Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
গীতা ও চণ্ডীতে যেভাবে নিজের স্বরূপ প্রকাশ করেছেন ভগবান৭ শতাংশ ফ্যাট, ৫০ শতাংশ পেশি! যে ডায়েট মেনে চলার কারণে রোনাল্ডো এখনও যন্ত্রের মতো সচলগুগল এখন অতীত, AI দেখে ওষুধ খাচ্ছেন মানুষ! বেশিরভাগ রোগ চিনতে না পেরে জটিলতা বাড়াচ্ছে চ্যাটবট 'ডাহা মিথ্যে তথ্য দিয়েছে রাজ্য', সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি পিছতেই ক্ষুব্ধ ভাস্কর ঘোষBasic Life Support: চলন্ত ট্রেনে ত্রাতা সহযাত্রীই! সিপিআরে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন মহিলামহিলা বিল পেশ হলে রাজ্য অচলের ডাক স্ট্যালিনের, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে কেন ষড়যন্ত্র বলছে ডিএমকে আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের মহারণ! উদ্দীপ্ত এমিরেটসের কতটা ফায়দা নিতে পারবে আর্সেনাল? দ্রুত রোগা হওয়ার ইনজেকশন শেষ করে দিচ্ছে লিভার-কিডনি? ভুয়ো ওষুধ নিয়ে সতর্ক করলেন চিকিৎসকরাপ্রথম দফার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামছে ৪০ হাজার রাজ্য পুলিশ, কোন জেলায় কত‘ভয় নেই, আমিও কারও বাবা...’ সব পুরুষ সমান নয় - বার্তা নিয়ে মুম্বইয়ের রাস্তায় ছুটে চলেছে এই অটো

UCL: নকআউটে জ্বলে ওঠেন বারবার! আজ রাতে ভিনিকে বেঁধে রাখাই ম্যান সিটির অন্যতম চ্যালেঞ্জ

আজ রাতে ইংল্যান্ডের ক্লাবের বড় পরীক্ষা ভিনিকে বেঁধে রাখা। সফল হলে সিটির পথ সহজ। না পারলে—নকআউটের অন্ধকারে আরও একবার জ্বলে উঠবেন ‘বিতর্কিত’ ব্রাজিলীয়।

UCL: নকআউটে জ্বলে ওঠেন বারবার! আজ রাতে ভিনিকে বেঁধে রাখাই ম্যান সিটির অন্যতম চ্যালেঞ্জ

ভিনি জুনিয়র

রূপক মিশ্র

শেষ আপডেট: 11 March 2026 16:02

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাম্প্রতিক সময়ে রিয়াল মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়নস লিগ সফর অদ্ভুত! দলটা গ্রুপ স্টেজে বরাবর নড়বড়ে৷ খেলায় কোনও তেজ নেই, ডিফেন্সে সংহতি উধাও, স্ট্রাইকাররা পুতুলের মতো। কোনওমতে জেতে, হারে, কখনও ড্র করে৷ তারপর সমর্থকদের ধুকপুকানি বাড়িয়ে যেন-তেন কায়দায় টিকিট পাকা করে নকআউটের!

আবার এই পর্বে ওঠামাত্র, আশ্চর্যজনকভাবে বদলে যায় টিমের রসায়ন৷ যে দলকে কিছুদিন আগেও মনে হচ্ছিল দুর্বলতম, রাতারাতি তারাই হয়ে ওঠে খেতাবের অন্যতম দাবিদার৷ এই ভোলবদলের অন্যতম কাণ্ডার যিনি, অন্তত ইদানীং সময়ে, তাঁর নাম ভিনিসিয়াস জুনিয়র৷ রিয়ালের উইঙ্গার৷ মোটামুটি সারাক্ষণ বিতর্কের কেন্দ্রে৷ কিন্তু বল পায়ে এলে বোঝাই যায় না, এই একই খেলোয়াড় সাংবাদিকদের সামনে এতটা বিক্ষিপ্ত, এলোমেলো! ইতিহাস ও পরিসংখ্যান প্রমাণ: নকআউট রাউন্ডে স্পেনীয় ক্লাবের যদি কেউ প্রধান মুখ হয়ে থাকেন, তিনি একমাত্র ভিনি৷ যিনি আজ চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে মহারণের আগে তাই প্রতিপক্ষ ম্যানেজার পেপ গুয়ার্দিওলার বাড়তি নজরে থাকবেন।

সেদিন অ্যানফিল্ডে বদলে গেল গল্প

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি। অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর লড়াই। ১৪ মিনিটের মধ্যে দু’গোলে পিছিয়ে রিয়াল। স্টেডিয়াম তখন উৎসবে মেতে। স্পেনীয় ক্লাবের সমর্থকদের বুকে পাষাণভার।

ঠিক সেই সময় মাঠে নামলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র (Vinicius Junior)। আর নেমেই বাঁ-দিক থেকে বক্সের কোণায় দাঁড়িয়ে বল কার্ল করে জড়ালেন জালে। এরপর লিভারপুলের গোলকিপার অ্যালিসনের এলোমেলো ক্লিয়ারেন্স থেকে আরও একটা। হাফটাইমে ২-২। দ্বিতীয়ার্ধে অ্যাসিস্ট বাড়ালেন কারিম বেনজেমাকে। খেলা শেষে ৫-২। অ্যানফিল্ড স্তব্ধ। ম্যাচের পর কোচ কার্লো অ্যান্সেলোত্তি (Carlo Ancelotti) একটাই কথা বললেন, ‘ও দুনিয়ার সবচেয়ে নির্ণায়ক খেলোয়াড়!’ এটা স্তুতি নয়, পরিসংখ্যানসিদ্ধ সত্য।

চমকপ্রদ পরিসংখ্যান

ভিনি মাদ্রিদে এসেছিলেন ২০১৮-১৯ মরসুমে। বয়স তখন মাত্র আঠারো। সে মরসুমেই নকআউটে গ্রুপের সমান মিনিট পেলেন—১১৬ আর ১১৮। সেই শুরু। এরপর প্রতিটি সিজনে নকআউটে সময় বাড়তে থাকল। এখনও পর্যন্ত ৭৮টি চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচ খেলেছেন ভিনি। তার মধ্যে ৩৭টিই নকআউট পর্বে—মোট খেলার ৪৭ শতাংশ।

এই সংখ্যাটা মেসি ও রোনাল্ডোর সমতুল্য। কিলিয়ান এমবাপের (Kylian Mbappe) নকআউট ম্যাচের শতাংশ ৩৯, আর্লিং হ্যালান্ডের (Erling Haaland) মাত্র ৩২। অর্থাৎ, বড় মঞ্চে ভিনির উপস্থিতি প্রতিযোগিতার যেকোনো সমসাময়িক তারকার চেয়ে বেশি। আর গোল অবদান? ২০১৮-১৯ থেকে এখন পর্যন্ত ২৬টি—যা এই পর্বে যেকোনো খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। ১২টি অ্যাসিস্ট— রোনাল্ডোর চ্যাম্পিয়নস লিগ রেকর্ডের ঠিক পেছনে। অথচ পর্তুগিজ খেলেছেন দ্বিগুণেরও বেশি ম্যাচ।

রিয়ালের স্টাইলই আসল অস্ত্র

শুধু প্রতিভা নয়, মাদ্রিদের খেলার ধরনও ভিনিকে নকআউটে আরও মারাত্মক করে তুলেছে। গ্রুপ পর্বে রিয়াল বল রাখে, পাস দেয় বেশি। আক্রমণ করে ধীরেসুস্থে। নকআউটে ছবিটা পাল্টে যায়—পজেশন কমে, লং বল বাড়ে, রক্ষণ ভেঙে পড়ে প্রতিপক্ষের। আর এই ছন্নছাড়া পরিস্থিতিতেই ভিনি সবচেয়ে বিপজ্জনক। বিক্ষিপ্ত ডিফেন্সের ফাঁক গলে দৌড়নো, ডিফেন্ডারকে টেনে আনা, তারপর সতীর্থকে ফাঁকা জায়গায় বল বাড়িয়ে দেওয়া—এটাই আসল খেলা।

২০২৩-২৪ মরসুমের কোয়ার্টার ফাইনালে সিটির বিরুদ্ধে পারফরম্যান্সই সেরা উদাহরণ। গোলরক্ষক থেকে বল এল, কয়েক সেকেন্ডে পৌঁছে গেল ভিনির পায়ে, তারপর রদ্রিগোকে গোলের জন্য বাড়িয়ে দিলেন। এই গতি, এই সিদ্ধান্তের দ্রুততা—যে কোনও রক্ষণের পক্ষে সামলানো প্রায় অসম্ভব।

আজ রাতে ভিনিই চাবিকাঠি

বেলিংহ্যাম (Jude Bellingham), এমবাপে, রদ্রিগো—তিনজনই আজ চোটের কারণে অনুপস্থিত। রিয়ালের আক্রমণভাগ তাই অনেকটাই ভিনি-নির্ভর। একদিক থেকে এটা চাপ, অন্যদিক থেকে সুযোগ। ইতিহাস বলছে, একা ছেড়ে দিলে ব্রাজিলীয় তারকা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠেন।

উপরন্তু সিটির বিরুদ্ধে ভিনির রেকর্ড চমকপ্রদ। ২০২১-২২ সেমিফাইনালে অবিশ্বাস্য ডামি দিয়ে ছুটে গিয়ে ঠান্ডা মাথার ফিনিশ। একই মরসুমে ফাইনালে লিভারপুলের বিরুদ্ধে ব্যাক-পোস্টে গোল—ছবিটা ফুটবল ইতিহাসে থেকে যাবে। পরের সিজনে সেমিফাইনালে বাইরে থেকে শট। প্রতিবার বড় মঞ্চে, প্রতিবার রিয়াল বিপদে, প্রতিবার ভিনির জ্বলে ওঠা!

গুয়ার্দিওলা (Pep Guardiola) এই ইতিহাস জানেন। জানে সিটিও। তাই আজ রাতে ইংল্যান্ডের ক্লাবের বড় পরীক্ষা ভিনিকে বেঁধে রাখা। সফল হলে সিটির পথ সহজ। না পারলে—নকআউটের অন্ধকারে আরও একবার জ্বলে উঠবেন ‘বিতর্কিত’ ব্রাজিলীয়।


```