কিংবদন্তি মিডফিল্ডারের নির্ভেজাল স্বীকারোক্তি যেন ইংল্যান্ডের ‘সোনালি যুগে’র নির্মম ব্যবচ্ছেদ। দলে অঢেল প্রতিভা। কিন্তু একতার অভাবে হারিয়ে যাওয়া!

জেরার্ড-ল্যাম্পার্ড-রুনি
শেষ আপডেট: 8 October 2025 17:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘আমরা সবাই ছিলাম আত্মকামী পরাজিত (egotistical losers)!’
খেলোয়াড়-জীবনে সতীর্থদের—নিজেকে সুদ্ধ—এমনই তীব্র ভাষায় দাগিয়ে দিলেন স্টিভেন জেরার্ড (Steven Gerrard)। ইংল্যান্ড ফুটবলের তথাকথিত ‘সোনালি প্রজন্মে’র (Golden Generation) সদস্য তিনি—যাঁরা প্রতিভায় ভরপুর হয়েও দেশকে বড় ট্রফি দিতে পারেননি। এবার সেই ব্যর্থতার কারণ নিয়ে নির্মম আত্মসমালোচনা প্রাক্তন লিভারপুল (Liverpool) অধিনায়কের।
২০০০ দশকের গোড়ায় ইংল্যান্ড দলে ছিলেন ডেভিড বেকহ্যাম (David Beckham), পল স্কোলস (Paul Scholes), রিও ফার্ডিনান্ড (Rio Ferdinand), ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড (Frank Lampard) এবং জেরার্ড নিজে। কাগজে-কলমে সেটাই ছিল ইংল্যান্ডের সেরা দলগুলির একটি—তর্কযোগ্যভাবে শেষ্ঠ টিম। কিন্তু মাঠের ফলাফল ঠিক উলটো ছবি মেলে ধরে। বিশ্বকাপ হোক বা ইউরো, সব জায়গাতেই ব্যর্থতা তাড়া করে ফেরে।
কী এর কারণ? কোন রহস্যে ভরপুর প্রতিভা আর যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ইংরেজ খেলোয়াড়রা একটাও বড় মাপের আন্তর্জাতিক খেতাব জিতলেন না? রিও ফার্দিনান্দের পডকাস্টে জেরার্ড বলেন, ‘আমরা তখন সবাই ছিলাম আত্মকেন্দ্রিক। এখন টিভিতে দেখি ক্যারাগার (Jamie Carragher) আর স্কোলস পাশাপাশি বসে হাসছে, যেন আজীবনের বন্ধু! অথচ সেই সময় আমরা একে অন্যের কাছে পর্যন্ত যেতে পারতাম না। যদি এতটা পরিণত, এতটা উদার হতে পারতাম, হয়তো ইতিহাসটাই অন্যরকম হত!’
জেরার্ডের চোখে, আসল সমস্যা দলীয় সংস্কৃতিতে। তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ডে তখন আমরা কেউ কারও সঙ্গে সত্যিকারের সংযোগ তৈরি করতে পারিনি। একা থাকতাম, নিজেদের ঘরে। বন্ধুত্ব বা টিম স্পিরিট বলে কিছুই ছিল না। তাই কখনও সত্যিকারের দল হয়ে উঠতে পারিনি!’
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও খুলে বলেন তিনি। জেরার্ডের ভাষায়, ‘আমি ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে ভালোবাসতাম, গর্বও হত। কিন্তু প্রশিক্ষণ শেষে একা হয়ে যেতাম। সেটা লন্ডন হোক বা রোমানিয়া—চারদিকের লোকজন থাকলেও নিজের মধ্যে একাকী!’
আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের ইতি টেনে ২০১৪ সালে কোচিংয়ে আসেন জেরার্ড। রেঞ্জার্সকে (Rangers) স্কটিশ প্রিমিয়ারশিপের (Scottish Premiership) শিরোপা জিতিয়েছিলেন ২০২১ সালে। পরে অ্যাস্টন ভিলা (Aston Villa) ও আল-ইত্তিফাকে (Al-Ettifaq) দায়িত্ব নিয়ে সেভাবে সাফল্য জোটেনি। তবু মন থেকে ফুটবল গেল কই? ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জেরার্ডের স্পষ্ট মন্তব্য—‘মনে হয় এখনও কিছু কাজ বাকি আছে। কিন্তু আমি নির্দিষ্ট ধরনের চ্যালেঞ্জ খুঁজছি। যদি সেই সুযোগ আসে, ঝাঁপিয়ে পড়ব। না এলে, আর নয়!’
কিংবদন্তি মিডফিল্ডারের নির্ভেজাল স্বীকারোক্তি যেন ইংল্যান্ডের ‘সোনালি যুগে’র নির্মম ব্যবচ্ছেদ। দলে অঢেল প্রতিভা। কিন্তু একতার অভাবে হারিয়ে যাওয়া! হয়তো এই কারণে মাঠে পরাজিত যাওয়ার আগে নিজেদের ভেতরেই হেরে যেতেন ল্যাম্পার্ড-জেরার্ডরা।