রয়টর্সের এক তদন্তমূলক প্রতিবেদনে উঠে আসে, ১৩ বছর বয়স পার হওয়া মাত্রই ব্যবহারকারীরা মেটার কৃত্রিম চরিত্রগুলোর সঙ্গে অশালীন চ্যাটে জড়িয়ে পড়তে পারছিলেন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 31 August 2025 18:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Artificial intelligence) যুগে প্রযুক্তি যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নানা বিতর্ক। সম্প্রতি মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থা মেটার এআই (Meta AI) নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র সমালোচনা। অভিযোগ উঠেছে, শিশু ও কিশোরদের সঙ্গে অশ্লীল ও যৌনগন্ধী কথোপকথনে জড়িয়ে পড়ছিল মেটার এআই চ্যাটবট (AI Chatbot)। শুধু তাই নয়, আত্মহত্যা নিয়ে আলোচনা ও মিথ্যে প্রেমের ফাঁদ পাতার ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে।
রয়টর্সের এক তদন্তমূলক প্রতিবেদনে উঠে আসে, ১৩ বছর বয়স পার হওয়া মাত্রই ব্যবহারকারীরা মেটার কৃত্রিম চরিত্রগুলোর সঙ্গে অশালীন চ্যাটে জড়িয়ে পড়তে পারছিলেন। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই আমেরিকার সেনেটে শুরু হয় তুমুল আলোচনার ঝড়। রিপাবলিকান সিনেটরদের একাংশ দাবি জানান, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে হালকা মনোভাব গ্রহণ করা চলবে না।
অভিযোগের তালিকায় রয়েছে একাধিক মর্মান্তিক ঘটনা। ফ্লোরিডায় ১৪ বছরের এক কিশোর আত্মঘাতী হয়েছিল মেটার এআই-এর সঙ্গে কথোপকথনের পর। নিউ জার্সির ৭৬ বছরের এক বৃদ্ধও 'কৃত্রিম প্রেমিকার' ফাঁদে পড়ে প্রাণ হারান। তাঁর পরিবার সরাসরি মেটাকে দায়ী করে। এসব ঘটনার পর মার্কিন প্রশাসনও কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটে।
চাপের মুখে অবশেষে সংস্থার তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, এখন থেকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে কোনও যৌনগন্ধী বা আত্মহত্যা সংক্রান্ত আলোচনা করবে না মেটার এআই। সংস্থার মুখপাত্র জানিয়েছেন, আপাতত সাময়িক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের দিকেই নজর দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা বয়সভিত্তিক সুরক্ষা নিয়ে এআই-এর সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। তবে সেনেটরদের মতে, শুধু নীতি বদল নয়, বিষয়টি নিয়ে আরও স্বচ্ছ আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হল, প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, ততই এর নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করাই হবে আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দ্রুত প্রসার বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনছে। সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথাগত চাকরির অন্তত ৩০ শতাংশ বদলে যেতে পারে। বিশেষত কাস্টমার সার্ভিস, কনটেন্ট রাইটিং ও ডেটা বিশ্লেষণের মতো কাজগুলোতে এআই-এর ব্যবহার বাড়ছে।
তবে এর ফলে শুধু চাকরির সংকট নয়, নতুন সুযোগও তৈরি হচ্ছে। এআই-নির্ভর প্রযুক্তি রক্ষণাবেক্ষণ, প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সাইবার সিকিউরিটির মতো ক্ষেত্রগুলোতে চাহিদা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা নতুন প্রযুক্তিকে দ্রুত রপ্ত করতে পারবেন, তারাই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবেন। শিক্ষাবিদরা বলছেন, এখনই স্কুল ও কলেজের পর্যায়ে এআই শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। নইলে ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে নতুন প্রজন্ম পিছিয়ে পড়বে।