স্টিল হয়তো হাতে ‘ম্যাচ ডে’ গ্লাভস গলাবেন না, কিন্তু ড্রেসিংরুমে ঐক্য ও মৈত্রী অটুট রাখতে বড় ভূমিকা নিতে চলেছেন। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি টমাস টুখেলের প্ল্যানিংয়ে এই ‘অদৃশ্য হস্তক্ষেপ’ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

জেসন স্টিল
শেষ আপডেট: 22 March 2026 16:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টমাস টুখেলের (Thomas Tuchel) ইংল্যান্ড দল ঘোষণায় চমকের পর চমক! উরুগুয়ে ও জাপানের বিরুদ্ধে মার্চের প্রীতি ম্যাচের জন্য ৩৫ জনের স্কোয়াডে বেশ কিছু অপ্রত্যাশিত নাম উঠে এসেছে। কিন্তু একটা মুখ সবার নজর কেড়েছে। তিনি জেসন স্টিল (Jason Steele)। বয়স পঁয়ত্রিশ। ব্রাইটনের (Brighton & Hove Albion) চিরকালীন ‘নম্বর টু’। প্রিমিয়ার লিগে শেষ নেমেছিলেন ২০২৪ সালের অগস্টে। অথচ এই মুহূর্তে তিনি ইংল্যান্ডের ফিফা বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) দলে জায়গালাভের প্রবল দাবিদার।
খবরটা হজম করতে সময় লাগে বৈকি! যদিও টুখেল নির্বিকার। গলা ঝেরে সাফ সাফ জানিয়েছেন, স্টিলকে এমনি এমনি নেওয়া হয়নি। এর আড়ালে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
চতুর্থ গোলকিপার কেন?
ইংল্যান্ড কোচের বক্তব্য, এবারের বিশ্বকাপে চারজন গোলকিপার নিয়ে যাওয়ার কথা চলছে। প্রথম তিনজন প্রতিযোগিতামূলকভাবে প্রথম একাদশে জায়গার জন্য লড়াই করবেন। কিন্তু চতুর্থজনের ভূমিকা আলাদা। টুখেলের কথায়, ‘চতুর্থ গোলরক্ষক আসলে একজন বিশেষজ্ঞ। সে গোলকিপার গ্রুপকে সাহায্য করবে, কোচকে দিশা বাতলাবে, পেনাল্টি-প্র্যাকটিসে কাজে আসবে—বাকিদের চাপ কমাবে। দরকার সঠিক মানের, অভিজ্ঞ ও সঠিক মনোভাবের মানুষ। জেসন সেই ধাঁচের!’
ব্রাইটন কোচ ফ্যাবিয়ান হুর্জেলারও (Fabian Hurzeler) টুখেলকে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘জেসন নিয়মিত না খেললেও প্রতিদিনের ট্রেনিংয়ে সে অবিশ্বাস্য পরিশ্রম করে। এফএ কাপে যখন খেলার সুযোগ পেয়েছে, ঠিকঠাক কাজ করে দেখিয়েছে!’
হার, ব্যর্থতা, ঘুরে দাঁড়ানো
জেসন স্টিলের কেরিয়ার বেশ জটিল, সরলরেখায় এগোয়নি। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে গ্রেট ব্রিটেনের দলে ছিলেন। ১৮ জনের স্কোয়াডে একমাত্র তিনিই এক মিনিটও মাঠে নামেননি! জ্যাক বাটল্যান্ড পুরো টুর্নামেন্ট খেললেন, স্টিল দেখলেন বেঞ্চে বসে।
এরপর ব্ল্যাকবার্ন রোভার্স ও সান্ডারল্যান্ডের হয়ে পর পর দু’বার রেলিগেশনের যন্ত্রণা। সান্ডারল্যান্ডের সেই সিজন মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা। নেটফ্লিক্সের ডকুমেন্টারি সিরিজ ‘সান্ডারল্যান্ড টিল আই ডাই’-তে দুর্দিনের ছবি ধরা পড়েছে। স্টিল নিজে বলেছেন, ‘সেই সিরিজ কোনওদিন দেখিনি, দেখবও না। তিনটে ছোট বাচ্চা, সংসার—এমন সময় এসেছিল, যে ছেলেমেয়েদের স্কুলে পৌঁছে দিতেও ইচ্ছে করত না!’
অন্ধকার মুছে আলো ফোটে ২০১৮ সালে। ফ্রি ট্রান্সফারে ব্রাইটনে যোগ দেন। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে নতুন পরিচয়।
পায়ের কাজে ‘বিশ্বমানের’
ব্রাইটনে আসার পর স্টিলের সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়ে উঠেছে তাঁর ‘ফুটওয়ার্ক’। ২০২৩ সালে রবার্তো দে জার্বির আমলে প্রথম গোলকিপার রবার্ট সানচেজ বেঞ্চে বসতে অস্বীকার করলে স্টিল সুযোগ পান। শেষ ১৩ লিগ ম্যাচে ছ’খানা জয়, দুটো ড্র, ছয় ক্লিনশিট—ব্রাইটনের ইউরোপে খেলার পেছনে তাঁর অবদান অন্যতম। ক্লাবের প্রাক্তন গোলকিপার কোচ জ্যাক স্টার্নের মন্তব্য, ‘বল পায়ে জেসন বিশ্বের সেরাদের একজন। মাঠে ওকে দেখলে মনেই হয় না গোলকিপার!’
বর্তমানে নেদারল্যান্ডসের প্রথম পছন্দ বার্ট ভেরব্রুগেন (Bart Verbruggen) ব্রাইটনের নম্বর ওয়ান। স্টিল আবার সরে গেছেন দ্বিতীয় সারিতে। কিন্তু ড্রেসিংরুমে তাঁর প্রভাব, দলের সংহতিতে ভূমিকা—এটাই জাতীয় টিমের টুখেলকে আকৃষ্ট করেছে। এমনিতে ইংল্যান্ডের (England squad World Cup 2026) বিশ্বকাপ-অভিযানের ইতিহাসে দলাদলি ও একঘেয়েমিকে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে বারবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো হয়েছে। স্টিল হয়তো হাতে ‘ম্যাচ ডে’ গ্লাভস গলাবেন না, কিন্তু ড্রেসিংরুমে ঐক্য ও মৈত্রী অটুট রাখতে বড় ভূমিকা নিতে চলেছেন। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি টমাস টুখেলের প্ল্যানিংয়ে এই ‘অদৃশ্য হস্তক্ষেপ’ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।