ইংল্যান্ডের ক্লাবের সামনে কিছুটা আশার আলো দুই অর্ধ মিলিয়ে তৈরি একাধিক সুযোগ, গোল না পেলেও যা দলের মনোবল বাড়াবে। দ্বিতীয় লেগে যদি প্রথম কুড়ি মিনিটে গোল আসে, হালান্ডদের লড়াইয়ে ফেরার ক্ষীণ সম্ভাবনা।

নায়ক ভালভার্দে
শেষ আপডেট: 12 March 2026 16:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেলিংহ্যাম নেই, এমবাপে নেই, রদ্রিগোও নেই। তিন তারকা চোটের কারণে ছিটকে। বার্নাবেউতে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে তাই রিয়াল মাদ্রিদকে অনেকটাই দুর্বল ভেবেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালকে হ্যাটা করতে নেই—এই পুরনো সত্য আরও একবার হাড়ে হাড়ে বোঝালেন ফেদেরিকো ভালভার্দে (Federico Valverde)। উরুগুয়ান মিডফিল্ডারের প্রথমার্ধের হ্যাটট্রিকে ৩-০ স্কোরলাইনে এগিয়ে রইল রিয়াল। দ্বিতীয় লেগে পেপ গুয়ার্দিওলার (Pep Guardiola) দলের সামনে এখন পাহাড়সমান চ্যালেঞ্জ।
ভালভার্দের রাত, সিটির দুঃস্বপ্ন
শুরুটা খারাপ করেনি সিটি। জেরেমি ডকু বাঁ-দিক থেকে বারবার চাপ তৈরি করছিলেন ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের উপর। কিন্তু ২০ মিনিটে প্রথম গোল খেতেই বদলে গেল ছবি। গোলকিপার থিবো কুর্তোয়ার লম্বা পাস ভেঙে দিল সিটির রক্ষণ। ভালভার্দে দৌড়ে গিয়ে গোলকিপার দোনারুম্মাকে কাটিয়ে টাইট অ্যাঙ্গেল থেকে বল জালে জড়ালেন।
সাত মিনিট পর দ্বিতীয় গোল—ইতালীয় গোলকিপারকে পার করে লো ফিনিশ। একই অর্ধে এল তিন নম্বর। যেটা আরও অবাক করার মতো। লফটেড থ্রু বল ধরে আঁটো জায়গায় মার্ক গুয়েহিকে লব, তারপর ভলিতে গোল। হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ—স্ট্যান্ড থেকে হাততালি দিলেন স্বয়ং বেলিংহ্যাম ও এমবাপে।
দ্বিতীয়ার্ধে সিটির সামনে ব্যবধান কমানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু উলটে ভিনিসিয়াসকে ফাউল করায় পেনাল্টি পেল রিয়াল। ভিনি নিজেই নিলেন, কিন্তু বাঁ-দিকে ঝাঁপিয়ে দুরন্ত সেভ দোনারুম্মার। পালটা অ্যাটাকে ও'রেইলি বক্সে থিয়াগোকে কেড়ে শট নিলেও কুর্তোয়া পা বাড়িয়ে আটকে দিলেন। সুযোগ এল, গোল হল না। গোটা ম্যাচে হালান্ড কার্যত অদৃশ্য। তাঁকে (Erling Haaland) কোনও অর্ধেই খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সিটির পথ এখন কতটা কঠিন?
চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল ও সিটি এর আগে ১৫ বার মুখোমুখি হয়েছে—জয়, হার, ড্র প্রায় সমান সমান। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগে তিন গোলের ঘাটতি সামলে ফেরার নজির বিরল। তাই কামব্যাক চাইলে সিটি ম্যানেজার পেপ গুয়ার্দিওলাকে এবার সত্যিকারের অলৌকিক কিছু করে দেখাতে হবে। ইংল্যান্ডের ক্লাবের সামনে কিছুটা আশার আলো দুই অর্ধ মিলিয়ে তৈরি একাধিক সুযোগ, গোল না পেলেও যা দলের মনোবল বাড়াবে। দ্বিতীয় লেগে যদি প্রথম কুড়ি মিনিটে গোল আসে, হালান্ডদের লড়াইয়ে ফেরার ক্ষীণ সম্ভাবনা।