এর আগেও স্পেনে একাধিকবার বর্ণবিদ্বেষের শিকার হয়েছেন রিয়ালের এই কৃষ্ণাঙ্গ তারকা। ফলে চলতি অভিযোগ ইউরোপীয় ফুটবলে বৈষম্যের প্রশ্নকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

'বিতর্কিত' ম্যাচের মুহূর্ত
শেষ আপডেট: 20 February 2026 11:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চ্যাম্পিয়ন্স লিগের (Champions League) ম্যাচে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক ক্রমশ চড়ছে। লিসবনে বেনফিকার বিরুদ্ধে ম্যাচের পর ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে (Vinicius Junior) উদ্দেশ করে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় এবার উয়েফার (UEFA) কাছে ‘সমস্ত প্রমাণ’ জমা দিল রিয়াল মাদ্রিদ (Real Madrid)।
স্প্যানিশ ক্লাবের বক্তব্য, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে। ম্যাচ চলাকালীন যে ঘটনা ঘটেছে, তার যাবতীয় তথ্য-প্রমাণ ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার টেবিলে জমা পড়েছে।
ম্যাচ থামল প্রোটোকলে
লিসবনের এস্তাদিও দা লুজে (Estadio da Luz) দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গোল করেন ব্রাজিলীয় উইঙ্গার। সেই সময়ই তিনি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েকে (Francois Letexier) অভিযোগ জানান—গ্যালারি থেকে তাঁকে বর্ণবিদ্বেষমূলক গালি দেওয়া হয়েছে। রিয়াল পরে দাবি করে, অভিযুক্ত আসলে কোনও দর্শক নন, খোদ বেনফিকার উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি (Gianluca Prestianni)। অভিযোগের জেরে উয়েফার অ্যান্টি-রেসিজম প্রোটোকল কাজে লাগিয়ে প্রায় ১০ মিনিট ম্যাচ বন্ধ থাকে।
মাঠের লড়াই পুনরায় শুরু হলে রিয়াল ১-০ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয়। তবে ম্যাচের ফলাফলের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে বিতর্ক। উয়েফা ইতিমধ্যে এক এথিকস ও ডিসিপ্লিনারি ইন্সপেক্টর নিয়োগ করেছে। তদন্তের সময়সীমা এখনও ঘোষণা হয়নি।
বেনফিকার পাল্টা দাবি
প্রেস্তিয়ানি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর বক্তব্য, ভিনি ‘ভুল বুঝেছেন’। বেনফিকাও (SL Benfica) তাদের খেলোয়াড়ের পাশে দাঁড়িয়েছে। ক্লাবের বক্তব্য, তারা তদন্তে সহযোগিতা করবে। কিন্তু খেলোয়াড়ের সুনাম নষ্টের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। কোচ জোসে মোরিনহো (Jose Mourinho) ম্যাচের পর জানান, দুই পক্ষের বক্তব্য আলাদা। তাই তিনি নিরপেক্ষ থাকতে চান। যদিও পর্তুগিজ কোচের এই মন্তব্য ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জোসের জবানিকে ‘গ্যাসলাইটিং’ বলে দেগে দিয়েছে ব্রিটিশ সংস্থা কিক ইট আউট (Kick It Out)।
‘নতুন কিছু নয়’: ভিনির আক্ষেপ
ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে সরব হন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ইনস্টাগ্রামে লেখেন, ‘এ সব আমার জীবনে নতুন নয়!’ যদিও হতাশ নন, জোরের সঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, বর্ণবিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে লড়াই থামবে না, তিনি চালিয়ে যাবেন।
বস্তুত, এর আগেও স্পেনে একাধিকবার বর্ণবিদ্বেষের শিকার হয়েছেন রিয়ালের এই কৃষ্ণাঙ্গ তারকা। ফলে চলতি অভিযোগ ইউরোপীয় ফুটবলে বৈষম্যের প্রশ্নকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। মাদ্রিদ তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, খেলাধুলা ও সমাজ থেকে বর্ণবিদ্বেষ দূর করতে লড়াই সচল থাকবে। এখন নজর উয়েফার তদন্তে। পরের সপ্তাহে মাদ্রিদে ফিরতি লেগের আগে শুধু মাঠের লড়াই নয়, সম্ভাব্য শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের দিকেও তাকিয়ে ফুটবল দুনিয়া।