সব মিলিয়ে ৩ দেশ, ১৬ শহর, ৪৮ দল আর ১০৪টি ম্যাচে ভরপুর এক উৎসব। কিন্তু তাতে থাকতে চাইলে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিন। অ্যাকাউন্ট খুলে রাখুন, ভিসা কার্ড তৈরি রাখুন আর সময়মতো রেজিস্টার করুন।

ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 23 October 2025 17:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর এক বছর বাকি। ২০২৬–এর বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) শুরু হবে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র (United States), কানাডা (Canada) ও মেক্সিকোতে (Mexico)। ইতিহাসে প্রথমবার। এবার দলও থাকছে রেকর্ড ৪৮টি। তাই টিকিটের চাহিদা আকাশছোঁয়া। ফুটবলপ্রেমীরা গুনছে সময়—কবে শুরু হচ্ছে টিকিট বিক্রি (Ticket Sale)? কীভাবে লেখাতে হবে নাম? কত দাম গুনতে হবে?
চলুন, সহজ ভাষায় দেখে নেওয়া যাক, কীভাবে কাটবেন বিশ্বকাপের টিকিট!
প্রথমেই জানা দরকার, এবার টিকিট বিক্রি হবে তিন ধাপে (Three Phases)। প্রথম ধাপ শুরু আগামী ১০ সেপ্টেম্বর, যখন খুলবে প্রেসেল বা প্রি–সেল ড্রয়ের (Presale Draw) রেজিস্ট্রেশন। অর্থাৎ, আপনি সরাসরি টিকিট কিনতে পারবেন না। আগে নাম তুলতে হবে লটারির লিস্টে।
যাদের বাছা হবে, তারাই পাবেন কেনার সুযোগ। এই প্রি–সেল শুধু ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য, যেখানে অংশ নিতে লাগবে একটি ফিফা আইডি অ্যাকাউন্ট (FIFA ID Account) এবং ভিসা কার্ড (Visa Card)। নাম নথিভুক্ত করার সময়সীমা ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, তার পর ফিফা র্যান্ডম নির্বাচনের মাধ্যমে জানাবে কে টিকিট কেনার যোগ্য।
বাছাই তালিকায় নাম থাকা উৎসাহীদের ১ অক্টোবর থেকে দেওয়া হবে নির্দিষ্ট সময়স্লট—যখন তারা টিকিট কিনতে পারবেন। এই পর্যায়েই সব ম্যাচের টিকিট বিক্রি শুরু হবে—গ্রুপ স্টেজ (Group Stage) থেকে ফাইনাল (Final) পর্যন্ত। প্রথম আসলে আগে পাবেন। দামও নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে—গ্রুপ ম্যাচের টিকিট শুরু ৬০ ডলার থেকে। আর ফাইনালের টিকিট সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৭৩০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।
এরপর দ্বিতীয় ধাপ—অক্টোবরের শেষ দিকে, ২৭ থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে শুরু হবে ‘আর্লি টিকিট ড্র’ (Early Ticket Draw)। প্রক্রিয়া প্রায় একই—নিবন্ধন। তারপর এলোমেলোভাবে নির্বাচিত কিছু আবেদনকারীকে টিকিট কেনার অনুমতি। সময়সীমা নভেম্বর–ডিসেম্বরের মধ্যে।
তিন নম্বর ধাপ আসবে, ডিসেম্বরের ৫ তারিখ। টুর্নামেন্টের গ্রুপ ও সূচি ঘোষণার (Tournament Draw) পর। এই পর্বে দর্শকরা চাইলে নির্দিষ্ট ম্যাচ বা শহর বেছে আবেদন করতে পারবেন। অর্থাৎ, আপনি ঠিক করতে পারবেন কোন মাঠে কোন ম্যাচ দেখতে চান।
যদি এর পরেও টিকিট থেকে যায়, ফিফা জানিয়ে দিয়েছে—তখন সেগুলো বিক্রি হবে সাধারণ বিক্রির মতো, ‘ফার্স্ট কাম, ফার্স্ট সার্ভড’ (First Come, First Served) ভিত্তিতে। তবে অননুমোদিত বিক্রি রুখতে ফিফা চালু করছে একটি অফিসিয়াল রিসেল প্ল্যাটফর্ম (Official Resale Platform)। যেখানে নিরাপদভাবে টিকিট কেনাবেচা করা যাবে। অর্থাৎ, কালোবাজারি বা জাল টিকিটের ভয় থাকবে না।
প্রথম ধাপের রেজিস্ট্রেশন শুরু হতেই দেখা গিয়েছে বিপুল চাপ—লক্ষ লক্ষ মানুষ একসঙ্গে ঢুকতে চাওয়ায় ওয়েবসাইটে ধীরগতি! অনেকেই আটকে যাচ্ছিলেন ভার্চুয়াল কিউ–তে (Virtual Queue)। ফিফা জানিয়েছে, এই ভিড়ের জন্য কারও সুযোগ কমে যাবে না। যেই সময়েই নাম লেখান না কেন, সবাই সমানভাবে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
তবে একটা কথা মাথায় রাখা জরুরি—এই টিকিট কিনলেই ম্যাচে ঢোকার অধিকার পাবেন। কিন্তু দেশে প্রবেশের অনুমতি নয়। আলাদা করে ভিসা (Travel Visa) ও যাতায়াতের ব্যবস্থা রাখতে হবে আগেভাগেই। তিন দেশ মিলিয়ে টুর্নামেন্ট বলে ভ্রমণ খরচ ও পরিকল্পনাও আগে থেকে সাজাতে হবে।
ফিফা জানিয়েছে, কিছু ভেন্যুর জন্য হসপিটালিটি টিকিট (Hospitality Tickets) বিক্রি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। যাঁরা ভিআইপি আসন বা কর্পোরেট প্যাকেজ খুঁজছেন, তাঁদের জন্য এগুলো আগেভাগেই উন্মুক্ত।
সব মিলিয়ে ৩ দেশ, ১৬ শহর, ৪৮ দল আর ১০৪টি ম্যাচে ভরপুর এক উৎসব। কিন্তু তাতে থাকতে চাইলে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিন। অ্যাকাউন্ট খুলে রাখুন, ভিসা কার্ড তৈরি রাখুন আর সময়মতো রেজিস্টার করুন। ভাগ্য সঙ্গে থাকলে, আগামী বছর আপনার হাতেই উঠবে সেই কাঙ্ক্ষিত টিকিট… ফুটবল দুনিয়ার সবচেয়ে বড় মঞ্চের প্রবেশপত্র!