খেলার ছলে ম্যাগনেটিক ব্যাটারি গিলে ফেলেছিল ১৯ মাসের শিশু অগস্ত্য। এর ফলে তার পেটে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়। তবে দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে তাকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

শিশু সার্জন ডাঃ শুভাশিস সাহা
শেষ আপডেট: 4 June 2025 12:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খেলার ছলে ম্যাগনেটিক ব্যাটারি গিলে ফেলেছিল ১৯ মাসের শিশু অগস্ত্য। এর ফলে তার পেটে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়। তবে দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে তাকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। মুকুন্দপুরের মনিপাল হাসপাতালে ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ব্যাটারিটি বের করেন শিশু সার্জন ডাঃ শুভাশিস সাহা।
২ মে শিশুটি যখন সবুজ বমি করছে থাকে, সঙ্গে অসহ্য পেটব্যথা, তখন তাকে হাসপাতালে আনা হয়। এক্স-রেতে ধরা পড়ে, একটি ব্যাটারি তার পেটের ভিতরে আটকে রয়েছে। সেদিন রাতেই এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে তা বের করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ব্যাটারিটি পেটের দেয়ালে গভীরভাবে আটকে যাওয়ায় তা নিরাপদে তোলা সম্ভব হয়নি।
পরদিন, ৩ মে সকালে ল্যাপারোস্কোপিক বা ‘কি-হোল’ সার্জারির মাধ্যমে অপারেশন করা হয়। ছোট ছোট কাটা দিয়ে অত্যন্ত সতর্কভাবে ব্যাটারিটি বের করা হয়, যাতে কোনো অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। উন্নত প্রযুক্তির জন্য শিশুটির শরীরে কোনও দাগ পড়েনি এবং তিন দিনের মধ্যেই সে আবার স্বাভাবিকভাবে খাওয়া শুরু করে।
এই বিষয়ে ডাঃ শুভাশিস সাহা বলেন, “চুম্বক ব্যাটারি শিশুদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। এটি অন্ত্রের আস্তরণ নষ্ট করে দিতে পারে, ফুটো হয়ে যেতে পারে বা প্রাণঘাতী সংক্রমণ ঘটাতে পারে। আমাদের কাছে সময় ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতির জন্যই শিশুটি দ্রুত সেরে উঠেছে।”
অগস্ত্যর বাবা, সার্ভে পার্কের বাসিন্দা মিঃ বিনয় জানান, তাঁদের অজান্তে একটি খেলনা থেকে ব্যাটারিটি খুলে পড়ে এবং অগস্ত্য সেটি গিলে ফেলে। ৩০ এপ্রিল থেকে বমি শুরু হয়। প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিকে গেলে ওষুধ দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়। পরদিন ফের বমি হলে তাঁরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। দ্রুত ডাঃ জেমসি জোস-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে মনিপাল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসকদের তৎপরতায় শিশুটি সুস্থ হয়ে ওঠে।
মিঃ বিনয় বলেন, “আমরা কখনও ভাবিনি একটি ছোট ব্যাটারি এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। মনিপাল হাসপাতালের চিকিৎসকদের দক্ষতা ও যত্নের জন্যই আমাদের সন্তান আজ সুস্থ।”
এই ঘটনা প্রসঙ্গে মনিপাল হাসপাতালের পূর্বাঞ্চলের রিজিওনাল সিওও ডাঃ অয়নাভ দেবগুপ্ত বলেন, “ঘটনাটি প্রমাণ করে, আমাদের হাসপাতালের চিকিৎসকরা কীভাবে জরুরি অবস্থায় দ্রুত এবং দক্ষতার সঙ্গে সাড়া দিতে সক্ষম। পাশাপাশি এটি অভিভাবকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—বাড়ির ছোট ছোট বস্তু অনেক সময় শিশুর জীবনের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। সতর্কতা অবলম্বন করলেই এমন বিপদ এড়ানো সম্ভব।”