
আপনার খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাস না পাল্টালেও যদি হঠাৎ করে পেটের মাপ বা কোমরের মাপ বেশ খানিকটা বেড়ে যায়, তবে তা হতে পারে লিভার সংক্রান্ত সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ।
৩. পেটের ডান দিকে অস্বস্তি বা ব্যথা
লিভার পেটের উপরের ডান দিকে থাকে। তাই সেই জায়গায় ক্রমাগত অস্বস্তি বা চাপ অনুভব করলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
এই লক্ষণ ছাড়াও আরও কিছু উপসর্গের দিকে খেয়াল রাখুন—
কীভাবে লিভারকে সুস্থ রাখবেন?
সুষম আহার, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকা এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাই এই অঙ্গকে সুস্থ রাখার মূলমন্ত্র।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভারের অসুখ ভাইরাস, অ্যালকোহল, স্থূলতা বা বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শ থেকে হতে পারে। জিনগত কারণেও ঝুঁকি বাড়ে। তাই লিভারের প্রতি যত্নবান হওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তাই আর দেরি না করে, যদি এই উপসর্গগুলোর কোনওটি নিজের মধ্যে লক্ষ্য করেন, তবে দ্রুত যোগাযোগ করুন চিকিৎসকের সঙ্গে। সুস্থ থাকুন।