উয়েফা-র শৃঙ্খলাবিধির ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ বলছে, বর্ণ, ত্বকের রং, ধর্ম, লিঙ্গ বা যৌন অভিমুখিতা নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করলে অভিযক্ত ফুটবলার ন্যূনতম ১০ ম্যাচের জন্য বহিষ্কৃত হতে পারেন। প্রয়োজনে আরও কঠোর শাস্তিরও বিধান রয়েছে।

সেই বিতর্কিত মুহূর্ত
শেষ আপডেট: 22 February 2026 16:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চ্যাম্পিয়ন্স লিগে (Champions League) ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে (Vinicius Jr) ঘিরে যে বর্ণবিদ্বেষ বিতর্ক শুরু হয়েছে, তাতে এবার নতুন মোড়। বেনফিকার (Benfica) তরুণ ফুটবলার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি (Gianluca Prestianni) স্বীকারোক্তির সুরে জানিয়েছেন, তিনি রিয়াল মাদ্রিদের কৃষ্ণাঙ্গ উইঙ্গার ‘মোনো’ (স্প্যানিশে ‘বানর’) বলেননি। তবে ঘটনার সময় একটি ‘সমকামীবিদ্বেষী’ শব্দ ব্যবহার করেছিলেন।
বিতর্কের সূত্রপাত লিসবনের এস্তাদিও দা লুজে (Estadio da Luz) রিয়াল মাদ্রিদ (Real Madrid) বনাম বেনফিকা ম্যাচে। দ্বিতীয়ার্ধে গোল করার পর ভিনি জুনিয়র অভিযোগ করেন, তাঁকে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করা হয়েছে। ব্রাজিলীয় তারকা রেফারির কাছে ছুটে যান। সমস্ত বক্তব্য উত্তেজিত ভঙ্গিতে খুলে জানান। যার জেরে খেলা প্রায় ১০ মিনিট বন্ধ থাকে।
কী বললেন প্রেস্তিয়ানি?
ইএসপিএন (ESPN)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০ বছর বয়সী আর্জেন্তিনীয় খেলোয়াড় উয়েফা-র (UEFA) তদন্তে জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তাঁর দাবি, তিনি ‘মোনো’ বলেননি। বরং, স্প্যানিশে একটি সমকামীবিদ্বেষী গালি ব্যবহার করেছিলেন। অর্থাৎ, বর্ণবিদ্বেষ সংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করলেও অপমানজনক মন্তব্যের বিষয়টি এড়িয়ে জাননি প্রেস্তিয়ানি।
প্রসঙ্গত, ম্যাচের দিন উদ্দিষ্ট ঘটনার সময় মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রিয়াল-তারকা কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappe) এতটাই ক্ষুব্ধ ছিলেন, যে তিনি মাঠে নামতে পর্যন্ত অস্বীকার করেন। এমনটাই খবর সূত্রের। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বারবার ম্যাচ অফিসিয়ালদের সঙ্গে কথা চালিয়ে যান মাদ্রিদের আরেক খেলোয়াড় অরেলিয়াঁ চুয়ামেনি (Aurelien Tchouameni) ।
মাদ্রিদের দাবি
স্পেনের ক্লাব ইতিমধ্যে উয়েফা-র কাছে ‘যাবতীয় প্রমাণ’ জমা দিয়েছে। এমবাপে জানিয়েছেন, তিনি নিজে পাঁচবার সেই মন্তব্য শুনেছেন। তাঁর কথায়, ‘আমার কানে এসেছে। বেনফিকার আরও কয়েকজন খেলোয়াড়ও শুনেছে।’কোচ আলভারো আরবেলোয়া (Alvaro Arbeloa) প্রকাশ্যে শাস্তির দাবি করেছেন। তাঁর মতে, এই মামলা ফুটবলে বর্ণবিদ্বেষ ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের বিরুদ্ধে বড় বার্তা হতে পারে।
শাস্তি কতটা কঠোর?
উয়েফা-র শৃঙ্খলাবিধির ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ বলছে, বর্ণ, ত্বকের রং, ধর্ম, লিঙ্গ বা যৌন অভিমুখিতা নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করলে অভিযক্ত ফুটবলার ন্যূনতম ১০ ম্যাচের জন্য বহিষ্কৃত হতে পারেন। প্রয়োজনে আরও কঠোর শাস্তিরও বিধান রয়েছে। অর্থাৎ, ‘বর্ণবিদ্বেষ’ হোক বা ‘সমকামীবিদ্বেষ’—শাস্তির কাঠামো একই।
এই প্রেক্ষিতে এখন তদন্ত শেষ হওয়ার অপেক্ষা। বেনফিকার ফুটবলারটি কী শাস্তি পান, তা শুধু এই ম্যাচ নয়, ইউরোপীয় ফুটবলে ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হয়ে উঠতে পারে।